ডাক্তার কিংবা হাসপাতাল—এই দুটি শব্দ উচ্চারণ করলেই শিশুদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ইনজেকশন, তেঁতো ওষুধ আর চার দেয়ালে বন্দি জীবনের এক ভীতিপ্রদ পরিবেশ। কিন্তু সেই পুরোনো ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতাল। নতুন রূপ ও নতুন ব্যবস্থাপনায় চালুর পর হাসপাতালটিতে আনা হয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন, যেখানে শিশু ওয়ার্ডের পরতে পরতে এখন শোভা পাচ্ছে রূপকথার মতো ‘শিশু স্বর্গের’ ছোঁয়া। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, কেবল রোগ নিরাময় নয়, শিশুদের চিকিৎসাকালীন মানসিক প্রশান্তি দেওয়াটাই তাদের মূল লক্ষ্য। দেয়ালবন্দি হাসপাতালের আতঙ্ক দূর করে আনন্দময় পরিবেশে অসুস্থ সোনামণিদের সুস্থ করাই এখন আদ-দ্বীনের নতুন চ্যালেঞ্জ।

সরেজমিনে দেখা যায়, নতুনভাবে সাজানো আদ-দ্বীন হাসপাতালের শিশু কর্নারে যোগ করা হয়েছে বাড়তি বেড ও আধুনিক এক্সিকিউটিভ কেবিন। তবে সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয় হলো এর সৌন্দর্যবর্ধন। প্রতিটি শিশু বেড ও কেবিনের পাশে আঁকা হয়েছে মনোমুগ্ধকর ছবি ও শিশুদের প্রিয় সব কার্টুন চরিত্র। এসব চিত্রকর্মের মূল উদ্দেশ্য—চিকিৎসাধীন সোনামণিরা যেন ইনজেকশন বা নার্সদের ভীতি ভুলে গিয়ে আনন্দের মধ্য দিয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারে। হাসপাতালজুড়ে এমন শিশুবান্ধব ও অনুপম পরিবেশ দেখে মুগ্ধ দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও দর্শনার্থীরা।

হাসপাতালের সার্বিক পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আদ-দ্বীন হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, "আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ৬ মাসের মধ্যে ঘুরে দাঁড়াব। কিন্তু আমাদের পুরো টিমের সমন্বিত প্রচেষ্টায় মাত্র ১ মাসের মধ্যেই আমরা পুনর্গঠনের কাজ গুছিয়ে আনতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্য আগামী ১ বছরের মধ্যে দেশবাসীকে একটি বিশ্বমানের হাসপাতাল উপহার দেওয়া, যেখানে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের সমমানের চিকিৎসা সেবা মিলবে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে।"

তিনি আরও জানান, বিশেষ করে মাতৃত্বকালীন চিকিৎসা এবং শিশুদের সেবার ক্ষেত্রে নামমাত্র খরচে দেশের সেরা সেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর আদ-দ্বীন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি বড় অংশ। আদ-দ্বীন হাসপাতালের এই রঙিন ‘শিশু স্বর্গ’ উদ্যোগটি কেবল রোগীদের সেবার মানই বাড়ায়নি, বরং বাংলাদেশে একটি বিশ্বমানের মানবিক হাসপাতালের অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
