সোমবার,

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

|

আশ্বিন ১২ ১৪৩৩

XFilesBd

আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স কাণ্ডের পর এবার গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী রাড্ডা

শোভন বিশ্বাস

প্রকাশিত: ০৩:৩৭, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স কাণ্ডের পর এবার গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী রাড্ডা

দেশের চিকিৎসাসেবা খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, হামলা ও দখলদারিত্বের নতুন এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পর এবার রাতের আঁধারে বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৫০ বছরের পুরোনো রাড্ডা হাসপাতাল। প্রান্তিক, বস্তিবাসী ও নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসাস্থল হিসেবে পরিচিত এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি ধ্বংসের পেছনে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন স্থানীয় শাসকদলীয় নারী সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই পরিচালিত এই তাণ্ডবে মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে হাজার হাজার মা ও শিশুর স্বল্পমূল্যের সেবাকেন্দ্রটি। রাতেই ভারী যন্ত্রপাতি এনে পুরো ভবন চিরেচ্যাপ্টা করে দেওয়া হয়। যা প্রত্যক্ষ করে দিশেহারা হয়ে পড়েন হাসপাতাল কতৃপক্ষ ও নিম্ন আয়ের বাসিন্দারা।

স্বাস্থ্যখাতের বিশ্লেষকরা আদ্-দ্বীন এবং রাড্ডা হাসপাতালের ঘটনার মধ্যে গভীর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নীলকশারা মিল খুঁজে পেয়েছেন। তাঁদের মতে, ভিন্ন মত বা স্বাধীন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চেপে ধরার এই প্রবণতা পুরোনো। অতীতে সরকারের তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত ও প্রশাসনিক শেকল পরিয়ে দীর্ঘ দিন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। আর এবার ক্ষমতার সরাসরি দাপটে ও স্থানীয় এমপির উপস্থিতিতে রাড্ডা হাসপাতালকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হলো।

একদিকে প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হচ্ছে, অন্যদিকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতাও চরম রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি কুমিল্লার ইস্টার্ণ মেডিকেল কলেজেও একই ধরনের সন্ত্রাসী তাণ্ডব দেখা গেছে। সেখানে রোগীর স্বজন পরিচয়ে একদল সন্ত্রাসী ক্লিনিকের ভেতরে ঢুকে কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সদের ওপর নির্মম হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে মারাত্মকভাবে আহত হন একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী।

একটার পর একটা হাসপাতালে হামলা, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া কিংবা প্রশাসনিক তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার এই চিত্র প্রমাণ করে দেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষা আজ চরম অরক্ষিত। রাজনীতির নোংরা থাবায় সাধারণ রোগী, ডাক্তার ও নার্স—সবাই আজ দিশেহারা।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতকে ধূলিসাৎ করার এক সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। রাজনীতির মারপ্যাঁচে যখন কোনো হাসপাতাল বন্ধ বা ধ্বংস করে দেওয়া হয়, তখন মূলত খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। অবিলম্বে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সরকারি দলের এই অমানবিক অবদমন, সন্ত্রাসী তাণ্ডব ও রাজনৈতিক নৈরাজ্য বন্ধ করা না হলে দেশের সার্বিক চিকিৎসাব্যবস্থা পুরোপুরি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।