বুধবার,

০৭ ডিসেম্বর ২০২২

|

অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৯

XFilesBd

ব্রেকিং

বিএনপির বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সতর্ক থাকবে নেতাকর্মীরা: কাদের মানুষ বেশি দেখানোর জন্য পল্টনে সমাবেশ করতে চায় বিএনপি: কৃষিমন্ত্রী গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচন: জানুয়ারিতে ভোট; চলতি সপ্তাহেই তফসিল দেশ অস্থিতিশীল করতে চাইলে ভুল করবেন: বিএনপির উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাস্তায় সমাবেশের অনুমতি পাবে না বিএনপি: ডিএমপি কমিশনার

‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গোটা দেশ গিলে খাবে’

 যশোর প্রতিনিধি 

প্রকাশিত: ১৮:৫৫, ২৪ নভেম্বর ২০২২

‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে গোটা দেশ গিলে খাবে’

বিএনপিকে বেঈমানের ও বিশ্বাসঘাতকের দল আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, দলটির ক্ষমতায় এলে খুনি-সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করার পাশাপাশি দেশ গিলে খাবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) যশোরের শামস্-উল হুদা স্টেডিয়ামে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তারা একথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যশোর ও খুলনার মানুষ প্রস্তুত হন, বিএনপির সঙ্গে ডিসেম্বরে খেলা হবে। খেলা হবে তাদের দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল এখন বড় বড় কথা বলছেন। গণতন্ত্র হত্যাকারী। উনাদের মুখে গণতন্ত্রের বুলি শোভা যায় না। তিনি কোন মুখে গণতন্ত্রের কথা বলেন? বিএনপি কোন মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে? আইনের শাসনের কথা বলে? বিএনপি কোন মুখে নির্যাতনের কথা বলে?

বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি বেঈমানের দল, বিশ্বাসঘাতকের দল।


তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরে বড় বড় লোকেরা বাড়ির সামনে কুকুর রাখেন। লেখা থাকে সেই কুকুর থেকে সাবধান। আমরা বলি বিএনপি থেকে সাবধান। তারা যখন ক্ষমতায় যখন ছিল তখন বিদ্যুৎ, রিজার্ভ, গণতন্ত্র গিলেছে। ভোট চুরি করেছে। হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। বিএনপি বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে ধুলায় লুণ্ঠিত করেছে। স্বাধীনতার আদর্শকে তারা ধুলায় পদদলিত করেছে। তারা যদি আরেকবার ক্ষমতায় আসতে পারে, গোটা দেশ গিলে খাবে।

জনসভায় বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, আজকের এই বিশাল জনসভা প্রমাণ করে বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনার উন্নয়নের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। আপনারা এসে এই জনসভাকে সাফল্যমণ্ডিত করেছেন। এখনও লাখ লাখ মানুষ এই মাঠের বাইরে অপেক্ষা করছেন। তারা আজ শেখ হাসিনাকে দেখতে চান। ২৭ মাস পরে আজ জননেত্রীর জনসভা হচ্ছে।

পুনরায় আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হেলাল বলেন, বাংলার মানুষ, বিশেষ করে বৃহত্তর যশোরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আপনারা নেত্রীর সঙ্গে ছিলেন দুর্দিনে। আগামী নির্বাচনেও আপনারা নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে আবারও জয়ী করবেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে সরকার গঠন করেছিল। তারা জঙ্গিদের নিয়ে দেশটাতে সন্ত্রাস-সহিংসতা করে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল। অর্থনীতি ভেঙে পড়েছিল। আমরা সেগুলো মোকাবিলা করে দেশকে আজ এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। ইনশা আল্লাহ উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেব বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না। বাড়াবাড়ি করে দেশের উন্নয়ন অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করবেন না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। ব্যস্ত রয়েছি দেশ গড়তে, দেশের উন্নয়নে। আর ওনারা সব কিছু হারিয়ে এখন দল রক্ষার জন্য শেষ চেষ্টা করছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করছে, হুঙ্কার দিচ্ছে। ১০ ডিসেম্বরের পর এতিমের টাকা মেরে খাওয়া খালেদা জিয়ার কথায় নাকি দেশ চলবে! এর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ যখন মাঠে নেমেছে, তখন তারা ব্যাকফুটে চলে গেছে।

আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বাংলাদেশকে আর খুনি-সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য বানাতে দেওয়া হবে না। যশোর-খুলনাসহ সারা দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। তারা আগামীতেও আওয়ামী লীগকে আবার নৌকায় ভোট দেবে। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনবে।

যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারর। জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন- সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য পীযুষ ভট্টাচার্য, আবদুর রহমান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় সদস্য আমিরুল আলম মিলন, ইকবাল হোসেন অপু, পারভিন জামান কল্পনা, গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণা, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু, সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়, শেখ আফিল উদ্দিন, কাজী নাবিল আহমেদ, নাসির উদ্দিন, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য প্রমুখ।