৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল এই বাজেট ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রণীত এই বাজেট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতিফলন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও এত বড় অঙ্কের বাজেট ঘোষণা সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের অর্থ সংস্থানের জন্য প্রধানমন্ত্রী যে কৌশলগত ও পরিকল্পিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, তা তাঁর বাস্তবমুখী রাষ্ট্রচিন্তারই পরিচয় বহন করে।
বাজেটের বিশাল এই অর্থের একটি বড় অংশ আয়কর এবং ভ্যাট ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণের মাধ্যমে আহরণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এনবিআরকে ডিজিটালাইজড করার ফলে কর ফাঁকির প্রবণতা অনেকাংশেই কমে আসবে, যা সরকারের রাজস্ব আহরণে নতুন গতি যোগ করবে। এছাড়া, উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা, সরকারি খাতের অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমেও অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বাস করেন যে, অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেই বিশাল এই বাজেটের সিংহভাগ অর্থ জোগান দেওয়া সম্ভব।

সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক হলো, এই বাজেটে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা না বাড়িয়ে উৎপাদনমুখী খাতের প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ করে কৃষি, প্রযুক্তি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে যে বিনিয়োগের রূপরেখা দিয়েছেন, তা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করবে। তাঁর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কেবল খরচের দিকে নজর দিচ্ছে না, বরং আয় বাড়ানোর জন্য এমন এক সুশৃঙ্খল রোডম্যাপ তৈরি করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তাঁর এই বিচক্ষণ ও সাহসী পদক্ষেপে দেশি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে যে স্বনির্ভর অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে চলেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। প্রতিটি ক্ষেত্রে এই সুচিন্তিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশ উন্নয়নের একটি অপ্রতিরোধ্য গতিপথ অর্জন করবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তনে এক বিশাল মাইলফলক হয়ে থাকবে।
