শিল্পাঞ্চলখ্যাত সাভার উপজেলার ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা এখন অনেকটাই সহজ ও গতিশীল। আগের মতো জটিলতা আর দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর না থাকায় বর্তমানে দ্রুততম সময়ে সেবা পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেবা নিতে আসা ইউনিয়নবাসীরা জানান, ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিক সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ পরিষদ থেকে প্রদত্ত সব ধরনের সেবা অল্প সময়ের মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। কোনো প্রকার বাড়তি ভোগান্তি ছাড়াই সেবা পেয়ে স্বস্তি ফিরছে নাগরিকদের মাঝে।

নরসিংহপুর এলাকার বাসিন্দা খায়রুল কবির জানান, বিগত সরকারের সময়ে সেবাগ্রহীতাদের বহু ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। গত ৫ আগস্টের আগে প্রায়শই প্রশাসনিক কাজের চেয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইউপি প্রাঙ্গণ ব্যবহৃত হতো। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হতো। তবে বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন অল্প সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ আফজাল হোসেন বলেন,
"জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রয়োজনীয় সঠিক কাগজপত্র জমা দিলে জন্ম নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো অনলাইন আবেদন করার পর সর্বোচ্চ তিন কর্মদিবসের মধ্যেই প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিক সনদ ও মৃত্যু সনদসহ সব ধরনের সেবা দ্রুত নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।" ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা আশফাক চৌধুরী (ট্রেড লাইসেন্স প্রত্যাশী) এবং ৬০ বছর বয়সী জ্যেষ্ঠ নাগরিক মোঃ সোলাইমান (নাগরিক সনদ প্রত্যাশী) জানান, পরিষদের প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা এখন অনেক বেশি দায়িত্বশীল ও আন্তরিক।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত অনেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আত্মগোপনে চলে যান। ফলে সারা দেশের মতো সাভারের বিভিন্ন ইউনিয়নেও প্রশাসনিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও নাগরিক সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আইন অনুযায়ী প্যানেল চেয়ারম্যান অথবা উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং ইউপি সচিবদের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পুরোদমে সচল রাখা হয়েছে।
