অপরিমেয়
রবিন বরকত উল্যাহ
সাগর কখনো জল মাপতে পারে না—
তার অগাধ নীরবতায়।
চাঁদ যেমন আলোর রহস্য ভেদে ব্যর্থ
মন জানে না বেদনার পরিণতি।
চোখ জলের উৎস,
সপ্ন কী জানে ? তার অপুর্নতার খবর ,
আকাশও জানে না তার আশ্চর্য বিশালতা ,
জীবন জানে না তার গন্তব্য ।
ব্রহ্মপুত্রের চরে নেমেছে পৌষের আকাশ
রবিন বরকত উল্যাহ
ব্রহ্মপুত্রের চরে নেমেছে পৌষের আকাশ,
ঘন কুয়াশার আড়ালে
দেখা যায় না
দল বাঁধা পাখিদের মহড়া,
কিচিরমিচির আনন্দ।
দেখা যায় না
বন্য আর দলছুট
অতিথি পাখিটার
জলে ভাসা প্রেম—
ঢেউয়ের গায়ে গায়ে লেখা
নীরব চিঠির মতো।
চরজুড়ে শুধু শীত, শুধু শীত।
ভেজা বালুর বুকের ভেতর
হাঁটার শব্দও আজ ক্লান্ত,
আকাশ যেন ভুলে গেছে
রোদ্দুরের ঠিকানা।
কুয়াশার ওপারে
ডানা মেলে থাকা স্বপ্নগুলো
চোখে পড়ে না,
তবু বাতাসে ভাসে
এক অদৃশ্য ডাক।
পাখিরা উড়ে উড়ে গল্প বলে —
শুনতে পায় কবিদের মন,
তারা জেগে ওঠে
এক অলৌকিক আনন্দে।
দেখা না গেলেও
ভাষা খুঁজে পায়
এক অন্যরকম অনুভব।
জলশিশু
---- রবিন বরকত উল্যাহ
নদীটা যেন রুপালি ক্যানভাস ,
ওপারেই সবুজের অন্ধকারে ছায়াপড়া পৌরাণিক দেবদূত,
বাতাসে ভীত বিস্তৃত কচুরিপানা সরে যায় দলে দলে উত্তরে ।
নিথর সুন-সান যেন জল বৃষ্টির শব্দ বৈ-বেঁচে নাই অন্যথা ,
শিকারি চিলের পেটপুরে আহত জলশিশু ।
রক্ত গন্ধে বালিয়াড়ি টিলায়
উৎপাতে এক ঝাঁক বালি হাঁস,
প্রকৃতির নেমন্তন্নে মেতে ওঠা নির্দয় উল্লাস ।
মনে হয় পাবনা বিল আজ স্রোতস্বিনী নদী
হয়তো নদীটাই আর নেই নদী
রুপাতে রূপান্তর রুপার সাগর
সে যেন এক রুপালি ক্যানভাস।
