সোমবার,

১৭ আগস্ট ২০২৬

|

ভাদ্র ১ ১৪৩৩

XFilesBd

আকাশ হয়ে কেউ কি দাঁড়াবেন মাথার ওপর

শিক্ষক ছেলের দুটি কিডনিই বিকল: সন্তানের চিকিৎসায় নিঃস্ব মায়ের করুণ আর্তি: পাশে দাঁড়ানোর কেউ কি আছেন !

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:১৪, ১৭ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ০২:১৮, ১৭ আগস্ট ২০২৬

শিক্ষক ছেলের দুটি কিডনিই বিকল: সন্তানের চিকিৎসায় নিঃস্ব মায়ের করুণ আর্তি: পাশে দাঁড়ানোর কেউ কি আছেন !

মাত্র চার বছর বয়সে মায়ের আঁচল ধরে বাবার ভিটে ছেড়েছিলেন তিনি। তখন অভাবের নির্মমতা বোঝার বয়স ছিল না। তবে বুঝতে পেরেছিলেন, বেঁচে থাকার নামই এক দীর্ঘ ও ক্লান্তিহীন লড়াই। শৈশবের সেই লড়াই পেরিয়ে যিনি নিজের মেধা ও পরিশ্রমে শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন, সেই মানুষটি আজ জীবনের সবচেয়ে করুণ ও নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি। তিনি মো. আলী আনোয়ার—ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রাক্তন মেধাবী ছাত্র এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের জনপ্রিয় শিক্ষক। যে মানুষটি সারাজীবন নিজের ঘাম ঝরিয়ে সব প্রতিকূলতা জয় করেছেন, আজ তিনি মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আকুল আকুতি জানাচ্ছেন একটুখানি বাঁচার জন্য।

অভাবের শৈশব ও সংগ্রামের জয়গীতি: আনোয়ারের শৈশব কেটেছে চরম দারিদ্র্যে। অন্যের বাড়িতে দিনরাত কাজ করে মা তাকে বড় করেছেন, পেটে ভাত না দিয়েও স্কুলের বেতন আর বই-খাতা কিনে দিয়েছেন। মায়ের সেই ঋণ আর ত্যাগের কথা আনোয়ার কখনো ভোলেননি। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে তিনি কৃষিক্ষেতে দিনমজুরের কাজ করেছেন, রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে মাটির সঙ্গে লড়াই করেছেন। আর রাতে টিউশনি করে জুগিয়েছেন নিজের পড়ার খরচ। অনাহার আর কঠোর অধ্যবসায়ের সিঁড়ি বেয়ে একদিন তিনি নিজেকে নিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ আঙিনায়, আর পরবর্তীতে স্থান করে নেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকতার আসনে। সারাজীবন অন্যকে আলো দেখানোকেই তিনি জীবনের একমাত্র সার্থকতা মনে করেছিলেন।

সন্তানের অসুস্থতায় নিঃস্বতা ও নিজের ভাঙন: বিধাতার পরীক্ষা যেন শেষ হতে চায় না। দীর্ঘদিন ধরে নিজের একমাত্র সন্তানের জটিল অসুস্থতার পেছনে ব্যয় করেছেন জমানো সব সম্বল ও স্বস্তি। শিক্ষকতার সীমিত আয় আর সঞ্চয়ের সবটুকু দিয়ে সন্তানের চিকিৎসা চালাতে চালাতে একসময় সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েন এই শিক্ষক। সন্তানের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে যখন তিনি দিশেহারা, ঠিক তখনই নেমে আসে আরেক অভিশাপ। এবার ভেঙে পড়ে তাঁর নিজের শরীর। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়ে দিয়েছেন, আনোয়ারের দুটি কিডনিই এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর (কডনি ফেইলিয়র)। বেঁচে থাকতে হলে তাঁকে সপ্তাহে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব করতে হবে কিডনি প্রতিস্থাপন—যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল এক প্রক্রিয়া।

একটি আলোর কণার জন্য আকুতি: যে মানুষটি চার বছর বয়সে পিতৃহীন হয়ে জীবনসংগ্রাম শুরু করেছিলেন, যিনি খেতমজুর থেকে শিক্ষক হয়ে উঠেছিলেন নিজের অদম্য জেদে—সেই পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আজ চিকিৎসার খরচের বিশাল দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে অসহায়। সন্তানের চিকিৎসায় সব হারিয়ে এখন নিজের ডায়ালাইসিস ও কিডনি প্রতিস্থাপনের বিপুল খরচ চালানো তাঁর পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সারাজীবন স্বাবলম্বী হয়ে লড়াই করা এই শিক্ষক আজ সমাজের কাছে হাত বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর চোখের আলো এখনো নেভেনি, তবে সময় ফুরিয়ে আসছে দ্রুত। এই নিরলস সংগ্রামী মানুষটিকে বাঁচাতে এবং তাঁর অন্ধকার ঘরে একটুখানি আলোর প্রতিফলন ঘটাতে আজ প্রয়োজন আমাদের সবার সহৃদয় হাত।

সহযোগিতার মানবিক আবেদন

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষক এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী প্রাক্তন ছাত্র মো. আলী আনোয়ারের জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও করুণাশীল হৃদয়বান মানুষের কাছে বিনীত সাহায্য প্রার্থনা করা হচ্ছে। আপনার সামান্য একটু সহযোগিতাই পারে একজন শিক্ষককে তাঁর পরিবারের মাঝে ফিরিয়ে দিতে।

সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম:

  • ব্যাংক হিসাব নম্বর: ০০১২১০০০৩৬৮৫০

  • ব্যাংকের নাম ও শাখা: সাউথইস্ট ব্যাংক, ধানমন্ডি শাখা, ঢাকা

  • হিসাবধারীর নাম: উম্মে কুলসুম কান্তা (স্ত্রী)

  • বিকাশ নম্বর (ব্যক্তিগত): ০১৭১৫৮৬৫১৬১

(আসুন, আমরা আমাদের সাধ্যমতো সাহায্য নিয়ে এই হতভাগ্য শিক্ষকের পাশে দাঁড়ায় এবং তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসি।)