রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় মাদক কারবারিদের অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। আদালতের নির্দেশে ইতোমধ্যে শীর্ষ দুই মাদক কারবারির বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রোক (জব্দ) করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ২০ জনের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পর্যায়ক্রমে তালিকাভুক্ত ১৮৪ জন মাদক কারবারির সম্পদের তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের শেষ দিকে গোদাগাড়ী উপজেলার তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান শুরু হয়। যাদের বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের মিল পাওয়া যাচ্ছে না, তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আদালতের নির্দেশে অবৈধ সম্পদ ক্রোকের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি গোদাগাড়ীর সহাপাড়া এলাকার মাদক কারবারি মো. আব্দুল্লাহ এবং তার স্ত্রী সাবেরা বেগমের নামে থাকা সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা মামলায় রাজশাহী সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত গত ৬ এপ্রিল এ আদেশ দেন। এছাড়া একই আদালত গত ২৩ মে শীর্ষ মাদক কারবারি তারেক হোসেনের প্রায় ১৯৯ শতাংশ (প্রায় ১.৯৯ একর) জমি ক্রোকের নির্দেশ দেন। গত বছরের ২২ এপ্রিল তারেককে প্রায় সাড়ে ৬ কেজি হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধেও মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, আদালতের নির্দেশে ক্রোক করা সম্পদ কোনোভাবেই বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না। আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
অন্যদিকে গোদাগাড়ী পৌরসভার সাপাহার এলাকার আলোচিত মাদক কারবারি আব্দুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধেও বিপুল অবৈধ সম্পদের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাতটি মাদক মামলা বিচারাধীন। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে তিনি প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।
গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, "মাদক কারবারিদের অবৈধ সম্পদ জব্দের উদ্যোগ একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এতে মাদক ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবে এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।"
উপপরিচালক মেহেদী হাসান আরও জানান, গোদাগাড়ীতে তালিকাভুক্ত ১৮৪ জন মাদক কারবারির মধ্যে ধাপে ধাপে সবার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করা হবে। বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে সম্পদ জব্দের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মাদকের অর্থনৈতিক ভিত্তি ভেঙে দিতে অবৈধ সম্পদ জব্দের এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে এটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
