বৃহস্পতিবার,

০৪ জুন ২০২৬

|

জ্যৈষ্ঠ ২০ ১৪৩৩

XFilesBd

মোহাম্মদ আলীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করলো ইবির ছাত্ররা

মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মোহাম্মদ আলীর প্যানেল জিতলো সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে

নিজস্ব সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৪:০৫, ১৭ মে ২০২৬

মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মোহাম্মদ আলীর প্যানেল জিতলো সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৪ পদের মধ্যে ১৩টিতেই জয়লাভ করেছে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল। এটি নীল প্যানেল হিসেবে পরিচিত। অবশিষ্ট একটি কার্যনির্বাহী সদস্য পদে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ‘লয়ার্স ইউনিটি প্যানেল’ অর্থাৎ সবুজ প্যানেলের আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, নীল প্যানেলের এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন দুই হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি সবুজ প্যানেলের আব্দুল বাতেনকে পরাজিত করেছেন। বাতেন ৭৮৮ ভোট পেয়েছেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন দ্বিতীয়বারের মতো সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হলেন। নীল প্যানেলের মোহাম্মদ আলী দুই হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার পেয়েছেন ৭৮৬ ভোট। এদিকে ফল ঘোষণার সাথে সাথে আনন্দে ফেটে পড়ে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকেরা। তারা কোর্ট প্রাঙ্গনে মিছিল করে তা শেষ করেন এনেক্স ভবনের সামনে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধভরে স্মরণ করে শ্লোগান দেন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদেলের প্রাক্তন সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও তাঁর অনুগতরা। উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলীর ক্যাম্পাসের শ’তিনেক ছাত্রছাত্রী। উল্লেখ্য, বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ আলী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের মাটিকাঁপানো নেতা ও দলটির প্রাক্তন সভাপতি। এ সময় তাঁকে একের পর এক ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইয়ের সভাপতি মিজানুর রহমান ও কমিটির অন্য নেতারা। উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী, সন্তানসহ প্রিয়জনেরা। 

গত ১৩ ও ১৪ মে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, মাঝে এক ঘণ্টার বিরতি ছিল। ভোটগ্রহণ শেষে রাত ১০টার দিকে ভোট গণনা শুরু হয়। গণনা শেষে শুক্রবার রাত ২টার দিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী।

সমিতির ১৪ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটির জন্য প্রতি বছর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই কমিটিতে একজন সভাপতি, দুইজন সহ-সভাপতি, একজন সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ, দুইজন সহ-সম্পাদক এবং সাতজন কার্যনির্বাহী সদস্য থাকেন। নীল প্যানেল থেকে মো. মাগফুর রহমান শেখ এবং মো. শাহজাহান সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন, আর কোষাধ্যক্ষ পদে জয়ী হয়েছেন মো. জিয়াউর রহমান। সহ-সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো. মাকসুদ উল্লাহ এবং মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল। সাতটি কার্যনির্বাহী সদস্য পদের মধ্যে ছয়টিতে নীল প্যানেলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন—এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, এ কে এম আজাদ হোসেন, ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী, মো. কবির হোসেন, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া এবং মো. টিপু সুলতান। বাকি একটি পদ পেয়েছেন জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেলের আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে মোট ৪০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ১১ হাজার ৯৭ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে চার  হাজার ৪৮ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। যদিও সমিতির নির্বাচনটি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দলীয় হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে ঐতিহ্যগতভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর অনুসারী আইনজীবীদের মাধ্যমে প্যানেল গঠিত হয়। বিগত বছরগুলোতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো বিএনপি সমর্থিত ‘নীল প্যানেল’ এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘সাদা প্যানেল’-এর মধ্যে।

তবে গত ২৬ এপ্রিল সমিতির এক বিশেষ সাধারণ সভায় সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন যে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্বাচনে দলটির সমর্থিত আইনজীবীদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। সমিতির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা (সাদা প্যানেল) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল, জামায়াত সমর্থিত লয়ার্স ইউনিটি প্যানেল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি সমর্থিত জাতীয় আইনজীবী জোট বা লাল-সবুজ প্যানেলের প্রার্থীরা অংশ নেন। নীল ও সবুজ প্যানেল ১৪টি পদের সবকটিতে প্রার্থী দিলেও লাল-সবুজ প্যানেল ছয়টি পদে প্রার্থী দিয়েছিল। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।