টেক্সাসের তপ্ত রোদে হিউস্টনের কেটি শহর যেন এক লহমায় পরিণত হয়েছিল দূর দেশের কোনো এক বাসন্তী জনপদে। যান্ত্রিকতার শিকল ভেঙে প্রবাসের আকাশে শিমুল-পলাশের রঙ ছড়িয়ে দিতে ‘বাংলা কিচেন এন্ড সুইটস’ আয়োজন করেছিল এক অনিন্দ্যসুন্দর বসন্ত উৎসবের। ইটের দেয়াল আর বিদেশের ব্যস্ত রাজপথের মাঝে এক টুকরো বাংলাদেশ যেন মূর্ত হয়ে উঠেছিল সেখানে।


অনুষ্ঠানের আঙিনায় পা রাখতেই নাকে আসছিল খাঁটি দেশি মিষ্টির ঘ্রাণ আর কানে বাজছিল বসন্তের সেই চিরচেনা সুর। বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের পদচারণায় মুখরিত এই মেলায় বিভেদ ছিল না কোনো; ছিল কেবল প্রাণের টান।

কেউ মিষ্টির রসে মুখ মিষ্টি করছেন, কেউবা মজেছেন গানের মায়াবী মূর্ছনায়। বাসন্তী শাড়ি আর উজ্জ্বল পাঞ্জাবির ভিড়ে কেটি শহর যেন হয়ে উঠেছিল একখণ্ড রমনা বটমূল। আগত অতিথিরা সবাই যেন ক্ষণিকের জন্য যান্ত্রিক ব্যস্ততা ভুলে বসন্তের ভালোবাসার রঙে নিজেকে বিলীন করে এক অনাবিল আনন্দে অবগাহন করছিলেন।এই আনন্দধারার মধ্যমণি হয়ে উপস্থিত সবাইকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান ‘বাংলা কিচেন’-এর পরিচালক বিশিষ্ট সাংবাদিক, কবি ও শিল্পী গোলাম ফারুক পারভেজ।
তার সাবলীল আতিথেয়তায় উৎসবটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। বসন্তের এই কাব্যিক আবহে গানে ও কবিতায় প্রাণের স্পন্দন ছড়িয়ে দেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রপ্রেমী ও শিল্পী এবং বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান খালেদ জুলফিকার খান।

প্রাঞ্জল ভাষায় বক্তব্য দিয়ে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেন হাসান সায়িদ, হাফিজ উদ্দিন ও জুলফিকার কার্ণি, ইফতেখার আলম লিটন, এবিএস রাব্বানীসহ অন্যান্য গুণী।

কবিতা আর গানের প্রতিটি ছন্দে ফুটে উঠেছিল শেকড় হারানো মানুষের নাড়ির টান। বর্ণিল ও নান্দনিক এই আয়োজনটি কেবল একটি অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি;

বরং তা টেক্সাসপ্রবাসী বাঙালিদের হৃদয়ে এক গভীর ভালোবাসার দাগ কেটে গেছে। প্রবাসের রুক্ষ মাটিতে দাঁড়িয়েও যে বাঙালি তার সংস্কৃতি আর ঋতুরাজকে এমন আপন করে নিতে পারে, এই উৎসব ছিল তারই এক জীবন্ত দলিল.

উল্লেখ্য, বিশিষ্ট সাংবাদিক গোলাম ফারুক পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে টেক্সাসের বাঙালিদের মধ্যে সুদৃঢ় মেলবন্ধন গড়তে কাজ করে যাচ্ছেন। সাংবাদিকতা ছাড়াও কমিউনিটির উন্নয়নে তিনি বিশেষভাবে ভূমিকা রেখে চলেছেন। ইতোমধ্যে গ্যাস স্টেশন, গ্রোসারি ও কনভিনিয়েন্ট শপ পরিচালনা করে সুনাম কুড়িয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন গোলাম ফারুক পারভেজ। এই প্রথম ট্রেক্সাস কেটির বাতাসে বাঙাল স্বাদের ঘ্রাণ ছড়াতে নবসাজে সজ্জিত করেছেন বাংলা কিচেন এন্ড সুইটস। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মি. পারভেজের আশা, লাভের জন্য নয় সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে বসেই যেনো মায়ের হাতের সেই রান্নার স্বাদ বাঙালি পেতে পারেন তার জন্যই মরিয়া এই সমাজসেবী।

