শনিবার,

২৫ জুলাই ২০২৬

|

শ্রাবণ ৯ ১৪৩৩

XFilesBd

রক্তের টান ও কলমের মেলবন্ধন অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ও ভারতের গণমাধ্যম নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈঠকে উঠে এলো বহুবিধ সমস্যা: সমাধানে কাজ করবে দুই পাড়ের সাংবাদিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪:২৩, ২৪ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ ও ভারতের গণমাধ্যম নিয়ে আন্তর্জাতিক বৈঠকে উঠে এলো বহুবিধ সমস্যা: সমাধানে কাজ করবে দুই পাড়ের সাংবাদিক

মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখা হাজার চেষ্টা করেও যা কোনোদিন আলাদা করতে পারেনি, তা হলো দুই বাংলার মানুষের অন্তরের টান। সেই ঐতিহাসিক ও আত্মিক সম্পর্কের অমোঘ সুতোয় নতুন করে গিট বাঁধলো সীমান্তপারের সবুজ পাহাড়ঘেরা শহর আগরতলা। সম্প্রতি ত্রিপুরার রাজধানী শহরটি সাক্ষী হয়ে রইলো ভারত-বাংলাদেশের সুদৃঢ় সম্পর্কের এক অনন্য ও আবেগঘন অধ্যায়ের। ত্রিপুরা জার্নালিস্ট ইউনিয়নের উদ্যোগে গত ২২ ও ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনব্যাপী এক ঝলমলে আন্তর্জাতিক গোলটেবিল বৈঠক। বিষয় ছিল—‘গণমাধ্যমে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক’। তবে আয়োজনের গণ্ডি কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তা রূপ নিয়েছিল দুই বাংলার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সংস্কৃতি এবং আত্মার এক মহাঐক্যতানে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পরিবেশ তৈরি হয় এক অপূর্ব আতিথেয়তার। সীমান্তের পাড়ি দিয়ে যাওয়া বাংলাদেশি অতিথিদের পরম মমতায় বুকে টেনে নেয় আগরতলা। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন ‘দৈনিক সমাচার’-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক বেলাল হোসেন ভূঁইয়া এবং ‘সাপ্তাহিক সত্য সমাচার’-এর সম্পাদক মো. আবু ফাত্তাহ। তারা বাংলাদেশী বন্ধুদের সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেন ওপারের সাংবাদিক বন্ধুদের কাছে। আগরতলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক রামাকান্ত দে যখন বাংলাদেশি দুই প্রতিনিধির গলায় ঐতিহ্যবাহী উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা জানান, তখন হাততালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মিলনায়তন। উত্তরীয়র প্রতিটি ভাজে যেন মিশে ছিল একাত্তরের সেই চিরন্তন বন্ধুত্বের উষ্ণ ছোঁয়া।

দুই দিনব্যাপী এই আড্ডায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানান দিক উন্মোচিত হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সামাজিক-সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং সংকটকালে সঠিক সংবাদের গুরুত্ব নিয়ে ওঠে বস্তুনিষ্ঠ আলোচনার ঝড়। বৈঠকে অংশ নেওয়া অভিজ্ঞ সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞরা একসুরে প্রকাশ করেন তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস—সংবাদপত্রের পৃষ্ঠা কেবল খবরের কাগজ নয়, এটি দুই দেশের মানুষের মন বোঝার সেতু। দুই বাংলার গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত, কাজের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পেশাগত সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে কেবল ভ্রান্তি দূর হবে না, বরং আঞ্চলিক সাংবাদিকতায় উন্মোচিত হবে এক নতুন দিগন্ত।

গোলটেবিল বৈঠকটি শেষ হয়েছে, কিন্তু আগরতলার বাতাসে রেখে গেছে এক সুমিষ্ট বার্তা—সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া থাকতে পারে, কিন্তু কলমের কালি আর ভালোবাসার কোনো সীমানা নেই। দুই বাংলার সাংবাদিকদের এই ঐতিহাসিক মেলবন্ধন আগামী দিনে দুই দেশের মৈত্রী ও ভূ-রাজনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে—এটাই সবার প্রত্যাশা।