শনিবার,

২৫ জুলাই ২০২৬

|

শ্রাবণ ৯ ১৪৩৩

XFilesBd

নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার অভাবিত ও অনন্যপূর্ব ধারাবাহিক পাঠ(প্রথম পর্ব)

তারিফ হোসেন

প্রকাশিত: ০২:২১, ২৫ জুলাই ২০২৬

নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার অভাবিত ও অনন্যপূর্ব ধারাবাহিক পাঠ(প্রথম পর্ব)

নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার অভাবিত ও অনন্যপূর্ব ধারাবাহিক পাঠ(প্রথম পর্ব)

 - তারিফ হোসেন

নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা শুধু বিদ্রোহের  নয়; এটি ধ্বনি, রস, চেতনা ও মহাজাগতিক প্রতীকের এক বিস্ময়কর অভিযাত্রা।এই ধারাবাহিক পাঠে কবিতার নির্বাচিত অংশকে নিম্নোক্ত পাঁচটি আন্তঃসম্পর্কিত স্তরে পাঠ করা হবে
ধ্বনি → অলংকার → রস → চক্র → প্রতীক।
উচ্চারণের অভিঘাত কীভাবে অলংকারে, অলংকার কীভাবে রসে, আর রস কীভাবে চক্র ও পৌরাণিক প্রতীকের মধ্য দিয়ে এক মহাজাগতিক চেতনায় উত্তীর্ণ হয় এই অনুসন্ধানই আমাদের ব্যতিক্রমী পাঠের মূল সুর।এখানে শব্দ শুধু অর্থের বাহক নয়; তা নিজেই হয়ে ওঠে শক্তি, স্পন্দন ও চেতনার যাত্রাপথ।


বল বীর
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি,নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!

"বল বীর" কাপুরুষ থেকে পুরুষ হয়ে ওঠার মন্ত্র।মাত্র দুটি শব্দ, অথচ এর মধ্যে নিহিত আছে একটি সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক আহ্বান। এখানে "বলো" কেবল কাউকে কথা বলতে বলা নয়; এটি একই সঙ্গে শক্তির আহ্বান এবং উচ্চারণের আহ্বান। কারণ ভেতরে বল না থাকলে বাইরে কোনো শব্দই প্রকাশিত হয় না। উচ্চারণের পূর্বে শক্তির সঞ্চয়, আর শক্তির প্রকাশে উচ্চারণ এই দুই প্রক্রিয়া "বল" শব্দটির মধ্যে যেন একত্রিত।

এই অর্থে নজরুলের "বল বীর" একটি গভীর অন্তর্মুখী আহ্বান হিসেবেও পাঠ করা যায়। কবি যেন নিজের অন্তর্গত ঘুমন্ত "আমি"-সত্তাকে জাগিয়ে বলছেন বলো, হে বীর; উচ্চারণ করো, হে অন্তর্যামী পুরুষ; তোমার পবিত্র, শক্তিমান সত্তাকে প্রকাশ করো। এখানে "বীর" কেবল বাহ্যিক যুদ্ধের যোদ্ধা নয়; সে অন্তর্গত পুরুষ, আত্মশক্তি, পরম সত্তার প্রতীক। ফলে "বল বীর" হয়ে ওঠে কাপুরুষ থেকে পুরুষ হয়ে ওঠার এক আধ্যাত্মিক মন্ত্র—বলো বীর; বীর  বলো।
এই আহ্বানে প্রথমে "বল" আসে, তারপর "বীর"। যেন শক্তিকে প্রথমে জাগাতে হবে, তারপর সেই শক্তিকে ভাষায় প্রকাশ করতে হবে। আবার "বীর" শব্দটি "বল"-এর শক্তিকে একটি চেতনাময় রূপ দেয়। ফলে বল → বীর → বল—এই ধ্বনি-চক্রে শক্তি, চেতনা ও উচ্চারণ পরস্পরকে সম্পূর্ণ করে।এই প্রাথমিক আহ্বানের পরেই কবিতার "আমি" ঘোষণা করে

"বল উন্নত মম শির!"

অর্থাৎ অন্তরের শক্তি এখন ঊর্ধ্বমুখী। যে বীরকে প্রথমে ডেকে জাগানো হয়েছিল, তার পরবর্তী কাজ হলো শির উন্নত করা। এই উন্নত শিরই পরবর্তী স্তরে এমন এক মহত্ত্ব অর্জন করে, যার সামনে হিমালয়ের শিখরও নত হয়ে যায়।

এই পটভূমিতে পাঠ করলে প্রদত্ত অংশটি কেবল আত্মগৌরবের উচ্চারণ নয়; বরং এটি অন্তর্গত শক্তির জাগরণ থেকে আত্মমর্যাদা, আত্মমর্যাদা থেকে চেতনার ঊর্ধ্বগতি এবং চেতনার ঊর্ধ্বগতি থেকে মহাজাগতিক উত্তরণের একটি ধ্বনি-নির্মিত আধ্যাত্মিক যাত্রা। এই যাত্রাকে আমরা নিম্নোক্ত পাঁচটি স্তরে পাঠ করতে পারি ;ধ্বনি → অলংকার → রস → চক্র → প্রতীক।

১. ধ্বনি : বিস্ফোরণ থেকে কম্পন, কম্পন থেকে বিস্তার

কবিতার প্রারম্ভিক চরণগুলোর ধ্বনিগত কেন্দ্র কয়েকটি ব্যঞ্জনধ্বনিকে ঘিরে আবর্তিত—ব, ল, র, ন, ত, ম, শ, হ। এর মধ্যে ব, র, ন, শ ও হ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। প্রথম উচ্চারণেই ধ্বনির একটি শক্তিশালী অভিঘাত তৈরি হয়

বল | বীর | বল

"ব" ওষ্ঠ্য, ঘোষ, অল্পপ্রাণ ধ্বনি। দুই ওষ্ঠের সংযোগ এবং তার তাৎক্ষণিক উন্মোচনে ধ্বনিটির মধ্যে একটি ক্ষুদ্র বিস্ফোরণাত্মক অভিঘাত সূচিত হয়। ফলে "বল বীর বল" শুধু একটি বাক্য নয়; যেন পরপর তিনটি ধ্বনির আঘাত। পঙক্তির প্রথম শব্দ "বল"  শক্তিকে আহ্বান করে, তারপর দ্বিতীয় শব্দ "বীর" সেই শক্তিকে চেতনায় রূপ দেয়, আর শেষ "বল"  সেই চেতনাকে পুনরায় উচ্চারণের শক্তিতে ফিরিয়ে দেয়। ব-এর পর ল ধ্বনির পার্শ্বিক প্রবাহ যেন সেই অভিঘাতকে ছড়িয়ে দেয়।এরপর "র"  ধ্বনি একটি অন্তর্নিহিত কম্পনরেখা তৈরি করে

বীর | শির | আমারই | নতশির | শিখর | হিমাদ্রির

এখানে ‌র-এর পৌনঃপুনিক উচ্চারণ কম্পন ও গতির অনুভূতি আনে। বিশেষত শির → নতশির → শিখর → হিমাদ্রির—এই ধারায় "র" ধ্বনি যেন সমগ্র পঙক্তির মধ্যে একটি অবিচ্ছিন্ন স্পন্দন সৃষ্টি করে। ব-এর অভিঘাতের পর র-এর কম্পন; অর্থাৎ শক্তি এখন স্থির নয়, গতিশীল।
অন্যদিকে "ন" ধ্বনি কবিতার গভীরে একটি দ্বন্দ্ব নির্মাণ করে

উন্নত /নেহারি /নতশির

এখানে একই "ন"  ধ্বনি দুটি বিপরীত গতি উন্নত ও নত কে ধারণ করছে। ফলে ধ্বনির মধ্যেই ঊর্ধ্বগতি ও অধোগতির দ্বন্দ্ব প্রতিফলিত হয়। কবির শির ঊর্ধ্বমুখী, কিন্তু হিমাদ্রির শির নত।
শ ধ্বনি আবার শির থেকে শিখর-এ একটি ধ্বনিগত সেতু তৈরি করে। শির মানবদেহের শীর্ষ, আর শিখর পর্বতের শীর্ষ। ফলে মানবশির ও পর্বতশিখর
ধ্বনিগতভাবেও একে অপরের প্রতিবিম্ব হয়ে ওঠে। শেষে আসে হিমাদ্রি। "হ" কণ্ঠ্য উষ্মধ্বনি; উচ্চারণে বায়ুর প্রবাহ স্পষ্ট। ফলে হিমাদ্রি শব্দের উচ্চারণে যেন একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাসের মতো বিস্তার তৈরি হয়।
এইভাবে চরণগুলোর ধ্বনিগত গতি নিম্ন বর্ণিত প্রতীকী ক্রম অনুসরণ করে;
বিস্ফোরণ → কম্পন → উত্তরণ → বিস্তার।অর্থাৎ "বল" দিয়ে যে শক্তির অভিঘাত শুরু হয়, তা "র"-এর কম্পনে গতিশীল হয়, "শির–শিখর"-এর মধ্য দিয়ে ঊর্ধ্বমুখী হয় এবং "হিমাদ্রি"-তে এসে মহত্ত্বের বিস্তারে পরিণত হয়।

২. অলংকার : ধ্বনির মধ্যে অর্থের স্থাপত্য

এই পর্বে ধ্বনি নিজেই অলংকারের প্রধান উপাদান। "বল বীর বল"-তে  "ব" ধ্বনির পুনরাবৃত্তি এবং "শির → শির → শিখর"-এ "শ" ধ্বনির পুনরাবৃত্তি কেবল শ্রুতিমাধুর্য‌ই সৃষ্টি করেনি উপরন্তু শব্দগুলোর মধ্যে একটি অন্তর্নিহিত অর্থ-সংযোগ তৈরি করেছে।
কিন্তু এই অংশের সবচেয়ে শক্তিশালী অলংকারগত কাঠামো নিহিত রয়েছে বৈপরীত্যে। উন্নত ও নত।একদিকে 'উন্নত মম শির' অন্যদিকে 'নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির'।এখানে কবির উন্নত শিরের বিপরীতে হিমালয়ের নত শির। সাধারণত হিমালয় উচ্চতার, মহত্ত্বের এবং অনতিক্রম্যতার প্রতীক। অথচ নজরুলের কাব্যিক কল্পনায় সেই হিমালয়ই কবির সামনে নত।

এটি তাই শুধু বৈপরীত্য নয়; এটি মহত্ত্বের স্থানান্তর। যে উচ্চতা এতদিন প্রকৃতির ছিল, তা এখন মানুষের চেতনার মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে। কবির "শির" এবং হিমালয়ের "শিখর" পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এক নতুন অর্থ তৈরি করেছে। মানুষ এখানে প্রকৃতিকে জয় করছে না; বরং মানুষের চেতনার অসীম সম্ভাবনা প্রকৃতির সর্বোচ্চ প্রতীককেও অতিক্রম করছে।

৩. রস : বীর থেকে রৌদ্র, রৌদ্র থেকে অদ্ভুত

এই অংশে রসের একটি ক্রমবিকাশ লক্ষ করা যায়।বীর,রৌদ্র, অদ্ভুত।প্রথমেই

বল/বীর /বল

এখানে বীর রসের প্রত্যক্ষ উন্মেষ। কণ্ঠে আদেশ, আত্মবিশ্বাস, সংগ্রামের শক্তি এবং আত্মপ্রকাশের তীব্রতা। কিন্তু এই বীরত্ব বাহ্যিক যুদ্ধের নয়; এটি প্রথমে নিজের ভিতরের ঘুমন্ত শক্তিকে জাগিয়ে তোলার বীরত্ব।এরপর

উন্নত/মম/শির

এখানে বীরত্ব রূপ নেয় আত্মমর্যাদায়। "আমি" আর ভীত, সংকুচিত বা অবনত নয়; সে নিজের অস্তিত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে। এখানেই বীর রসের মধ্যে রৌদ্রের সম্ভাবনা তৈরি হয় কারণ যে সত্তা নিজের শির উন্নত করেছে, সে কোনো বাহ্যিক কর্তৃত্বের কাছে মাথা নত করতে প্রস্তুত নয়।কিন্তু শেষ পংক্তিতে এসে রসের এক আশ্চর্য পরিবর্তন ঘটে

নতশির/ওই /শিখর/ হিমাদ্রির।

এখানে বাস্তবতার সীমা অতিক্রম করে জন্ম নেয় অদ্ভুত রস। মানুষের মাথা উন্নত, আর হিমালয়ের মাথা নত—এ এক বিস্ময়কর মহাজাগতিক দৃশ্যকল্প। ফলে রৌদ্রের অভিঘাত শেষ পর্যন্ত বিস্ময়ে পরিণত হয়।অর্থাৎ কবিতার রসাত্মক গতি নিম্নলিখিত ক্রম অনুসরণ করে।
আত্মশক্তির জাগরণ → বীরত্ব → আত্মমর্যাদা → কর্তৃত্বের প্রত্যাখ্যান → মহাজাগতিক বিস্ময়।

৪. চক্র : শক্তির জাগরণ থেকে চেতনার শিখর

এখানে তান্ত্রিক চক্রতত্ত্বকে ঐতিহাসিক দাবি হিসেবে নয়, একটি প্রতীকী ধ্বনি-মানচিত্র হিসেবে পাঠ করা যেতে পারে।"বল বীর বল"-এর ব-কে মূলাধারের শক্তির প্রতীক হিসেবে ভাবা যায়। এখানে শক্তির প্রথম অভিঘাত অস্তিত্বের ঘোষণা। যেন অন্তর্গত সত্তা বলে ওঠে আমি আছি।এরপর "উন্নত" শব্দের ন ও ত ধ্বনিকে মণিপুরের নাভিকেন্দ্রিক অগ্নিশক্তির সঙ্গে প্রতীকীভাবে যুক্ত করা যায়। এখানে শক্তি শুধু অস্তিত্ব ঘোষণা করছে না; সে ঊর্ধ্বমুখী হতে চাইছে।
এরপর আসে "মম"।এখানে ম ধ্বনি ব্যক্তিগত আত্মসত্তার দিকে ইঙ্গিত করে। "মম শির"-এ শক্তি যেন নিজের অস্তিত্বকে অনুভব করছে এটি আত্মসচেতনতার স্তর।
শির → শিখর → হিমাদ্রি—এই ধ্বনি-ধারাকে বিশুদ্ধ ও আজ্ঞা চক্রের মধ্যবর্তী একটি প্রতীকী আরোহণ হিসেবেও পড়া যায়। ব্যক্তিগত কণ্ঠ এখন মহাজাগতিক উচ্চতার সঙ্গে সংলাপে প্রবেশ করছে। "শির" আর কেবল দেহের অঙ্গ নয়; এটি চেতনার শীর্ষ দেশ। আর "উন্নত শির" তাই আত্মমর্যাদার পাশাপাশি আত্মসচেতনতার জাগরণেরও প্রতীক।শেষে হিমাদ্রি চূড়ান্ত উচ্চতার প্রতীক হয়ে ওঠে। কিন্তু কবির শির তারও ঊর্ধ্বে। ফলে প্রতীকী আরোহনের রেখাটি দাঁড়ায় মানবচেতনা → পর্বতশিখর → মহাজাগতিক উচ্চতা।
এই অর্থে অংশটির চক্রগত পাঠ একটি অন্তর্গত শক্তির ঊর্ধ্বমুখী যাত্রা ।মূলাধারের অস্তিত্ববোধ থেকে মণিপুরের শক্তি, সেখান থেকে আত্মসচেতনতা এবং পরিশেষে চেতনার শিখর।

৫. প্রতীক : মানুষের শির ও হিমালয়ের শিখর

এই অংশের প্রতীকী স্থাপত্যে প্রতিটি শব্দ একটি বৃহত্তর অর্থ বহন করে। "বল" শক্তির জাগরণ; "বীর" সেই শক্তির চেতনাময় আত্মঘোষণা; "উন্নত শির" আত্মমর্যাদা ও ঊর্ধ্বচেতনার প্রতীক; "নতশির" প্রচলিত মহত্ত্বের পরাজয় বা আত্মসমর্পণের প্রতীক; "শিখর" সীমার প্রতীক; আর "হিমাদ্রি" সর্বোচ্চ পার্থিব মহত্ত্বের প্রতীক।কিন্তু কবিতার সবচেয়ে বড় প্রতীকী বিপ্লবটি ঘটে তখন;যখন মানুষের শির হয় উন্নত,‌আর হিমালয়ের শির নত।
এখানে কবি মানুষের চেতনাকে এমন এক উচ্চতায় স্থাপন করছেন, যেখানে প্রকৃতির সর্বোচ্চ প্রতীকও তার সামনে নত হয়ে যায়। এটি প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের বিজয়ের সরল ঘোষণা নয়; বরং মানুষের অন্তর্গত চেতনার অসীম সম্ভাবনার কাব্যিক আবিষ্কার।
শির এবং শিখর দুটি শব্দ একই প্রতীকী অক্ষের দুই প্রান্ত। একদিকে মানুষের শির, অন্যদিকে হিমালয়ের শিখর। কিন্তু কবির কল্পনায় এই দুই উচ্চতার সম্পর্ক উল্টে যায়। যে মানুষ এতদিন পর্বতের দিকে তাকিয়ে তার উচ্চতা মেপেছে, এবার সেই মানুষই এমন এক চেতনার অধিকারী, যার সামনে পর্বতও নত।

এইভাবে কবিতার চরণগুলোর প্রতীকী যাত্রা দাঁড়ায় নিম্নোক্তভাবে
বল → শক্তির জাগরণ
বীর → চেতনার আত্মঘোষণা
উন্নত শির → আত্মমর্যাদা ও ঊর্ধ্বচেতনা
নতশির → প্রচলিত মহত্ত্বের পরাজয়
শিখর → সীমা
হিমাদ্রি → সর্বোচ্চ পার্থিব মহত্ত্ব
সুতরাং এই ক্ষুদ্র অংশে ধ্বনি থেকে যে অর্থের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত মানুষের চেতনাকে মহাজাগতিক উচ্চতার প্রতীকে উন্নীত করে। "বল বীর"-এর ক্ষুদ্র ওষ্ঠ্য অভিঘাত থেকে শুরু হয়ে "হিমাদ্রি"-র বিস্তৃত কণ্ঠ্য অনুরণনে এসে ধ্বনি যেন নিজেই একটি চেতনার আরোহণ সম্পন্ন করে। ব-এর বিস্ফোরণ থেকে র-এর কম্পন, ন থেকে ত-এর উন্নত-নত দ্বন্দ্ব, শ-এর শির-শিখর সংযোগ এবং হ-এর মহাশ্বাস সব মিলিয়ে কবিতার অন্তর্নিহিত গতি নিম্নোক্ত প্রবাহ চিত্রের ধারক হয়ে ওঠে।
ধ্বনি → শব্দের সংঘর্ষ → অলংকারের সংগঠন → রসের উত্থান → চেতনার চক্রারোহণ → মহাজাগতিক প্রতীকে উত্তরণ।
আর এই সমগ্র আরোহণের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে দুটি শব্দ বল আর বীর।
এ যেন ঘুমন্ত আত্মাকে জাগিয়ে তোলার আহ্বান ;কাপুরুষ থেকে পুরুষে, অবনত থেকে উন্নততে, সীমা থেকে অসীমে, আর ব্যক্তি থেকে মহাজাগতিক চেতনার উত্তরণে।