লিলিথ
বিনয় কর্মকার
লিলিথের অধিকার মেনে নেয় না ঈশ্বর!
বিকল্প দরপত্রে তৈরি হয়েছিল ইভ।
একদিন এখানে পাখি পোষা হতো,
প্রাচীন অট্টালিকার গায়ে-গায়ে এখনো জড়িয়ে আছে ভাঙ্গা খাঁচা।
স্থির সুরাপাত্র কেঁপে-কেঁপে ওঠে! কামাতুর পুরুষের ঠোঁট খোঁজে চুমুক উছিলা---
রাতের উৎসব শেষ হলে, প্যান্ডেলের পাশে পড়ে থাকে, হ্যাজাক আলোয় পোড়া পতঙ্গ পাখনা, ম্যান্টলের সাদা ছাই---
ঘুঙুরের খসে পড়া ঘণ্টি থেকে খুঁজে নিয়েছি বাইজির ইতিবৃত্ত----
[] []
জাদুবাস্তব
বিনয় কর্মকার
পন্নগাঙ্কিত ক্যানভাসে কে বা শোভিত করে আপন নিবাস,
তাহলে কি সকলেই শান্তিদূত?
কেন বেড়ে ওঠে অজগর পথ, রাক্ষুসে হা-মুখ--
সাপে ভয় পাই তবু শিল্পের দায়, ক্যানভাসজুড়ে আঁকি মানুষের ছবি--
ম্যাজিক রিয়েলিজম হিস্-হিস্ শব্দ তুলে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে------
[] []
সংকেত
বিনয় কর্মকার
যতো পা-বাড়াই অন্ধকার বাড়ে।
কোথায় লুকালো থই-থই জোছনা? কার হাত ধরে নিরুদ্দেশ কৌমুদীবতী চাঁদ?
চোখ ছিল পঞ্জিকায় পূর্ণিমা তিথি--
হোঁচটে জানান দিলো ঘনিয়েছে মেঘ
[] []
শঙ্খসুর
বিনয় কর্মকার
সমুদ্রভ্রমণে গিয়ে;
যতবার তটে গড়েছি বালুর খেলাঘর, প্রিয়মুখ,
ভালোবেসে লিখেছি তোমার নাম---
ততবার মুছে গেছে, ভাসিয়ে নিয়েছে জোয়ারের জল।
ভাটায় পড়ে থাকা মৃত ঝিনুক, বিচিত্র কাঁকড়ার খোলসে লুকানো কান্না---
যতবার ভালোবেসে গলায় পরেছি, শামুকের বাহারি মালা,
শঙ্খে দম দিয়ে বুঝেছি কতটা তীব্র হয় বিরহী চিৎকার!!
[] []
ফলশ্রুতি
বিনয় কর্মকার
কী-পুষে রাখার আয়োজন বুকের ভেতর?
ঘৃণার থাবা, সুতীক্ষ্ণ নখ, কতকাল লুকিয়ে রাখা যায়?
প্রেমাস্পদে থাকে গোলাপের দ্যুতি, ঘৃণায় কাঁটা ----
বিসর্জিতা প্রতিমার শরীর ছাপিয়ে বেরিয়ে পড়ে বাঁশ-খড়ের কঙ্কাল।
মেহেদির রঙ মাধুর্য হারালে, দেখতে ঠিক যেন রক্তের দাগ---
[] [
