বৃহস্পতিবার,

০৫ মার্চ ২০২৬

|

ফাল্গুন ২০ ১৪৩২

XFilesBd

সবার কাছে করলেন দোয়া প্রার্থনা

আজিমপুরে শায়িত হলেন কুষ্টিয়াবাসীর প্রিয় এ্যানী ভাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৩:০৯, ৫ মার্চ ২০২৬

আজিমপুরে শায়িত হলেন কুষ্টিয়াবাসীর প্রিয় এ্যানী ভাবি

গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে মতিউর রহমান লাল্টুর স্ত্রী এ্যানীর। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। শোক ও সমবেদনা জানাতে কুষ্টিয়া ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন মরহুমার শুভান্যুধ্যায়ী ও স্বজনেরা।

 পরিবারের ঘনিষ্টজন কবি রেজাউল শাহ’র মাধ্যমে জানা যায়,  গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মতিউর রহমান লালটুর স্ত্রী এ্যানী। লম্বা একটা সময় ধরে তিনি ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। মাঝে সুস্থ হয়ে ঢাকা ও কুষ্টিয়ার বাড়িতেও এসেছিলেন। এবার তিনি মূলত বোস্টনে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ক’দিন আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সদা হাস্যোজ্বল এ্যানী। এর পর থেকে বোস্টনের একটি বিখ্যাত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। মরহুমার জামাতা পুরোন ঢাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মেয়ে ফ্যাশন বিশেষজ্ঞ ও টিভি উপস্থাপক। একমাত্র ছেলে তানভীর ব্যবসা করেন।

এই পরিবারের অন্যতম ঘনিষ্টজন গরিবের চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ডা. আহসান নবাব। তাঁর দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়- কুষ্টিয়াবাসীর প্রিয় ব্যক্তিত্ব,পরোপকারী ও সমাজসেবক, সাংবাদিক মতিউর রহমান লালটুর জীবনসঙ্গিনী এ্যানী রহমান। কুষ্টিয়ার মানুষের কাছে তিনি এ্যানী ভাবি নামে পরিচিত। দেশের খ্যাতিমান হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর এস আর খান সাহেবের স্নেহাস্পদ ছোট বোন এ্যানী। বাংলাদেশের অনবদ্য ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনের মামী শাশুড়ি তিনি।

মূলত: সাংবাদিক মতিউর রহমান লালটুর বাড়ি ঘিরে একদা পরিচালিত হতো কুষ্টিয়া শহরের বহুমাত্রিক মানবতাবাদী কাজকর্ম। হরদম এ বাড়িতে নানান লোকজনের আসা যাওয়া ছিল। এ অনুষ্ঠান, সে অনুষ্ঠান লেগেই থাকত। তাতে বাড়ির গৃহকত্রী এ্যানী রহমানের ন্যুনতম বিরক্তিবোধ ছিল না। উপরন্তু তিনি মানুষ খাওয়াতে পছন্দ করতেন। এমনও দিন গেছে-সকাল দুপুর রাতে তিনটি অনুষ্ঠান হয়েছে। কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়ার ঐ বাড়ি ঘিরে বহু মানুষের হাজারো স্মৃতি রয়েছে।  

মতিউর রহমান লালটুর সাথে যোগযোগ করে জানা যায়,মরদেহ দেশে আনার জন্য এমিরেটস এয়ারে টিকিট কাটলেও দুবাইয়ের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হওয়ায় পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে হয় তাঁকে। তাঁর ভাষায়-দুবাইতে যেহেতু সব ধরণের বিমান ওঠানামা বন্ধ। তাই এমিরেটস কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের তার্কিস এয়ারে স্থানান্তর করে দেয়। বুধবার সকালে তারা ঢাকা পৌঁছায়। দীর্ঘপথে টানা ক’দিন ধরে প্রাণপ্রিয় স্ত্রীর মরদেহ একাকী বহন করতে গিয়ে মতিউর রহমান লালটুকে ভাবলেশহীন মরমী মানুষের মতোই দেখাচ্ছিল। তবু তিনি আজাদ মসজিদের জানাজা ও আজিমপুর কবরস্থানে দাফনকালে উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চান মরহুমার জন্য। পরিবারের জন্য দোয়া প্রার্থণা করেন সবার কাছে।  অশান্ত মধ্যপ্রাচ্যে আর যুদ্ধ দামামার কারণে মরদেহ বহনকারী বিমান গেল ক’দিন ধরে মাল্টা বিমানবন্দরে আটকা ছিল।

গুলশান- এর আজাদ মসজিদে জানাজাকালে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। অতপর আজিমপুর কবরস্থানের নিভৃত ছায়ায় তাঁকে সমাহিত করা হয় বিকেলে। কুষ্টিয়া-আমলাপাড়ার মমতাময়ী মানুষটিকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে আজিমপুরেও ছুটে যান শত শত মানুষ। মরহুমার জন্য সবার কাছে দোয়া চান সমাজসেবী মতিউর রহমান লালটু।