শুক্রবার,

০৩ জুলাই ২০২৬

|

আষাঢ় ১৮ ১৪৩৩

XFilesBd

দক্ষিণ সিটির ২২ নং ওয়ার্ডের আগামীর প্রত্যাশা

হাজারীবাগ এলাকা হবে রাজধানীর মডেল: কাউন্সিলর প্রার্থী আনিসুর রহমান শিপলু

আহমেদ সাহিদ

প্রকাশিত: ০১:৩৭, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

হাজারীবাগ এলাকা হবে রাজধানীর মডেল: কাউন্সিলর প্রার্থী আনিসুর রহমান শিপলু

 

রাজধানীর হৃৎপিণ্ড ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২২ নং ওয়ার্ড। হাজারীবাগের এই জনপদটি যেমন ঐতিহ্যের ভারে ন্যুব্জ, তেমনি নাগরিক সমস্যায় জর্জরিত। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমতের গতিপ্রকৃতি বুঝতে এক্সফাইলস অনুসন্ধান কথা বলেছে এই এলাকার আপামর জনগনের সঙ্গে। ২২ নং ওয়ার্ড চষে বেড়ায়, কথা বলে সাধারণ ভোটার ও বাসিন্দাদের সাথে। সেখানে উঠে এসেছে বঞ্চনার খতিয়ান আর পরিবর্তনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা।

জনদুর্ভোগের মানচিত্র: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান

অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় পা রাখলেই চোখে পড়ে নাগরিক সংকটের ক্ষত। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে আলাপকালে তাদের অভিযোগ ও প্রত্যাশার এক দীর্ঘ তালিকা উন্মোচিত হয়। ভোটারদের মতে, ২২ নং ওয়ার্ডের প্রধান অভিশাপ হলো মাদকের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য আস্তানা। যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এই মাদক নির্মূল এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া রয়েছে নীরব চাঁদাবাজির দাপট, যা সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওষ্ঠাগত করে তুলেছে। নাগরিক সেবার মান নিয়ে বাসিন্দারা চরম ক্ষুব্ধ। মশা-মাছির উপদ্রব আর অসহনীয় যানজট এখানকার নিত্যসঙ্গী। এর সাথে যুক্ত হয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট, যা গৃহিণীদের দৈনন্দিন জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। অভাব রয়েছে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও একটি সরকারি হাসপাতালের। এলাকার ভোটাররা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যিনি এই সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেবেন এবং তা বাস্তবায়নের সক্ষমতা রাখবেন, তাকেই তারা বেছে নেবেন।

মাঠপর্যায়ে জনপ্রিয়তার সন্ধানে: আনিসুর রহমান শিপলু

অনুসন্ধানী দল যখন জনমতের ভিত্তি খুঁজছে, তখন স্থানীয়দের মুখে বারবার উচ্চারিত হয়েছে একজন প্রার্থীর নাম— হাজারীবাগ থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং ২২ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান শিপলু। দীর্ঘ রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি এখন এলাকার সাধারণ মানুষের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন। আমাদের প্রতিনিধি দল তার মুখোমুখি হলে তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রাম ও আগামীর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। আনিসুর রহমান শিপলু বলেন,

“বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অমানবিক জুলুম আর নির্যাতনের শিকার হয়েও আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। ৩৫টির বেশি রাজনৈতিক মামলার বেড়াজালে ৬-৭ মাস কারাবরণ করেছি, তবুও এলাকাবাসীকে ছেড়ে যাইনি।”

 নির্বাচনী স্বচ্ছতার দাবি

২০২০ সালের নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সে সময় এলাকাবাসীর বিপুল সমর্থন ও ভোট পেলেও তৎকালীন সরকার তার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। এবার তিনি এলাকাবাসী ও ভোটারদের প্রচণ্ড চাপে আবারও প্রার্থী হচ্ছেন। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে তার কণ্ঠে শঙ্কা ও দাবি দুই-ই ফুটে উঠেছে। তার মতে, এলাকায় বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ও ‘গুপ্ত ভোটার’ রয়েছে, যা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে পারে। তাই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মডেল ওয়ার্ড গড়ার অঙ্গীকার

নির্বাচিত হলে তার অগ্রাধিকার কী হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে শিপলু অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, তিনি নির্বাচিত হলে এলাকাবাসী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাথে নিয়ে পুরো ওয়ার্ডকে সম্পূর্ণ ‘মাদক মুক্ত’ করবেন। এছাড়া দলীয় সমর্থন পেলে তিনি সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে তদবিরের মাধ্যমে তীব্র গ্যাস সংকট দূর করা এবং শিশুদের জন্য একটি আধুনিক খেলার মাঠ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন। আনিসুর রহমান শিপলু বলেন, “আমি আপনাদের সন্তান হিসেবে আপনাদের দোয়া চাই। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ২২ নং ওয়ার্ডকে আমি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একটি আধুনিক ও মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলবো, ইনশাআল্লাহ।”

২২ নং ওয়ার্ডের অলিগলিতে এখন শুধু নির্বাচনের অপেক্ষা নয়, বরং একটি বাসযোগ্য ও নিরাপদ আবাসের স্বপ্ন। সাধারণ ভোটাররা এখন সচেতন। তারা চান এমন একজন প্রতিনিধি, যিনি সংকটে পাশে থাকবেন এবং হাজারীবাগের এই জনপদকে জঞ্জালমুক্ত করবেন। ‘নগর পরিক্রমা’র এই অনুসন্ধানে এটি স্পষ্ট যে, যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের প্রতিই সাধারণ মানুষের ঝোঁক এখন প্রবল। আগামী নির্বাচনই বলে দেবে, কার হাত ধরে সূচিত হবে ২২ নং ওয়ার্ডের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন