রোববার,

১৬ মে ২০২১

|

জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪২৮

XFilesBd

শিরোনাম

নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ঈদ উদযাপনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ নেই: স্বরাষ্টমন্ত্রী আজ থেকে সড়কে গণপরিবহন চালু শিবচরে বাল্কহেড ও স্পিডবোট সংঘর্ষ, নিহত ১৭ অতিরিক্ত ডিআইজি হলেন হারুন-অর-রশিদ করোনায় দরিদ্রদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ১০ কোটি টাকা ব্যক্তিগত অনুদান রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মৃদৃ ভূমিকম্প অনুভূত করোনা মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে : ওবায়দুল কাদের পুলিশ ৬ ডায়েরি উদ্ধার করেছে মুনিয়ার ফ্ল্যাট থেকে মে মাসেই আসতে পারে রাশিয়ার টিকার ৪০ লাখ ডোজ করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সার্বিক সহযোগিতা দিতে আগ্রহী চীন ‘মামুনুলকে জামিন দিলে আবারও জ্বালাও-পোড়াও হতে পারে’ ২৬ বছরের ইতিহাসে ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আজ চলমান লকডাউন থাকবে আরও ৭ দিন কুয়েতে পাপুলের কারাদণ্ড আরও ৩বছর বাড়লো দোকানপাট-শপিংমল খোলা থাকবে রাত ৯টা পর্যন্ত কওমি মাদ্রাসায় সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করোনা মোকাবেলায় ৫৭৪ কোটি ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী করোনাকালীন সহায়তা পাবেন দুই হাজার সাংবাদিক ঈদের জামাত বিষয়ে সিদ্ধান্ত ২৭ এপ্রিল স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আবারও কঠোর লকডাউন : ওবায়দুল কাদের আগামী মে মাসে ২১ লাখ টিকা পাবে বাংলাদেশ করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ১০২ জন মৃত্যুর রেকর্ড দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ লাখ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেবে প্রধানমন্ত্রী হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক গ্রেফতার দেশে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ১০১ জনের মৃত্যু বিশ্বব্যাপী করোনার তাণ্ডব থামছে না শনিবার থেকে ৫টি দেশে প্রবাসীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটে চালু খালেদা জিয়া চিকিৎসা নেবেন বাসায় থেকেই সামুদ্রিক জলসীমায় ৬৫ দিন মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সমাহিত মতিন খসরু খালেদা জিয়াকে ‘হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে’ দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যু ১০ হাজার ছাড়িয়েছে চিরায়ত বৈশাখের উৎসবে নেই প্রাণের উন্মাদনা দেশে ৮ দিনের সর্বাত্মক লকডাউন শুরু একুশে টেলিভিশনের একুশতম জন্মদিন আজ করোনা পরিস্থিতিতে বাংলা বর্ষবরণ উদযাপন হবে প্রতীকী তারাবীসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে ২০ জন মুসল্লি অংশ নিতে পারবে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী মিতা হক আর নেই খালেদা জিয়া করোনা আক্রান্ত : স্বাস্থ্য অধিদফতর চলমান লকডাউনের ধারাবাহিকতা চলবে ১২ ও ১৩ এপ্রিল : ওবায়দুল কাদের করোনায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭৭ জনের মৃত্যু ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউনে যাচ্ছে সরকার-জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী করোনায় কর্মহীন মানুষদের জন্য ৫৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ মানুষকে বাঁচাতে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আভাস প্রধানমন্ত্রীর আগামীকাল ৯-৫টা শপিংমল-দোকান খোলা থাকবে বাংলাদেশকে এক লাখ ডোজ করোনার টিকা উপহার দিলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড টেক্সাসেই দাফন হবে সেই বাংলাদেশি পরিবারের লাশ জনসমাগম এড়িয়ে ভার্চুয়ালি নববর্ষ উদযাপন করতে হবে ভ্যাকসিন নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে করোনায় আক্রান্ত বুধবার থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় বাস চলবে : ওবায়দুল কাদের করোনা মোকাবেলা করাই সরকারের চ্যালেঞ্জ : সেতুমন্ত্রী করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্তের রেকর্ড রমজানে অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা এসএসসির ফরম পূরণ স্থগিত লকডাউনের কারণে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা উন্নয়নের পূর্বশর্ত : প্রধানমন্ত্রী করোনায় একদিনে দেশে শনাক্তের রেকর্ড ৭০৮৭, মৃত্যু ৫৩ আগামীকাল থেকে গণপরিবহন বন্ধ : ওবায়দুল কাদের সংসদ সদস্য আসলামুল হক মারা গেছেন এক সপ্তাহের লকডাউনের ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সুগা আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হবে : ওবায়দুল কাদের নোভাভ্যাক্স ভ্যাকসিন মারাত্মক কোভিডের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকরী দেশের প্রতিটি উপজেলায় বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী বিএনপি’র ৭ মার্চ পালনের ঘোষণা রাজনৈতিক ভন্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয় : ওবায়দুল কাদের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ প্রতিবেশী দেশের সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে-প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করোনার ভ্যাকসিন নিলেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু ২৪ মে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কবে থেকে কীভাবে খোলা যায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ঢাবির ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু ৮ মার্চ টিকাদান কার্যক্রমে ৪শ’ কোটি মার্কিন ডলার সহযোগিতার অঙ্গীকার বাইডে রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার আশ্বাস ব্যবসায়ীদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ঢাকার আকাশে উড়বে ৮০০ ড্রোন নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশের দল ঘোষণা নোয়াখালির কোম্পানীগঞ্জে কাদের মির্জা-বাদল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিভাতা ২০ হাজার টাকা করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর রবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের জরুরি তলব বিএসইসির সারাদেশে এ পযর্ন্ত করোনা টিকা নিয়েছেন ১১ লক্ষাধিক মানুষ ইয়েমেনে দেড় কোটি মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে: জাতিসংঘ সশস্ত্র বাহিনীকে বাধা দিলে ২০ বছর পর্যন্ত কারদণ্ড পটিয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে কাউন্সিলর প্রার্থীর ভাই নিহত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ল ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবারও বাড়বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঢাকা টেস্টে দ্বিতীয় দিনেই চাপে বাংলাদেশ আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ হবে হাইকোর্ট নির্দেশ দিলে: তথ্যমন্ত্রী সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করেই শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরানো হবে : শিক্ষামন্ত্রী শীতের আবহ আরও সাত দিন থাকতে পারে সারাদেশে এ পর্যন্ত করোনা টিকা নিলেন ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৬৯ জন মানুষ আদর্শবিহীন রাজনীতি টিকে থাকতে পারে না :প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে তৃতীয় দিনে টিকা নিলেন ১ লাখ ৮২ জন যেকোনো সময় খুলবে স্কুল, টিকা নিতে হবে শিক্ষকদের ভিন্ন ইমেজের সিনেমায় তাহসান বিএনপির আন্দোলন হবে কোন বছর, জানতে চান ওবায়দুল কাদের শেখ হাসিনার দূরদর্শিতার কারণেই মাত্র ৫ ডলারে ভ্যাকসিন পাচ্ছেন বাংলাদেশের মানুষ : আইনমন্ত্রী সারাদেশে প্রথম দিনে টিকা নিলেন ৩১ হাজার ১৬০ জন আগামীকাল সারাদেশে টিকা বিতরণ শুরু, এখন পর্যন্ত নিবন্ধন হয়েছে ৩ লাখ ২৮ হাজার আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরায় প্রচারিত ‘All the Prime Minister’s Men’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদলিপি স্বশিক্ষায় শিক্ষিত এক শিল্পীর জীবনকথা মোবাইল অতি-আসক্তি : চক্ষু হাসপাতালে বাড়ছে শিশু রোগী কৃষি ভিত্তিক শিল্প আমরা গড়ে তুলতে চাই-প্রধানমন্ত্রী টিকা বিতরণে এখনও উন্মুক্ত হয়নি মোবাাইল এ্যাপ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১২ জনের মৃত্যু শিশুর হাতে স্মার্টফোন দেওয়ার পূর্বে করণীয় কি ? রাশিয়ার তৈরি করোনা ভ্যাকসিন ৯২ শতাংশ কার্যকর মিয়ানমারের নতুন করে নিয়োগ পেলো এগারো মন্ত্রী সাকিবের খেলা নিয়ে যা বললেন কোচ শব্দ করে পড়ার অভ্যাস আমাদের ঐতিহ্য : ড. আরেফিন সিদ্দিক চীনে তৈরি হচ্ছে ভুয়া ভ্যাকসিন’,গ্রেফতার ৮০ বাংলাদেশ আশা করছে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত থাকবে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া এখন সময়ের দাবি বাংলাদেশের প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিবের চিঠি বাংলাদেশের কাছে করোনা টিকা চায় হাঙ্গেরি ও বলিভিয়া তীব্র শীতের কবলে দেশ মিরপুরে বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ ফলাফলের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমায়েত নিষিদ্ধ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম পিছিয়ে পড়ছে

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম পিছিয়ে পড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:০৮, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ০০:০৯, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগের কারণে  শিক্ষা কার্যক্রম  পিছিয়ে পড়ছে

ছবি: সংগৃহিত

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী আবির হোসাইন। বছরের অধিকাংশ সময় নির্বিঘ্নে বিদ্যালয়ে যেতে পারে না এ শিক্ষার্থী। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টিসহ নানা দুর্যোগে চলাচলের রাস্তা কোমর পানিতে তলিয়ে যায়। এতে কার্যদিবসের প্রায় অর্ধেক দিনই বিদ্যালয়ে যাওয়া হয় না তার। আবার কখনো যেতে পারলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পাঠদান হয় না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগের কারণে এভাবে শিক্ষা কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন স্থানের শিক্ষার্থীরা। জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ৭৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর পড়ালেখায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

চলতি মাসের শুরুতে ‘রাইজিং টু দ্য চ্যালেঞ্জ ইয়ুথ পারসপেকটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকাশ করে ইউনিসেফ। বাংলাদেশের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৫ হাজার ৫৮৬ শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। তাদের মধ্যে ৫১ শতাংশের বয়স ছিল ১৫ থেকে ১৯ বছর ও ৪৯ শতাংশের বয়স ছিল ২০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশ গ্রামের ও ৪০ শতাংশ শহরের বাসিন্দা।

ইউনিসেফের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পড়ালেখায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের। জরিপে অংশ নেয়া ৭৮ শতাংশ নেতিবাচক এ প্রভাবের কথা জানিয়েছে। ২৩ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত যেতে না পারার কথা বলেছে। উপস্থিতি ও প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা চালিয়ে নিতে পরিবারের অক্ষমতা রয়েছে ১৮ শতাংশের ক্ষেত্রে। এছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অবকাঠামো সুবিধা ভেঙে পড়া, শিক্ষকদের অনুপস্থিতি ও অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি হয়। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।

জরিপে অংশ নেয়া এক শিক্ষার্থী জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর তার এলাকায় অনেক বন্যা হয়। এতে স্থানীয় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ ডুবে যায়। কোনো কোনো সময় স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ডুবে যায়। তখনো সেখানে ক্লাস করা সম্ভব হয় না। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। অনেকে লেখাপড়া বন্ধ করতে বাধ্য হয়। দরিদ্ররা আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রামের শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাদের বই-খাতা পর্যন্ত ভেসে যাচ্ছে। ২০০৭ সালে স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করে একাডেমিক ক্যালেন্ডার করা হলেও পরে তা আর আলোর মুখে দেখেনি। শিক্ষার্থীরা যেন ঝরে না পড়ে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্যালেন্ডারসহ আরো বেশকিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। আর নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে।’

জরিপে বলা হয়, দেশের ৭০ শতাংশ কিশোর-তরুণ জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। যার মধ্যে ৪৫ শতাংশ খুব বেশি উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছে। বিভিন্ন তরুণের মতো সদ্য উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পার করা রওশন জাদিদ রাফি জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানায়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যের ক্ষতির বিষয়টিও উদ্বেগজনক।

গত বছরের জুনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য এবং পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) বলছে, ২০১৯ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৪৯২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১ হাজার ৪৭৭টি জুনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৩ হাজার ৬০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৯৬৮টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ২ হাজার ৪৮৭টি কলেজ এবং ৬ হাজার ৯৭৭টি মাদ্রাসা ক্ষতির মধ্যে পড়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত উপস্থিতির হার বাড়ছে। ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের স্থানান্তর, শিক্ষা উপকরণের ক্ষতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি পরিশোধে অক্ষমতা, বাড়ির কাজে বাবা-মাকে সাহায্য করা, উপার্জনে নেমে পড়া, ভবিষ্যৎ পড়াশোনার বিষয়ে উদাসীনতা, স্কুলে নিরাপত্তা বোধ না করা, যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি অনিয়মিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শিক্ষকদের উপস্থিতিও বিভিন্নভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষার সঙ্গে স্বাস্থ্যেরও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কোনো এলাকায় পানি বেশি হবে, কোনো এলাকায় পানি কম হবে। কৃষির ক্ষতি হচ্ছে। এর প্রভাব পশুপাখির ওপরও পড়ছে। খাদ্যের অপর্যাপ্ততা দেখা দিচ্ছে। দুর্যোগে মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিচ্ছে। ছোট জায়গায় একসঙ্গে অনেক বেশি মানুষ থাকার কারণে পানিবাহিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চর্মরোগ, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়াচ্ছে। পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক রাখা যাচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরামর্শক ডা. মুশতাক হোসেন।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন এক বড় ধরনের সমস্যা বলে উল্লেখ করেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে খাদ্যের ঘাটতি। এ সংকট প্রকট। দিন দিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। স্কুলের বাচ্চারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন রাতারাতি রোধ করা সম্ভব না। তবে আমরা পরিবেশবান্ধব নীতি নির্ধারণ করে কিছুটা ঠিক রাখতে পারি। স্কুলের বাচ্চারাও যেন ক্ষতির মুখে না পড়ে, এজন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া দরকার।’

মূলত আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলংকার ১০ ভাষাভাষীর ওপর জরিপটি চালানো হয়। এতে ২৫ হাজার ৮২৬ জন অংশগ্রহণ করে। গত বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার তারা ইউনিসেফকে তথ্য দেয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, ‘দেশের দক্ষিণাঞ্চলে এর প্রভাব বেশি। তবে আমাদের যথেষ্ট গবেষণা নেই। বিশদ গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।’

দুর্যোগের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যাহত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশের সব স্থানের দুর্যোগ ও আবহাওয়া এক নয়। স্থানভেদে দুর্যোগ ভিন্ন হয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দুর্যোগ হয়। এজন্য দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একসঙ্গে বন্ধ হবে ও একসঙ্গে খুলতে হবে—এমনটি জরুরি নয়। রাজধানীর স্কুল বন্ধের সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুল বন্ধ হওয়ার সম্পর্ক নেই।’