শনিবার,

২৫ জুলাই ২০২৬

|

শ্রাবণ ৯ ১৪৩৩

XFilesBd

গোপনে যে বেশ্যার ভাত খায়: লালনের মরমি ভাষার এক সমন্বিত পাঠ

তারিফ হোসেন

প্রকাশিত: ০২:৩০, ২৫ জুলাই ২০২৬

গোপনে যে বেশ্যার ভাত খায়: লালনের মরমি ভাষার এক সমন্বিত পাঠ

"গোপনে যে বেশ্যার ভাত খায়" : লালনের মরমি ভাষার এক সমন্বিত পাঠ

 লালনের ভাষার বহুস্তরীয় প্রকৃতিৎ

- তারিফ হোসেন 

লালন সাঁইয়ের পদাবলীর একটি বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি একই শব্দকে একাধিক স্তরে ব্যবহার করেন। তাঁর ভাষা কখনোই কেবল সামাজিক বা নৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং স্থূল বাস্তবতা থেকে ধীরে ধীরে দেহতত্ত্ব, আত্মতত্ত্ব এবং মহাজাগতিক তত্ত্বের দিকে অগ্রসর হয়। এই কারণেই লালনের পদ ব্যাখ্যা করতে হলে শব্দের প্রচলিত অর্থের পাশাপাশি তার ব্যুৎপত্তিগত স্মৃতি, প্রতীকী তাৎপর্য এবং দর্শনগত প্রেক্ষাপট সবকিছুকে একত্রে বিবেচনা করতে হয়।

সামাজিক জাত থেকে অস্তিত্বতাত্ত্বিক প্রশ্নে উত্তরণ

" জাত গেল জাত গেল বলে" পদটি এই বহুস্তরীয় ভাষার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। পদের শুরুতে লালন সামাজিক জাতিভেদের ভ্রান্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন

"আসবার কালে কি জাত ছিলে,
এসে তুমি কি জাত নিলে।
কি জাত হবা যাবার কালে,
সেই কথা ভেবে বলো না।।

এখানে প্রশ্নটি কেবল সমাজব্যবস্থা নিয়ে নয়; বরং মানুষের অস্তিত্ব সম্পর্কেও। জন্মের পূর্বে মানুষের কোনো জাতপরিচয় নেই, মৃত্যুর পরও নেই। তাহলে মাঝখানে যে পরিচয়কে মানুষ চরম সত্য বলে ধরে নেয়, তার প্রকৃত ভিত্তি কোথায়? লালনের এই প্রশ্ন ধীরে ধীরে সামাজিক পরিসর অতিক্রম করে অস্তিত্বতাত্ত্বিক (ontological) প্রশ্নে পরিণত হয়।

বাহ্যিক পরিচয়ের আপেক্ষিকতা ও মৌলিক ঐক্য

এরপর তিনি বলেন

ব্রাহ্মণ চণ্ডাল চামার মুচি,
এক জলে সব হয় গো শুচি।

এখানেও তিনি বাহ্যিক পরিচয়ের আপেক্ষিকতা দেখাচ্ছেন। জল এখানে কেবল নদীর জল নয়; এটি এমন এক মৌলিক উপাদানের প্রতীক, যার মধ্যে প্রবেশ করলে সব কৃত্রিম বিভাজন বিলীন হয়ে যায়।কিন্তু পদের শেষ চরণে এসে লালন হঠাৎ সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রতীকের আশ্রয় নেন।

গোপনে যে বেশ্যার ভাত খায়,
তাতে জাতের কী ক্ষতি হয়?

প্রথম পাঠে মনে হতে পারে এটি সমাজের