বুধবার,

১৫ জুলাই ২০২৬

|

আষাঢ় ৩০ ১৪৩৩

XFilesBd

রাজশাহীতে ইউএনওপিএস ও বিবিএসের যৌথ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

সুলতান মাহমুদ রেজা, রাজশাহী

প্রকাশিত: ০১:২১, ১৫ জুলাই ২০২৬

রাজশাহীতে ইউএনওপিএস ও বিবিএসের যৌথ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) স্থানীয়করণে জেন্ডারভিত্তিক তথ্যের গুরুত্ব ও ব্যবহারিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজশাহীতে “এসডিজি স্থানীয়করণে জেন্ডার ডিসঅ্যাগ্রিগেটেড ডাটা জেনারেশন” শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করেছে ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস) বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র এবং প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মনসুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইউএনওপিএসের পার্টনারশিপ অ্যাডভাইজর শিরিন সুলতানা ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর রাজশাহীর জয়েন্ট ডিরেক্টর আব্দুল হালিম। অনুষ্ঠানের কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এসডিজি সেলের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন, যিনি জেন্ডার সংশ্লিষ্ট এসডিজি সূচক, তথ্যের উৎস এবং এসডিজি স্থানীয়করণে জেন্ডারভিত্তিক তথ্যের ভূমিকা নিয়ে উপস্থাপনা প্রদান করেন।

Accelerate SDG Localization in Bangladesh প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ কর্মসূচি এসডিজি-৫ (জেন্ডার সমতা) এবং এসডিজি-১৬ (শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান) বাস্তবায়নে একটি “বাংলাদেশ মডেল” তৈরির লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটি ইউএনওপিএস ও ইউএন উইমেনের যৌথ অংশীদারিত্বে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজন অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং ব্যবহার জোরদারের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রমাণভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, নির্ভরযোগ্য ও জেন্ডার-সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নারীদের এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাস্তব চাহিদা ও অভিজ্ঞতা উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রতিফলিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্মত ও বিভাজিত তথ্য উৎপাদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় পরিসংখ্যান কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন প্রণয়ন জোরদার করা হলে এসডিজি অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ আরও কার্যকর হবে এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া অধিকতর তথ্যভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে।

প্রশিক্ষণে সরকারের ৩৯+১ জাতীয় অগ্রাধিকার লক্ষ্যমাত্রা এবং বিশেষ করে এসডিজি-৫ ও এসডিজি-১৬ সংশ্লিষ্ট সূচকসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়। নারী অংশগ্রহণ, সুশাসন, সেবায় প্রবেশাধিকার, প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল নীতিনির্ধারণে তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা একটি উন্মুক্ত আলোচনায় স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে জেন্ডারভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরিতে অঙ্গীকার আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জাতীয় এসডিজি ট্র্যাকার-এ স্থানীয় পর্যায়ের তথ্যপ্রবাহ উন্নত হবে এবং ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯০ জন “এসডিজি ডাটা চ্যাম্পিয়ন” তৈরির লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন আয়োজকেরা।