রোববার,

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

|

ফাল্গুন ২ ১৪৩২

XFilesBd

নতুন সূর্যোদয়ের পথে বাংলাদেশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার শপথ

সুব্রত সরকার

প্রকাশিত: ০৫:৪৬, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নতুন সূর্যোদয়ের পথে বাংলাদেশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার শপথ

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। গত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাওয়া এই নতুন প্রতিনিধিদের বরণ করে নিতে এখন প্রস্তুত বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হল। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ২০২৬-এর পরবর্তী শাসনকাল। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে, যা দেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বঙ্গভবনের চারপাশ সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এবারের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের চমক থাকতে পারে। দলের সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ ও প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন মুখকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে অর্থ, পররাষ্ট্র এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে কারা আসছেন, তা নিয়ে সচিবালয় থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের চায়ের আড্ডায় চলছে নানা সমীকরণ। দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রের খবর অনুযায়ী, এবারের মন্ত্রিসভায় ‘পারফরম্যান্স’ বা দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিগত দিনের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা আছে এমন ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। ১৭ তারিখের এই শপথ অনুষ্ঠান কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার নিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসছে, তার প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় কূটনৈতিক মিশনের প্রধানগণ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই বঙ্গভবন অভিমুখে বিশিষ্টজনদের পদচারণা শুরু হবে। দেশের মানুষ অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে এই দিনটির দিকে তাকিয়ে আছে, কারণ এই শপথের মাধ্যমেই শুরু হবে এক নতুন রাজনৈতিক পথচলা। নতুন এমপি এবং মন্ত্রীরা নিজ নিজ এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন, তার প্রথম পরীক্ষা শুরু হবে এই শপথ গ্রহণের পর থেকেই। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে আসা এই প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি তাই জাতীয় জীবনে এক অনন্য মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে।