শুক্রবার,

১২ জুন ২০২৬

|

জ্যৈষ্ঠ ২৮ ১৪৩৩

XFilesBd

আয়েশা ও মারিয়াম আমার দুই কন্যার জন্ম সেখানে

আদ দ্বীন হাসপাতালের অভিজ্ঞতা নিয়ে ইশরাত জাহান শান্তার ফেসবুক প্রতিক্রিয়া। নিজের সন্তান প্রসবের স্মৃতিচারণ করে বললেন-কেন প্রতিষ্ঠানটি অনবদ্য।

ইশরাত জাহান শান্তা

প্রকাশিত: ০৫:৩৬, ১২ জুন ২০২৬

আপডেট: ০৫:৪০, ১২ জুন ২০২৬

আদ দ্বীন হাসপাতালের অভিজ্ঞতা নিয়ে ইশরাত জাহান শান্তার ফেসবুক প্রতিক্রিয়া। নিজের সন্তান প্রসবের স্মৃতিচারণ করে বললেন-কেন প্রতিষ্ঠানটি অনবদ্য।

আয়েশা ও মারিয়াম আমার দুই কন্যা।দুজনের জন্ম আদ্ দ্বীন হসপিটাল খুলনা।আমরা যেসকল মায়েরা আদ্ দ্বীন হসপিটালে মা হয়েছি,আমরা সবাই জানি বাচ্চা হওয়ার পর ছয় ঘন্টা পোস্ট অপারেটিভ রুমে থাকতে হয় বাচ্চা সহ।পোস্ট অপারেটিভ রুমে এসি থাকে, যার কারণে দরজা জানালা বন্ধ রাখতে হয়। আমরা যারা কম বেশি এসি ব্যবহার করি সবাই জানি এ ব্যাপারটা।এসি থেকে কার্বন মনোক্সাইড নামক একটা গ্যাস লিকেজ হয় যদি এসি বিকল থাকে। এই গ্যাস বিষাক্ত, স্বাদহীন, বর্ণহীন।কিভাবে কেউ বুঝবে গ্যাস লিক হচ্ছে? নবজাতক বাচ্চাগুলোর হয়তোবা মৃত্যুর কারণ এটা।ডিউটিরত নার্সদের গাফিলতি ও হতে পারে।কিন্তু ঐখানে তো আর হসপিটালের সকল ডাক্তার থাকে না।পরিচালক বা ম্যানেজার ও থাকে না। তাহলে ঐদিন পোস্ট অপারেটিভে ডিউটিতে থাকা ডাক্তার নার্সদের জন্য হসপিটালের লাইসেন্স বাতিল সত্যিই দুঃখজনক। ঐদিন যারা দায়িত্বে ছিল তাদের জবাবদিহি করতে হবে। কয়েক দিন আগে খুলনা মেডিকেলের ওটিতে আগুন লাগে, তার জন্য কি হসপিটাল বন্ধ করার মত কিছু হয়েছে?

আমি আমার ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করি।আয়েশা ছোটবেলা থেকে বেশি অসুস্থ থাকতো।একবার আয়েশার নিউমোনিয়া নিয়ে আদ্ দ্বীনে র কেবিনে আছি। তো হঠাৎ করে এক নার্স দুইজন মিস্ত্রি নিয়ে কেবিনে আসে এবং তাদের কি যেন একটা কাজে সেখানে ড্রিল করা লাগবে। তো তারা কাজ শুরু করে। আমি নার্সকে বললে বলে আমাকে এটা করার জন্য বলেছে তাই আমি করাচ্ছি। হুট করে সেসময় ডাক্তার Bellal Hossain আসেন আয়েশাকে দেখতে।উনি দেখে খুবই বিরক্ত হয়ে নার্সকে ডাকেন এবং জিগ্যেস করেন কেবিনে রোগী থাকা অবস্থায় কেন ড্রিল করল?কেন মিস্ত্রী আনলেন?নার্স তখন সরি বলে। এবং ডাক্তার তখনই আমাকে বাচ্চা নিয়ে অন্য একটা কেবিনে শিফট করে দেয়।ধন্যবাদ ভাই। এইযে নার্স এবং মিস্ত্রী কাজটা করছিল এটা উনাদের করার কথা ছিল কেবিন খালি থাকা অবস্থায়। এই দায় কি ডাক্তার বা হসপিটাল কতৃপক্ষকে দেওয়া যায়?ছবিতে যে আয়েশাকে দেখা যাচ্ছে তার বয়স সাড়ে চার।আদ্ দ্বীন হসপিটাল, বড় মগবাজারে। তখন পিত্তথলিতে পাথর নিয়ে ভর্তি আছি।কি যে যন্ত্রনা। ল্যাপারোস্কোপি করে বের করার মত অবস্থা ছিল না। ডাক্তার বলল মেশিন ঘুরবেনা এত ছোট বাচ্চার পেটে। আদ্ দ্বীনের ই ডি স্যার মহিউদ্দিন সাহেব তখন ডাক্তার কে বলেন হাতে কেটে করতে। এবং ডাক্তারের যেদিন অফ ডে সেদিন করতে। যাতে এক্সট্রা প্যারা না থাকে ডাক্তারের। অপারেশনের পর পোস্ট অপারেটিভ এ উনি নিজে দেখতে যান।কেবিনে দেওয়ার পর ও উনি কয়েকদিন নিজে গিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন। কৃতজ্ঞতা জানাই তাকে। এরপর একদিন মেয়েটা ভাত খেতে যেয়ে গলায় কাটা ফুটিয়ে ফেলে। কি মুসিবত! ওর বাবা তো রেগেমেগে মেয়ে নিয়ে একাই হসপিটালে চলে যায়।আমি পৌছে দেখি Hossain Ali ভাই আর মেয়ের বাবা মেয়েকে নিয়ে ওটি থেকে বের হচ্ছে। পরে জানলাম হোসেন ভাই একজন নাককান গলার ডাক্তারকে ডেকে ওটিতে নিয়ে মেয়ের গলা চেক করিয়েছে।গলায় কাটা ছিল না।টনসিলের জন্য ফুটতেছিল।আবারও ধন্যবাদ হোসেন ভাই। আজকাল এরকম একটা নাক কান গলা স্পেশালিশ্ট ডাক্তারের চেম্বারে যেতে হলে আপনাকে ভিজিট দিতে হবে আটশো থেকে হাজার টাকা। সেদিন কিন্তু একশো ষাট টাকার একটা কার্ডেই সব হয়ে গিয়েছিল।প্রেগনেন্সিতে অন্য হসপিটালে ডাক্তারের ভিজিট আর একগাদা টেস্ট করতে যেয়ে আমরা মধ্যেবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা হিমশিম খাই।কিন্তু সেখানে আদ্ দ্বীন হসপিটাল খুবই কম মুল্যে আমাদের সেবা দান করে যাচ্ছে। অন্য কোথাও এ্যম্বুলেন্স নিতে গেলে দেড় দুহাজারের নিচে হয়না।সেখানে আদ্ দ্বীন সম্ভবত সাড়ে তিনশো না আড়াইশো টাকায় সার্ভিস দিচ্ছে। চোখের ছানি নিয়ে একটা হতদরিদ্র লোককে জিগ্যেস করুন,তারা আদ দ্বীনের কথাই বলবে।অন্যান্য হসপিটালের সাথে তুলনা করলে ও আদ্ দ্বীন হসপিটালের সেবার মান ও খরচ খুবই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত বান্ধব। গরীবের পাশে থাকা এমন একটা হসপিটালের লাইসেন্স বাতিল সত্যিই খুবই দুঃখজনক। দূর্ঘটনা কমবেশি সব হসপিটালে হয়।তাই বলে সব হসপিটালের কি লাইসেন্স বাতিল হয়?

[ ফেসবুকে ইশরাত জাহান শান্তা:  https://www.facebook.com/share/p/1BHdAcHUSL ]