হাসপাতালের সাদা করিডোরগুলো আবার চেনা গুঞ্জনে মুখরিত। যে ঘরে কিছুদিন আগেও ছিল থমথমে নীরবতা, সেখানে এখন চিকিৎসকদের তড়িঘড়ি কদম আর নার্সদের ব্যস্ত আনাগোনা। রোগীদের মুখে স্বস্তির হাসি, স্বজনদের চোখে নতুন আশা। প্রায় ৪৫ দিনের দীর্ঘ এক প্রতীক্ষা ও অনিশ্চয়তার ইতি টেনে অবশেষে আবার পুরোদমে চালু হয়েছে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী আদ্-দ্বীন হাসপাতাল। সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে আদ্-দ্বীন কেবল একটি চিকিৎসার ঠিকানা নয়, বরং পরম নির্ভরতার আশ্রয়। কিন্তু বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে টানা ৪৫ দিন হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম থমকে ছিল। প্রতিদিন হাজারো রোগী এসে ফিরে গেছেন হতাশা নিয়ে। সেই দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটিয়ে যখন হাসপাতালের প্রধান ফটক আবার উন্মুক্ত হলো, তখন থেকেই শুরু হয় ঘুরে দাঁড়ানোর এক নতুন অধ্যায়।

হাসপাতাল খোলার পর থেকে কেবল নিয়মিত চিকিৎসা প্রদানই নয়, সেবার মান অক্ষুণ্ণ রাখতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ। আউটডোর থেকে শুরু করে ইনডোর, জরুরি বিভাগ থেকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)—প্রতিটি বিভাগে যেন সেবার কোনো খামতি না থাকে, তা সরাসরি তদারকি করছেন পরিচালনা পর্ষদের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও পরিচালকরা।
প্রতিদিনই বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে রোগীদের শয্যাপাশে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন কর্মকর্তারা। নরম গলায় কুশল জিজ্ঞেস করছেন, শুনছেন চিকিৎসার খোঁজখবর। কথা বলছেন ডিউটিতে থাকা ডাক্তার ও নার্সদের সঙ্গে, জেনে নিচ্ছেন তাঁদের কোনো অসুবিধা বা অভাব রয়েছে কি না। সেই সঙ্গে রোগীদের স্বজনদের হাত ধরে শুনছেন তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা। কর্তৃপক্ষের এই নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও আন্তরিক উপস্থিতি পুরো হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক মানবিক উষ্ণতা ছড়িয়ে দিয়েছে।

যে লক্ষ্য ও দর্শন নিয়ে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা ছিল কম খরচে প্রান্তিক মানুষের কাছে সর্বোচ্চ মানের মানবিক চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া। দীর্ঘ বিরতির পর সেবার এই মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে পরিচালকরা নতুন উদ্যমে কাজ করছেন। তাঁদের স্পষ্ট অঙ্গীকার—আদ্-দ্বীন কেবল আগের জায়গায় ফিরেই থামবে না, বরং রোগীসেবার ক্ষেত্রে নিজেদের সেরাদের সেরা হিসেবে প্রমাণ করবে।
অপেক্ষার প্রহর শেষে এই নতুন পথচলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরা নয়, এটি হাজার হাজার অসহায় মানুষের আশার আলো ফিরে পাওয়ার গল্প। আদ্-দ্বীনের প্রতিটি ইটে, প্রতিটি কক্ষে এখন সেই একই পুরোনো প্রতিশ্রুতির প্রতিধ্বনি—ভালোবাসা আর নিখাদ মমতায় মানুষের সেবা করে যাওয়া।
