মঙ্গলবার,

২১ জুলাই ২০২৬

|

শ্রাবণ ৫ ১৪৩৩

XFilesBd

নেপথ্যে আছে কলেজের তিন শিক্ষক

সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ সাবেক অধ্যক্ষের: আইনি ব্যবস্থার দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২১:৫১, ২১ মে ২০২৬

সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ সাবেক অধ্যক্ষের: আইনি ব্যবস্থার দাবি

অনলাইন সংবাদ মাধ্যম 'ডেইলি ক্যাম্পাস' পত্রিকার সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে মানহানি করার অভিযোগ তুলেছেন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো: আমিনুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। অভিযুক্ত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন ১৪তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের এই প্রবীণ অধ্যাপক।

ব্যক্তিগত সুবিধা না পেয়ে হেনস্তার অভিযোগ লিখিত আবেদনে অধ্যাপক মো: আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময় থেকেই সাংবাদিক শিহাব উদ্দিন ব্যক্তিগত ও অনৈতিক সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বানোয়াট তথ্য ছড়াতে থাকেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ২৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুষ্ঠিত একটি গণশুনানিতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশেরও তিনি যথাযথ প্রমাণসহ জবাব দিয়েছেন।

"আইনি প্রক্রিয়ায় নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও ওই সাংবাদিক অনৈতিক ও অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দাবি করে আসছেন। তাতে নতিস্বীকার না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সামাজিক ও পেশাগতভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে তিনি একের পর এক বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করে চলেছেন।" — অধ্যাপক মো: আমিনুল ইসলাম

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বদলি প্রসঙ্গ: আবেদনপত্রে ওই শিক্ষক আরও উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বৈষম্যের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। সম্প্রতি একটি বিশেষ মহল কর্তৃক কৃত্রিম বিশৃঙ্খলা বা ‘মব’ সৃষ্টি করে তাকে পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে বদলি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক কারণে সিরাজগঞ্জের কাছাকাছি থাকার উদ্দেশ্যে আবেদন করলে তাকে টাঙ্গাইলের সরকারি ইব্রাহিম খাঁ কলেজে পদায়ন করা হয়। অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের দাবি, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়েও উক্ত সাংবাদিক তাকে পুনরায় হেনস্তা ও সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে উঠেপড়ে লেগেছেন।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা: একজন প্রবীণ শিক্ষাবিদ হিসেবে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সম্মান ও নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। একই সাথে, এই বিষয়ে একটি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এই অধ্যাপক। এদিকে কলেজের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুরো বিষয়টিই শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ লাগালাগি। একজন প্রিন্সিপালকে সরকার নিয়োগ দিয়েছে অথচ আরও তিন শিক্ষক মিলে সেটার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে জড়িত রয়েছে এবং এদের উদ্যোগে এসব কাহিনী ঘটছে যা কলেজের জন্য চরম অবমাননাকর। তিন শিক্ষক হলেন- ‘ম’ আদ্যক্ষর যুক্ত ইসলামিক স্টাডিজ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক, আরেকজন ‘ন’ আদ্যাক্ষরযুক্ত উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। এদের একজন আবার খুনের আসামী। এরাই হিংসার বশবর্তী হয়ে কিছু সাংবাদিককে লেলিয়ে দিয়ে কলেজের সুনাম ক্ষুন্ন করছে আবার প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে নিউজ করাচ্ছে। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রিন্সিপালকে নিয়োগ দিয়েছেন। তার মানে এই তিনজন সরকারকে চ্যালেঞ্জ করেছে। কারণ এই তিনজনের দুজন আবার পলাতক শেখ হাসিনা সরকারের লোক। তারা নৌকার পক্ষে নির্বাচন করে হত্যা মামলার আসামীও হয়েছেন।