সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিস। এটি কেবল কোনো সাধারণ প্রশাসনিক কার্যালয় নয়, বরং ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় কোটি কোটি টাকার সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তার এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রস্থল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আমিনবাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বভার গ্রহণ এবং ভূমিসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়াগুলোতে স্বচ্ছতা আনার পর থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী মহলের কুনজরে পড়েছে এই অফিসটি। বিশেষ করে, ভুয়া দলিলাদি ও অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া আমিনবাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা ষড়যন্ত্র। তবে সকল চাপ, বেনামী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রপাগান্ডা এবং ভিত্তিহীন রাজনৈতিক তকমা লেপনের চেষ্টা সত্ত্বেও ভূমিদস্যু ও সুবিধাভোগী সিন্ডিকেটের সাথে কোনো প্রকার আপোষ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এই কর্মকর্তা। গণমাধ্যমে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান নিজেকে জনগণের প্রকৃত সেবক হিসেবে দাবি করেন। একই সাথে তিনি সর্বসাধারণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কোনো প্রকার চক্রান্তমূলক অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।

সিন্ডিকেটের অশুভ চক্র ও অপপ্রচারের নেপথ্য কারণ:
আমিনবাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী অসাধু চক্র এবং ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। সরকারি খাস জমি দখল, ভুয়া নামজারি, জাল দলিলে জমি রেজিস্ট্রি এবং সাধারণ মানুষের সম্পত্তি কুক্ষিগত করাই যাদের মূল পেশা। অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. মনিরুজ্জামান উক্ত অফিসে যোগদানের পর থেকেই ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা নিয়মতান্ত্রিক ও আইনসম্মত উপায়ে প্রদান করা শুরু করেন। ঘুষ, অনিয়ম এবং কোনো অবৈধ চক্রের সুপারিশ তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে অনৈতিক সুবিধা না দেওয়ায় এই ভূমিসংক্রান্ত সিন্ডিকেটটি চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়। আর এর পরিণতি হিসেবে শুরু হয় এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চরিত্রহনন ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পরিকল্পিত নীলনকশা। সরাসরি কোনো আইনি উপায়ে তাকে দমানো সম্ভব না হওয়ায়, সম্প্রতি বিভিন্ন নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। একই সাথে বিগত সরকারের শাসনকালের প্রসঙ্গ টেনে তাকে তথাকথিত 'পতিত সরকারের দোসর' বানিয়ে রাজনৈতিক তকমা দেওয়ার নানামুখী চেষ্টা চালানো হচ্ছে। উদ্দেশ্যে অত্যন্ত পরিষ্কার—একজন সৎ কর্মকর্তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং প্রশাসনিকভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে নিজেদের অসাধু এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা।
প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তার পেশাগত সীমানা ও আইনি ব্যাখ্যা:
রাজনৈতিক পরিচয় চাপিয়ে দেওয়ার এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ ও সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্টারিংয়ের কঠোর জবাব দিয়েছেন ভূমি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান। তিনি প্রজাতন্ত্রের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আইনি কাঠামো এবং তাদের মূল দায়িত্ববোধের কথা স্পষ্ট ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেন। গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, "আমি এখানে যোগদানের পর থেকেই কিছু ভূমিদস্যু ও সিন্ডিকেটের সাথে হাত মিলিয়ে কাজ না করার ফলে আমার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও বিভিন্ন নিবন্ধনবিহীন অনলাইনে অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে পতিত সরকারের দোসর বানানোর চেষ্টা চলছে। আমি আপনাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই—আমরা যারা সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী রয়েছি, প্রত্যেকেই প্রজাতন্ত্রের অধীনস্থ। যখন যে দল সরকার গঠন করে দেশ শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করে, আমাদের প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে তাদের সাথে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এটা সম্পূর্ণ সরকারি বিধিবিধান, এই বিধিবিধান অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই।"
তিনি আরও যোগ করেন, একজন পেশাদার সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে রাষ্ট্র বা সংবিধান থেকে তার উপর অর্পিত যে দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে, তিনি কেবল সেটাই নিষ্ঠার সাথে পালন করে আসছেন। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আনুগত্য প্রকাশ করা বা দলীয় স্বার্থে কাজ করা তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না এবং তিনি কখনোই তা করেননি।
ছবি বিকৃতি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার ব্যবচ্ছেদ:
সাম্প্রতিক সময়ে মো. মনিরুজ্জামানকে জড়িয়ে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে তার তথাকথিত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা দাবি করে কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টার বা সংবাদের আকারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব প্রচারণাকে এক বাক্যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং চরম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই ধরনের সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তার দৈনন্দিন প্রশাসনিক জীবনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী হিসেবে আমাকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের খাতিরে প্রতিদিন বিভিন্ন সময়ে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষের মুখোমুখি হতে হয়। সরকারি দাপ্তরিক কাজ কিংবা জনসাধারণের সেবা প্রদানকালে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বা সাধারণ প্রক্রিয়ায় কেউ ছবি তুলে থাকলে বা কোনো ছবিতে আমার উপস্থিতি দেখা গেলে, তা কোনোভাবেই আমার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে না।"
অনুসন্ধানেও এটি স্পষ্ট যে, সরকারি দপ্তরে প্রতিদিন শত শত সাধারণ নাগরিক, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ সেবার উদ্দেশ্যে আসেন। তাদের সাথে কর্মকর্তাদের কোনো আলোকচিত্রকে ভিত্তি ধরে যদি কোনো রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া হয়, তবে তা কেবল হাস্যকরই নয়, বরং একজন কর্মচারীকে মানসিকভাবে হেনস্তা করার শামিল। মনিরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, কিছু অসাধু ও স্বার্থান্বেষী মহল তার দীর্ঘদিনের অর্জিত সততা ও পেশাগত ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারা পুরোনো ছবি অথবা প্রযুক্তি ব্যবহার করে এডিটেড (বিকৃত) ছবি বানিয়ে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি ছড়াতে এগুলো ব্যবহার করছে।
রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি হুশিয়ারি:
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী রাজনৈতিক দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও নিরপেক্ষ থাকেন। এই মূলনীতি পুনর্ব্যক্ত করে মনিরুজ্জামান অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, "আমি কোনো রাজনৈতিক দলের 'দোসর' নই এবং কোনো প্রকার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে আমার নূন্যতম কোনো সম্পর্কও কখনো ছিল না, এখনও নেই। আমি সর্বদা আইনি কাঠামো ও সরকারি বিধিমোতাবেক দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট।"
একই সাথে, যারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ভূঁইফোড় মিডিয়া ব্যবহার করে নিয়মিত তার বিরুদ্ধে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করছে, তাদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন যে, এই ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি অধিকার তার পূর্ণাঙ্গভাবে রয়েছে। প্রয়োজনে তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় বা প্রচলিত আইনে উক্ত অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান ও অবিচল থাকার অঙ্গীকার:
আমিনবাজার ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হ্রাস, দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং সঠিক ভূ-সম্পত্তির আইনি অধিকার রক্ষায় তিনি যেভাবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন, সেই গতি অব্যাহত থাকবে বলে মনিরুজ্জামান পুনর্ব্যক্ত করেন। কুচক্রী মহলের কোনো অপপ্রচার বা মানসিক চাপ তাকে তার পেশাগত নীতি ও দায়িত্ব থেকে একচুলও নড়াতে পারবে না। সাক্ষাৎকারের শেষভাগে তিনি স্থানীয় প্রশাসন, সমাজের সচেতন নাগরিক এবং বিশেষ করে বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানান। তিনি অনুরোধ করেন যে, স্বার্থান্বেষী মহলের সাজানো, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর কোনো গুজাবে যেন কেউ কান না দেন। তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে নানামুখী অপপ্রচার চালিয়ে আমার ওপর অর্পিত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও শুভ কর্তব্য থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত করা যাবে না। আমি জনগণের সেবক হিসেবে শতভাগ সততা ও স্বচ্ছতার সাথে আমৃত্যু সেবা দিয়ে যেতে প্রস্তুত।"
আমিনবাজারের সাধারণ ভূমি মালিক ও ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের এভাবে বিভ্রান্তিকর রাজনীতির মুখোমুখি করা হলে এবং ভূঁইফোড় মাধ্যমের অপপ্রচারের মাধ্যমে মানসিক চাপে রাখলে সৎ কর্মকর্তারা কাজ করার স্পৃহা হারিয়ে ফেলেন। সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উচিত—এই চক্রান্তকারী ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করা এবং একনিষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দেওয়া, যাতে দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত ধারায় পরিচালিত হতে পারে।
