শুক্রবার,

০৭ আগস্ট ২০২৬

|

শ্রাবণ ২২ ১৪৩৩

XFilesBd

নেপথ্যে কি পৌরসভার নির্বাচন

নির্বাচনী আক্রোশ না কি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা: খোকসায় বিএনপি নেতা রাজুর ওপর নারকীয় হামলা

শোভন বিশ্বাস, কুষ্টিয়া থেকে

প্রকাশিত: ০১:০০, ৭ আগস্ট ২০২৬

নির্বাচনী আক্রোশ না কি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা: খোকসায় বিএনপি নেতা রাজুর ওপর নারকীয় হামলা

কুষ্টিয়ার খোকসায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও অজ্ঞাত আততায়ীদের ভয়াবহ রূপ প্রত্যক্ষ করল স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে খোকসা থানাপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনেই চরম নৃশংসতার শিকার হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাফিজ আহম্মেদ রাজু। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখতেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে রাজু নিজেই গুরুতর আহত অবস্থায় অভিযোগ তুলেছেন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, মৃত আনোয়ার আহম্মেদ তাঁতারি খানের ছেলে নাফিজ আহম্মেদ রাজু রাতে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ির সামনে পৌছে গেটে নামেন। ঠিক তখনই পূর্বে ওত পেতে থাকা ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার পরিচয় জানতে চায়। তিনি নিজের পরিচয় দেওয়ার পরপরই সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো শুরু করে এবং হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাকে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। রাজুর আর্তচিৎকারে বাড়ির ভেতর থেকে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে রক্ষায় এগিয়ে এলে পুরো এলাকা কাঁপিয়ে শর্টগান দিয়ে তাণ্ডব চালায় হামলাকারীরা। ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টি করতে সন্ত্রাসীরা অন্তত ১৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ঘটনাস্থল থেকে রাজুকে উদ্ধার করে প্রথমে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় রাতেই তাকে স্থানান্তর করা হয় কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, রাজুর ডান পায়ে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। এছাড়া ডান হাতের বাহুর দুটি হাড় এবং বাম হাতের তিনটি আঙুল ভেঙে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আঘাতের মাত্রা জটিল হওয়ায় তাকে দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো আবশ্যক হয়ে পড়ে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও খোকসা উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইসরাত জাহান পুরম জানান, রাজুর চিৎকার শুনে বাইরে বের হয়েই তারা গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের তাণ্ডব দেখতে পান। প্রাণ বাঁচাতে রাজু কোনোমতে বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নিলে সন্ত্রাসীরা গেট লক্ষ্য করে বেপরোয়া গুলি ছোড়ে। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে অভিযোগ করেন, ঘটনা ঘটার বেশ কিছুক্ষণ পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

আহত বিএনপি নেতা নাফিজ আহম্মেদ রাজুর দাবি, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই একদল সুবিধাভোগী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে আসছিল। তিনি তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকেই স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলেই সন্ত্রাসীরা এতটা দুঃসাহস দেখানোর সুযোগ পেয়েছে। এই হামলার ঘটনা খোকসার স্থানীয় রাজনীতিতে চরম আতঙ্ক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছে।