বাংলা শিশুসাহিত্যের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রখ্যাত ছড়াকার ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক আনজীর লিটনের জন্মদিন ঘরোয়া কিন্তু প্রীতিময় আবহে উদ্যাপিত হয়েছে। বর্ণাঢ্য কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা বড় আয়োজন না থাকলেও, গুণী এই লেখকের জন্মতিথিকে ঘিরে লেখক-সাংবাদিকদের আন্তরিক আড্ডায় মুখর হয়ে উঠেছিল একটি বিশেষ মুহূর্ত। সাহিত্যিক ও ছড়াকার আইরীন নিয়াজী মান্নার কার্যালয়ে এই আনন্দঘন আয়োজনটি সম্পন্ন হয়। মিষ্টি ও গরম সিঙারার রসনা বিলাসের মধ্য দিয়ে, অত্যন্ত ঘরোয়া পরিবেশে কেক কেটে গুণী এই শিশু সাহিত্যিকের জন্মদিন উদ্যাপন করেন উপস্থিত সুধীজন। বড় কোনো কোলাহলহীন এই ছোট আয়োজনটিই রূপ নেয় এক টুকরো সাহিত্য আড্ডায়, যেখানে ছিল না কোনো কৃত্রিমতার ছোঁয়া।

এ সময় আনন্দঘন এই মুহূর্তে আনজীর লিটনের পাশে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধার্মিণী। আরও উপস্থিত হয়ে শুভেচ্ছা জানান বিশিষ্ট সাংবাদিক ড. অখিল পোদ্দার, কবি-প্রাবন্ধিক ও প্রকৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার সৈকত হাবিবসহ সমসাময়িক বেশ কয়েকজন কবি ও ছড়াকার। প্রিয় লেখকের জন্মদিনে ফুল ও শুভকামনা জানাতে এসে উপস্থিত সুধীজন তাঁর দীর্ঘায়ু ও সৃজনশীল কর্মময় জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।১৯৬৫ সালের ১৭ জুন ময়মনসিংহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এই বরেণ্য সাহিত্যিক।

ময়মনসিংহেই তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। ছড়া ও শিশুসাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য তিনি ২০২০ সালে দেশের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, কুসুমের সেরা সাহিত্য পুরস্কার, ফুটতে দাও ফুল সম্মাননা পদক এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
তাঁর কলম থেকে বেরিয়ে এসেছে অসংখ্য পাঠকপ্রিয় ছড়া, কবিতা ও কিশোর গল্প, যা এ দেশের শিশু-কিশোরদের মনন গঠনে দারুণ ভূমিকা রাখছে। জন্মদিনের এই সংক্ষিপ্ত ও আন্তরিক আয়োজনটি যেন আবারও প্রমাণ করল, আনুষ্ঠানিকতার জাঁকজমকের চেয়ে গুণী মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও স্নেহের বন্ধনই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

