দেশবরেণ্য সাংবাদিক একুশে টেলিভিশনের বিদায়ী প্রধান বার্তা সম্পাদক বিশিষ্ট কবি ও গবেষক ড. অখিল পোদ্দারের দিদিমা অনিমা রানী মারা গেছেন। মৃত্যকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০২। তিনি চার মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। তাঁর বড় মেয়ে ও জামাই (অখিল পোদ্দারের মা ও বাবা) ইতোমধ্যে প্রয়াত হয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী জেলার বানীবহ গ্রামে নিজ বাড়িতে (১৫ মার্চ ২০২৬) রোববার রাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। যদিও অনেকদিন ধরেই তিনি শয্যাশায়ী। ঐদিন রাতের শেষ প্রহরে অর্থাৎ ১৬ মার্চ বানীবহ শশ্মানে তাঁকে দাহ করা হয়।
দিদিমার স্মৃতি রোমন্থন করে ড. অখিল পোদ্দার ফেসবুকে লিখেছেন- ‘কিছুক্ষণ আগে দিদিমা মারা গেলেন। আমার কৈশোর উপভোগের অনবদ্য পীঠস্থান রাজবাড়ী। সেখানকার ঐতিহ্যবাহী গ্রাম বানীবহের বটপাকুড়ের মতো তিনিও প্রাচীন। ছোটবেলায় তাঁর ট্রাংক খুলে আবিষ্কার করেছিলাম মা’র সবুজ সাথী বই। আম গাছের ডালে শুয়ে-বসে মা’র আরও সব বই পড়তাম। মেয়ের বিয়ের পর দিদিমা হয়তো এসব স্মৃতি ইঁদুর-মাটির মতো বহন করেছিলেন। নিরবে কাঁদতেন-যখন তাঁর বড় মেয়ের কথা মনে পড়ত। অন্যদের মতো মামাবাড়ির প্রতি বরাবরই আমার অহেতুক টান। শৈশবে দেখেছি- বহরপুর স্টেশনে নেমেই মাটি ছুঁয়ে প্রণাম করতেন মা। বুঝতাম-তিনি তাঁর টেরিটোরিতে প্রবেশ করলেন। রাজবাড়ী তাঁর রাষ্ট্র। ফরিদপুরের লোকজন পেলে তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারতেন না। তারপর কত বছর, কতো শত স্মৃতি।
মা’র মৃত্যুর পর যখন দিদিমার সঙ্গে দেখা করতে গেলাম-জড়িয়ে ধরে সে-কি কান্না। আমার সঙ্গে মা’র মধুর সব স্মৃতি দ্বিধাহীনভাবে বলতে লাগলেন আর কাঁদলেন। মৃত্যু কামনা করে বললেন-আমিও যেনো মেয়ের কাছে চলে যাই তাড়াতাড়ি।
দিদিমার বড় মেয়ের ছোটছেলে আমি। বিশাল পরিবারের সুবিশাল উঠোনে প্রত্যেক বছর কারও না কারও বিয়ের অনুষ্ঠান বসতো। সে-ই আমাদের অনন্ত আনন্দ। বছর ধরে আমরা অসংখ্যা নাতি নাতনি আর নিকটজনেরা প্রতীক্ষায় থাকতাম। ওপারে ভাল থাকবেন দিদিমা। নিশ্চয়ই মেয়ের সঙ্গে এতোক্ষণে দেখা হয়েছে আপনার।’
উল্লেখ্য, প্রয়াত অনিমা রানীর মেজো মেয়ের একমাত্র ছেলে সুমন বিশ্বাসও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল-২৪ এর রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি। ড. অখিল পোদ্দার অনুসন্ধানী পত্রিকা এক্সফাইলসের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক এবং আইপি টিভি মিডিয়া নেট-এর চেয়ারম্যান।
