রাজধানী ঢাকার কোলাহল আর কংক্রিটের বেষ্টনী পেরিয়ে অদূরে আটিবাজারে দাঁড়িয়ে থাকা ছায়ানীড় ফুটবল গ্রাউন্ড যেন এক টুকরো স্বস্তির নিশ্বাস। যেখানে প্রতিদিন বিকেল নামলেই শিশু-কিশোরদের দৌড়ঝাঁপ, তরুণদের প্রতিযোগিতা আর নানা পেশার মানুষের প্রাণখোলা হাসিতে মাঠটি জীবন্ত হয়ে ওঠে। এই উদ্যোগের নেপথ্যে আছেন ছায়ানীড় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলফাজ হোসেন—একজন উদ্যোক্তা, যিনি ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাকে সামনে এনে খেলাধুলাকে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন নগরজীবনের প্রান্তে। ঢাকার অধিকাংশ স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব খেলার মাঠ নেই—এই বাস্তবতা দীর্ঘদিনের। ফলে শিশুদের বড় একটি অংশ দিন দিন মোবাইল ফোন ও ভার্চুয়াল জগতের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। এই সংকট আলফাজ হোসেনকে ভাবিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, খেলাধুলা কেবল শরীরচর্চা নয়; এটি শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা ও মানবিক বিকাশের অন্যতম ভিত্তি। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি বাবার গড়ে তোলা ছায়ানীড় কমপ্লেক্সের পাশেই নির্মাণ করেন ছায়ানীড় ফুটবল গ্রাউন্ড—একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সবার জন্য উন্মুক্ত খেলার পরিসর।

আজ এই মাঠে ঢাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ভাড়া নিয়ে ফুটবল খেলছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সারসহ নানা পেশার মানুষও এখানে খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে মাঠটি শুধু একটি ক্রীড়াস্থল নয়, বরং বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির মানুষের মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার আলোয় যখন মাঠজুড়ে খেলোয়াড়দের ছুটে চলা, তখন বোঝা যায়—শহরের বাইরে হলেও এই মাঠ নগরবাসীরই একান্ত আপন জায়গা।

এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে পারিবারিক উত্তরাধিকারও। আলফাজ হোসেনের বাবা হাজী জাকির হোসেন এবং পিতামহ আলহাজ আনছার উদ্দিন এলাকায় ক্রীড়ামোদী ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। খেলাধুলার প্রতি তাঁদের আগ্রহ ও সমর্থন পারিবারিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছিল। সেই ধারাবাহিকতাই নতুন প্রজন্মের হাতে এসে পেয়েছে আধুনিক রূপ—ছায়ানীড় ফুটবল গ্রাউন্ড। বলা যায়, এটি শুধু একটি মাঠ নয়, বরং তিন প্রজন্মের ক্রীড়াচেতনার বাস্তব প্রকাশ।

স্থানীয় অভিভাবকরা বলছেন, এই মাঠ শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। মোবাইল ও স্ক্রিননির্ভর জীবনের বাইরে এসে তারা মাঠে খেলছে, বন্ধুত্ব গড়ছে, দলবদ্ধ হতে শিখছে। অনেক শিক্ষকও মনে করেন, এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সুস্থ বিনোদনের পথ দেখাচ্ছে।

আলফাজ হোসেন নিজে বলেন, “আমার লক্ষ্য মুনাফার চেয়ে বড়। আমি চাই শিশুরা মাঠে নামুক, ঘামে ভিজুক, হার-জিত শিখুক। খেলাধুলার মধ্য দিয়েই তারা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হবে।” তাঁর এই কথায় স্পষ্ট, ছায়ানীড় ফুটবল গ্রাউন্ড একটি ব্যবসায়িক প্রকল্পের গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিতে চায়।
যেখানে রাজধানীতে খেলার মাঠ দিন দিন বিলীন হচ্ছে, সেখানে আটিবাজারে ছায়ানীড় ফুটবল গ্রাউন্ড এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। এটি দেখিয়ে দিচ্ছে—ইচ্ছা থাকলে ব্যক্তি উদ্যোগেই নগরজীবনে খেলাধুলার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ছায়ানীড় ফুটবল গ্রাউন্ড তাই শুধু একটি মাঠ নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ ও মানবিক নগরচিন্তার এক নীরব কিন্তু শক্তিশালী বার্তা।
এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানের এমডি আলফাজ হোসেন বলেন,ছায়ানীড় ফুটবল গ্রাউন্ড (CFG) শুধু একটি ফুটবল টার্ফ নয়—এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে একসঙ্গে মিলিত হয় খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা, দলগত চেতনা ও ইতিবাচক শক্তি যোগাতে পারে সাধারণ মানুষ। আমাদের লক্ষ্য খেলোয়াড়দের জন্য একটি নিরাপদ ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ তৈরি করা।এবং আমরা তাতে সফল হয়েছি। এতে খেলোয়াড়রা সক্রিয় থাকতে পারবে, আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে পারে এবং মাদক ও বিষন্নতার মতো নেতিবাচক প্রভাব থেকে দূরে থাকতে পারবে।

প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হাজী জাকির হোসেন ঢাকার ধানমন্ডি ও পাশের উপজেলা কেরাণীগঞ্জে বিশেষভাবে সুপরিচিত। তিনি বিশিষ্ট ব্যবসায়ীই শুধু নন আটিবাজার বনিক সমিতির দীর্ঢ়দিন ধরে প্রেসিডেন্ট পদে থেকে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর পিতা আনছার হাজী ছিলেন দানশীল ও সমাজসেবক। প্রতি বছর আনছার হাজীর নামে এলাকায় গোল্ড কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন তাঁরই সুযোগ্য সন্তান হাজী জাকির। বংশ পরম্পরায় খেলাধুলার প্রতি এই তাঁর সন্তানের শ্রদ্ধা ও প্লে গ্রাউন্ডের মাধ্যমে সেবাকে তিনি কিভাবে দেখেন জানতে চাইলে হাজী জাকির হোসেন বলেন, এটি একটি চ্যারিটি ওয়ার্ক। আমার বাবা আনছার আলীও করেছেন। এখন আমার ছেলে আলফাজ হোসেন তা টেনে নিয়ে যাবেন বহুদূর অবধি। তাছাড়া CFG-তে ফুটবল শুধু ৯০ মিনিটের একটি খেলা নয়—এখানে প্রতিটি মুহূর্ত ভরা থাকে উদ্দীপনা, উত্তেজনা ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতায়। এটি এমন এক পরিসর, যেখানে মানুষ মানসিকভাবে প্রশান্তি পায়, প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, নিজের দক্ষতা বাড়ায় এবং বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সুন্দর স্মৃতি গড়ে তোলে। এতেই আমাদের স্বস্তি ও শান্তি। এমনকি আমরা শিশুদের জন্য সবসময় ছাড় দিয়ে থাকি। আমরা চাই মোবাইল থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে ছেলেমেয়েরা খেলাধুলার প্রতি মনোযোগী হোক।

এলাকার বাসিন্দা শেখ শাহীন বলেন, আপনি যদি কেবল আনন্দের জন্য খেলেন কিংবা প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে মাঠে নামেন—ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আছে এবং একটি ইতিবাচক ক্রীড়া-সমাজের অংশ হতে চান—তাহলে CFG সবার জন্যই নান্দনিক এক স্থান। আমাদের এলাকার সুসন্তান আলফাজ হোসেন যেটি করেছেন তা রীতিমতো এলাকাবাসীর জন্য গর্বের ও আনন্দের। আয়োকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাঠ ভাড়া নেয়ার জন্য আগেভাগেই বলতে হয় নইলে শিডিউল দিতে কষ্ট হয়। সেজন্য ইচ্ছুকদের নিচের নম্বরে যোগাযোগ করে কথা বলতে হবে। ফেসবুকে বুকিং CFG – Chayaneer Football Ground আর হোয়াটসঅ্যাপ: +8801771777738 | +8801790172624

