সোমবার,

০৬ জুলাই ২০২৬

|

আষাঢ় ২১ ১৪৩৩

XFilesBd

বগুড়ার তরুণ কবি জুয়েল হাসানের ৩টি কবিতা

জুয়েল হাসান

প্রকাশিত: ২১:০৪, ২১ মে ২০২৬

বগুড়ার তরুণ কবি জুয়েল হাসানের ৩টি কবিতা

কবিতা-১

মহীরহের সাথে সেদিন গুল্মরাও হেসেছিল

প্রাণ ভরে বৃষ্টি যখন নামল অঝর ধারায়।

মেঘ ফেটে বৃষ্টি অনন্ত অনন্ত কাল পরে,

নূহের প্লাবনের পরে এমন বৃষ্টি--

কচিপাতা থেকে কান্ড বেয়ে শিকড়ের উৎকৃষ্ট যৌবন,

পরিপুষ্ট আস্বাদনের স্বাদ, পৃথিবীর হৃতপিন্ডের চিরহরিৎ

শ্বাসের গর্ভে জন্ম নেওয়া আদম হওয়ায় নতুন সন্তান।

মেতে উঠে মাৎস্যন্যায়,

জন্মান্ধ বিকলাঙ্গতায় বিরূতের অঙ্গকাটে

বিভৎস অট্টহাসিতে! তবুও হেসে উঠে মহীরূহ

একক সহজিয়ায় আদমের সন্তান কখনও দেখেনা চিরহরিতের বনজ্যোসনা।

এখনও অঝরধারায় বৃষ্টি নামে

কোমল গুল্মের সবুজ পাতায় এখনও জ্যোস্নারা

জেগে থাকে কালের মহিমায়।

সারস আমার স্বপ্নের ডানা ভিজে টাপুরবৃষ্টি

উচুটায় উচুডগায়, টাপুরবৃষ্টি, ভেজা মেঘ,

হালকা কুয়াশার চাদর সারসী নাই আজ,

পথ হারিয়ে অন্য জারুলের বনে অন্য সারসে কি উম দেয় তার পালকে?

রস একাকী, টুপ করে এক ফোটা বৃষ্টি পড়ে মাথার পালকে,

ভিজে রাঙা ঠোঁট বৃষ্টির ফোটা দীর্ঘ হয়,

সন্ধ্যা নামে সারসী হারিয়ে যায়

বেত কিম্বা জারুলের বনে সারস, বৃষ্টিরেখায় জানায় ফেনিল তীব্র বেদনা।

অজস্র খেয়ালে ঝরা টাপুর বৃষ্টি বৃষ্টির নিক্কন আর

সারসের পথহাটা অপেক্ষা সন্ধ্যা হয়, রাত্রি হয়,

ভালবাসার প্রতীক্ষা দীর্ঘহয়!

সারসী হারিয়ে যায়, বেদনার সারস উড়ে যায় সকাল বেলায়,

দিগ থেকে দীগন্তে।

সারসীরা শুধু হারিয়েই যায়, তাই সারসের ডানা ঝাপটা কেউ শুনতে পায়না,

 বৃষ্টি ফোটা জল তাই এক অনন্ত.... অনন্ত হৃদয় গচ্ছিত বেদনা,,,,!!!

 

কবিত-২

 

তিন চোর তিন করে

কুহক রাজার কম্বল চুরি।

 

সাধু বলে আমারে দে

পুণ্যি পাবি স্বর্গে যাবি

এক.চোর বলে হাটে বেচি

দুই.চোর বলে ভিখিরিণিকে দি

 

তিন.চোর বলে ঠান্ডা, কুকুরের বাচ্চাগো দি।

 

সাধু বলে তোরা পাপিষ্ট হবি

সবচোর বলে পাপিষ্ঠই তো আমরা সবি

সাধুবলে তোরা আগুনে জ্বলবি

তিনচোর বলে, হেসেল পাড়ি দিয়েই তো তিনখানা করলাম কম্বল চুরি!

 

সাধু বলে মেলা কুষ্ঠ হবি

তিনজনা বলে কুষ্ঠ কবিরাজ তো তিনখানা বড় বর দিলি

বর লইয়া আমরা তিন চোর স্বর্গ দিলাম বেজায় পাড়ি

সাধু বাবা পইরা রইল গাঙ্গের পাড়ি

 

কবিতা-৩

আমিতো কাবতার তজামা নিয়ে আসান

একটা ছোট্ট ঘাসফুল নিয়ে এসেছি

সবার নীচে সবার অলক্ষ্যে পড়ে থাকে,

অনাদরা, তাকে দেখোছো কখনও?

আমিতো কবি মহীরূহ নিয়ে আসিনি

গন্ধহীন একটি ঘাসফুল নিয়ে এসেছি

কালো বালিকার চিত্রা কালো চোখ নিয়ে এসেছি

যে বালিকা আঙুলে নেড়ে দেখে ঘাসফুলকে

তারই মত তুলতুলে, নরম, জবের খৈ এর মত!

নাকি মুক্তোর দানা! নাকি সন্ধ্যা প্রদীপ জোনকী!

 

আহ ঘাসফুল!

তুমিই কি এক টুকরো বাংলাদেশ!

কিশোরী বড় হয়, লালপেড়ে জমিনে চলে যায় সে আসেনা,

ঘাসফুল দুঃখী হয়!

হাহাকার গোমরায়, ঘাসফুল যেন বিধবা হয়।

আসমান হাহকার!

জমিনহাহাকার, নদীবক্ষ হাহাকার ঘাসফুল আর ফোটেনা,

কিশোরীও আর আসেনা।

একদিন এক কবি আসে ঘাসফুলের জমিন ধরে

লক্ষ লক্ষ ঘাসফুল দানা বেধে হেসে উঠে।

এইতো কবি, এইতো রাখাল, এইতো সে কিশোরী

এইতো দামাল বাংলা, এইতো ওসমান হাদী!!