বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ইস্কান্দার মজুমদার এবং মাতার নাম বেগম তৈয়বা মজুমদার। ১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে জিয়াউর রহমানের সহিত তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীরউত্তম) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দল (বিএনপি) গঠন করেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করার কিছুদিনের মধ্যে তাঁর দেশ গঠনের কর্মকান্ড দেখে দলটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয় বিএনপি এবং মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর দেশ গঠনের ১৯ দফা কর্মসূচি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সাদরে গ্রহণ করেন এবং নিরঙ্কুশ সমর্থন জানান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের কারণে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল উচ্ছৃঙ্খল সেনাসদস্যের বুলেটের আঘাতে শহিদ হন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে সারাদেশের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তিনি ছিলেন একজন সৎ নিষ্ঠাবান এবং দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা এবং রাষ্টপ্রধান।
১৯৮১ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘যদি কিছু মনে না করেন’ এর একটি পর্বে খ্যাতিমান উপস্থাপক ফজলে লোহানী বেগম খালেদা জিয়ার একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। সাক্ষাৎকারে ফজলে লোহানীর এক প্রশ্নের উত্তরে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘চাকরিকালীন জেনারেল জিয়াউর রহমান তাঁকে প্রতিমাসে বেতনের দুই হাজার টাকা দিতেন এবং রেশনের চাল, ডাল এবং তেল দিয়েই তিনি কোনো রকম সংসার চালাতেন’। ফজলে লোহানীর আরেক প্রশ্নের জবাবে বেগম খালেদা জিয়ার দুই শিশু পুত্র তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকো বলেন, তাঁদের আব্বার জামা এবং প্যান্ট কেটে ছোট করে দিতেন এবং সেগুলো তাঁরা ব্যবহার করতেন। তারেক রহমানের গায়ে সেদিন যে শার্টটি ছিলো সেটি তাঁর আব্বার শার্ট ছোট করে কেটে পরেছিলেন এবং আরাফাত রহমান কোকো বলেছিলেন, তাঁর পরা প্যান্টটি তাঁর আব্বার প্যান্ট কেটে ছোট করে পরেছেন। ফলে আপনারা সহজেই অনুমান করতে পারেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কতটা সৎ মানুষ ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুর পর বিচারপতি আব্দুস সাত্তার বিএনপির দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং জনগণের ভোটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ বন্দুকের নলের ভয় দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের নিকট থেকে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। আর তখন থেকেই শুরু হয় এরশাদ সরকারের স্বৈরশাসন। স্বৈরশাসক এরশাদ ক্ষমতা দখল করার ফলে রুদ্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। বিএনপি তখন নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমানের বিকল্প হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মতি জানিয়ে ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল বেগম খালেদা জিয়া দলের বর্ধিত সভায় যোগদান করেন এবং বক্তব্য রাখেন। বিচারপতি আব্দুস সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে বেগম খালেদা জিয়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। তারপর তিনি শুরু করেন এরশাদ বিরোধী আন্দোলন। ১৯৮৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের জন্য ৭ দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। বেগম খালেদা জিয়ায় প্রথম বিএনপিকে নিয়ে ১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ৭ দলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট গঠিত হয়। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় জোট এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট যৌথভাবে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বেগম খালেদা জিয়া দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন স্বৈরশাসক এরশাদ সরকারের পতন ছাড়া তিনি ঘরে ফিরে যাবেন না এবং এরশাদের অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত এরশাদ বিরোধী পাঁচ দফা আন্দোলনের কর্মসূচি চলতে থাকে। জেনারেল এরশাদ ১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। ওই বছরই শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে বিশাল জনসভায় ঘোষণা করেন, ‘স্বৈরশাসক এরশাদের অধীনে যাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন তাঁরা জাতীয় বেঈমান হিসেবে বিবেচিত হবেন।’ কিন্তু শেখ হাসিনা সেদিন তাঁর কথা রাখতে পারেননি। ১৯৮৬ সালের ২১ মার্চ রাতে সম্পূর্ণ নাটকীয়ভাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ফলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে বাধার সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৫ দল ভেঙ্গে ৮ দল ও ৫ দল গঠিত হয়। ৮ দল এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। ১৯৮৬ সালের ওই নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও আওয়ামী লীগের সঙ্গি হিসেবে এবং নির্বাচনকে বৈধতা দেয়ার জন্য অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে থাকা ৭ দল এবং ৫ দলীয় বাম গণতান্ত্রিক ঐক্যজোট আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে এবং নির্বাচন প্রত্যাখান করে।
১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া ‘এরশাদ হটাও’ শীর্ষক এক দফার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা সফর করে জনমত গঠন করেন। এক পর্যায়ে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সকল জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে দাঁড়ান বেগম খালেদা জিয়া। গৃহিণী থেকে রাজনীতিতে এসে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন। পরিচিতি পান জনগণের নেত্রী হিসেবে।
বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে স্বৈরশাসক এরশাদ কোন উপায়ন্ত না দেখে পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেন এবং ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে করতে গিয়ে এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন সফল করতে গিয়ে তিনি ১৯৮৩ সালের ১৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে এবং ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর আটক হন এবং কারাভোগ করেন। আটক হওয়ার পর বিএনপি নেত্রী আন্দোলনের ব্যাপারে আরো বিমূর্তরূপ ধারণ করেন। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অসামান্য এবং সাহসী ভূমিকা রাখার জন্য এবং এরশাদের সহিত কোন ধরনের আপস না করার কারণে বাংলাদেশের জনগণ তাঁকে আপসহীন নেত্রীর খেতাবে ভূষিত করেন। এরশাদ পদত্যাগ করার পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ১৪০ আসনে জয়লাভ করে এবং জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে এবং বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তিনি পাঁচটি আসনে জয়লাভ করেন। কোন দলের প্রধান হিসেবে একমাত্র বেগম খালেদা জিয়ায় কোন জাতীয় নির্বাচনে পরাজয়বরণ করেননি।
এরপর ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর শেখ হাসিনা ঢাকায় লগি-বৈঠার আন্দোলনের ডাক দিলে পল্টনে ৬ জন জামায়াত-শিবির কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ২০০৭ সালের পহেলা জানুয়ারি সেনাবাহিনীর সমর্থনে ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর মঈনুদ্দিন-ফকরুদ্দিন বিএনপিকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ভেঙ্গে দ্বিখ-িত করে। শেখ হাসিনা বিদেশে পাড়ি জমান। বেগম জিয়াকে বিদেশে চলে যাওয়ার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলপ্রয়োগ করতে থাকে। কিন্তু তিনি বিদেশ যেতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন বাংলাদেশের জনগণকে ছেড়ে তিনি বিদেশ যাবেন না। বেগম খালেদা জিয়া দৃঢ়তার সহিত বলেন, ‘বাংলাদেশের বাইরে তাঁর কোন ঠিকানা নেই। বাংলাদেশই তাঁর প্রাণের আশ্রয়স্থল।’ এক পর্যায়ে বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। শেখ হাসিনা কারাগার থেকে বের হয়ে মঈনুদ্দিন-ফকরুদ্দিন সরকারের সকল কাজের বৈধতা দেয়ার শর্তে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তিনি ক্ষমতায় আসেন। বেগম জিয়া গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র জেনেও নির্বাচণে অংশগ্রহণ করেন। ১/১১ সরকারের সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পথ যেনো রুদ্ধ না হয়ে যায় সেই কারণে বিএনপি ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে এবং শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে শেখ হাসিনার ইচ্ছার প্রতিফলন স্বরূপ প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক জনআকাঙ্খার বিপরীতে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে দেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্বতি বাতিল করার পর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনে বিএনপির লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর নামে রাজনৈতিক হয়রানি মূলক মামলা দায়ের করা হয়। অসংখ্য নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হন এবং ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। এরই মধ্যে ২০১৪ সালে দশম, ২০১৮ সালে একাদশ এবং ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় সরকারের অধীনে এই সকল নির্বাচন বিএনপিসহ বহু রাজনৈতিক দল প্রত্যাখান করেন। বাংলাদেশের জনগণ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতার নির্বাচন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিশিরাতের নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনকে আমি-ডামি নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সমুন্নত রাখার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকেন। বেগম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় ঈর্শ্বানিত হয়ে শেখ হাসিনা সরকার সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এবং বেগম জিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য একটি ফরমায়েসি রায়ের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ৫ বছরের কারাদ- দেয়। বেগম খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন স্যাঁতসেঁতে নিঝুম কারাগারে রাখা হয়। তাঁর সঙ্গী হিসেবে ছিলেন গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগম। জনমানবশূন্য এই কারাগারে ফাতেমা বেগম ছিলো তাঁর সুখ-দুঃখের সাথী এবং একমাত্র অবলম্বন। পুরাতন ভঙ্গুর কারাগারে থাকার ফলে বেগম খালেদা জিয়ার শরীরে নানা জটিল রোগ বাসা বাঁধতে থাকে। তাঁর পরিবার এবং দলের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা সরকারের নিকট উন্নত চিকিৎসার জন্য বারবার আবেদন করলেও তা প্রত্যাখান করা হয়। যেতে দেয়া হয়নি বিদেশে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের জন্য। ২০২০ সালে করোনার সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন শর্ত আরোপ করে নির্বাহী আদেশে তাঁকে কারামুক্ত করে বাসায় থাকার অনুমতি দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনের ফলে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তার শরীরে যেসকল জটিল রোগ বাসা বেঁধেছিল সেগুলোর সুচিকিৎসার জন্য ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান। তিনি ব্রিটেনের দি লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে দীর্ঘ চার মাস চিকিৎসা গ্রহণ শেষে দুই পুত্রবধু এবং আরো বেশ কয়েকজন সফরসঙ্গীকে নিয়ে ৬ মে সকাল দশটা চল্লিশ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানানোর জন্য হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং উৎসুক জনতা রাস্তার দুই পাশে অবস্থান করেন। আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত জনতাকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। অনেকে তখন মন্তব্য করেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশে ফিরে আসা দেশের গণতন্ত্র উত্তরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। অনেকে সেদিন মনে করেছিলেন, তিনি কেবল বিএনপির নেত্রী নন বরং তিনি বাংলাদেশের একজন অভিভাবক। দীর্ঘ চারদশক বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালনকালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি ছয়বার গ্রেফতার হন এবং কারাবরণ করেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের পথচলায় বেগম খালেদা জিয়ার মত এত ত্যাগ অন্য কোন নেতার নেই তা এক কথায় স্বীকার করা যায়।
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে সততার প্রতীক এবং বেগম খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথিকৃৎ। বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব এবং দৃঢ় মনোভাবের কারণে তাঁকে এদেশের মানুষ ‘গণতন্ত্রের মা’ বা ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ উপাধি দেন। ফলে বিএনপি করার প্রথম শর্ত হলো সততা এবং গণতন্ত্র সুরক্ষার ক্ষেত্রে আপসহীন থাকা।
গণতন্ত্রের বাতিঘর খ্যাত আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে যান। মহান আল্লাহপাক তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন।
মো. রবিউল ইসলাম
কবি ও লেখক
মোবাইল: ০১৩১৪-৮২৯৩১২
B-‡gBj: [email protected]
