রোববার,

১৪ জুন ২০২৬

|

জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪৩৩

XFilesBd

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতি একজন প্রবাসী সন্তানের খোলা চিঠি

এস এম সবুজ, (খোকসা), কুষ্টিয়া।

প্রকাশিত: ২২:১৮, ১৩ জুন ২০২৬

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতি একজন প্রবাসী সন্তানের খোলা চিঠি

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের প্রতি একজন প্রবাসী সন্তানের খোলা চিঠি

বিষয়: আমার নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং পৈতৃক সম্পত্তিতে বৈধ অধিকার ফিরে পাওয়ার আবেদন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

আমি একজন প্রবাসী বাংলাদেশি। জন্মভূমি বাংলাদেশকে ভালোবেসেই জীবনের অধিকাংশ সময় বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করেছি। পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং দেশের জন্য যতটুকু সম্ভব অবদান রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আজ আমি এমন এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে নিজের নিরাপত্তা, নিজের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার এবং বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে আমার বৈধ হিস্যা নিয়ে আপনাদের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছি।

২০০৭ সালে আমার বাবা হঠাৎ মারা যান। বাবার মৃত্যু আমার জীবনে এমন এক শূন্যতা তৈরি করেছিল, যেখান থেকে বের হতে অনেক বছর লেগেছিল। সেই শোকের সময়ে আমি কখনো আমার মায়ের কাছে বাবার সম্পত্তির হিসাব চাইনি। আমি বিশ্বাস করতাম, সময় হলে সবকিছু ন্যায্যভাবেই হবে।

২০১২ সালে আমি অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় একটি ভালো চাকরি পাই। তখন আমার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য একটি বাড়ি কেনার প্রয়োজন হয়। আমার এক মামা এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ি কিনেছিলেন, যেখানে বাংলাদেশের একটি সম্পত্তি বিক্রির অর্থ ডিপোজিট হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। আমিও ভাবলাম, আমার বাবার সম্পত্তিতে যেহেতু আমার বৈধ অধিকার রয়েছে, সেখান থেকে একটি অংশ বিক্রি করে আমি আমার পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারব।

আমি আমার মাকে বলেছিলাম—ঢাকার মিরপুরের বাড়ির ভাড়া, বাবার পেনশন এবং অন্যান্য আয় আপনি রাখুন। আপনার চিকিৎসার সমস্ত খরচও আমি বহন করব। শুধু রাজবাড়ির বাড়ির পিছনের খালি জায়গা ও খাদসংলগ্ন জমিটুকু আমাকে দিন, যাতে আমি সেটি বিক্রি করে আমার স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য একটি ছোট্ট আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারি।

কিন্তু সেদিন থেকেই আমার জীবনে এক অদ্ভুত পরিবর্তন শুরু হয়।

আমি যখন বাবার সম্পদের হিসাব জানতে চাইলাম, তখন আমার প্রতি আচরণ বদলে যেতে শুরু করে। এক পর্যায়ে আমার ছোট ভাই ফোনে আমাকে বলেছিল—

“তোরে আমি তেজ্যপুত্র করবো।”

সেদিন কথাটি শুনে আমি গভীরভাবে কষ্ট পেয়েছিলাম। কিন্তু আজ, ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে মনে হয়, সেই কথাটিই যেন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

আজ আমার জন্মদাতা মা আমাকে বলেন—

“তোর আবার বাবার সম্পত্তির উপর হক কিসের?”

আমার মেঝ চাচা, যিনি রাজবাড়ীর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মালিক, তিনি আমাকে আমার বাবার নিজের হাতে তৈরি বাড়িতে প্রবেশ করতে দেন না।

আমি যখন বাংলাদেশে যাই, তখন আমাকে অপমান, গালাগালি এবং নানা ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। ২০২৩ সালে আমি এমন পরিস্থিতিরও শিকার হই, যেখানে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলায় আমার নিজের মাকেই সাক্ষী হিসেবে দাঁড় করানো হয়।

এরপরও আমি কখনো আমার মায়ের বিরুদ্ধে থানায় কোনো জিডি বা মামলা করিনি। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো একদিন তিনি আমাকে বুঝবেন। হয়তো মায়ের হৃদয়ে সন্তানের জন্য আবারও মমতা ফিরে আসবে।

কিন্তু বাস্তবতা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

আমার অভিযোগ, আমাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, আমার বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। আমি থানায় জিডি করেছি, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে সাহায্য চেয়েছি, এমনকি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছেও গিয়েছি। কিন্তু আমি কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার পাইনি।

বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। কিন্তু সেখানেও নানা জটিলতা ও হতাশার সম্মুখীন হই। একজন প্রবাসী হিসেবে বিদেশে ফিরে আসার পর মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্যও সময়মতো জানতে পারিনি।

আজ সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো—আমি আমার বাবার বাড়িতে নিজেকে নিরাপদ মনে করতে পারি না। আমি আমার জন্মস্থানে গিয়ে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারি না। অথচ বলা হয়, আমাকে নাকি বাবার সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—

এটি শুধু জমি বা টাকার বিষয় নয়।

এটি একজন সন্তানের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা এবং নিরাপত্তার প্রশ্ন।

আমি কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না।

আমি শুধু চাই—

✅ আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক
✅ আমার বিরুদ্ধে হওয়া অভিযোগ এবং আমার অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক
✅ আমার বাবার সম্পত্তির সঠিক হিসাব ও আইনসম্মত বণ্টন নিশ্চিত করা হোক
✅ একজন প্রবাসী সন্তান হিসেবে আমার সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার রক্ষা করা হোক

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,

আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ কোনো সন্তানের কাছ থেকে তার পিতার উত্তরাধিকার কেড়ে নেওয়ার দেশ নয়। বাংলাদেশ কোনো নাগরিককে তার জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন করার দেশ নয়।

আমি আপনার কাছে বিচার চাই।
আমি আপনার কাছে নিরাপত্তা চাই।
আমি আপনার কাছে একজন প্রবাসী সন্তানের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার আবেদন জানাই।

আমার এই আর্তি যদি আপনার কাছে পৌঁছে যায়, তবে হয়তো একজন অসহায় সন্তানের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হবে।

বিনীত,
পারভেজ মাসুম
Sydney, Australia