সমসাময়িক বাংলা কবিতার গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর এবং দৈনিক সংবাদের সাহিত্য সম্পাদক কবি ওবায়েদ আকাশ এ বছর রফিক আজাদ সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেছেন। কবিতায় দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক সাধনা, ভাষার শক্তিশালী প্রকাশভঙ্গি এবং সময়-সচেতন সাহিত্যচর্চার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, বাংলা সাহিত্যের ষাটের দশকের বরেণ্য কবি রফিক আজাদের নামে প্রবর্তিত কবি রফিক আজাদ স্মৃতি পুরস্কার তাঁর সঙ্গে পাচ্ছেন -কবি ও গবেষক ড. ময়ুখ চৌধুরী। ২০২৫ সালের জন্য ময়ুখ চৌধুরী ও ২০২৬ সালের জন্য ওবায়েদ আকাশ এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। আগামী ১৪ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে এক অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে ৫০ হাজার টাকা অর্থমূল্যের বিশেষ এ পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।

বাংলা কবিতায় নিজস্ব কণ্ঠ ও স্পষ্ট অবস্থানের কারণে কবি ও লিটল ম্যাগাজিন শালুক- সম্পাদক কবি ওবায়েদ আকাশ। ওবায়েদ আকাশ পাঠক ও সমালোচকদের কাছে সুপরিচিত। তাঁর কবিতায় ব্যক্তিগত অনুভূতির পাশাপাশি সমাজবাস্তবতা, প্রতিবাদ, প্রেম ও অস্তিত্বের প্রশ্ন গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়। সম্পাদক ও কবি—এই দুই পরিচয়ের সমন্বয়ে তিনি সমকালীন সাহিত্যধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। এই পুরস্কার প্রাপ্তিতে কবি ওবায়েদ আকাশ বলেন, রফিক আজাদ ছিলেন তাঁর কবিতাজীবনের এক শক্তিশালী প্রেরণা। তাঁর নামে প্রাপ্ত এই সম্মাননা কবিতাচর্চায় আরও দায়বদ্ধ করে তুলবে।

সাহিত্যাঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, দৈনিক সংবাদের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে ওবায়েদ আকাশের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং কবি হিসেবে তাঁর সৃজনশীলতা—এই দুয়ের সম্মিলিত স্বীকৃতিই এই পুরস্কার। এটি কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং সমসাময়িক বাংলা কবিতার ধারাবাহিক বিকাশেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

কবি ওবায়েদ আকাশের জন্ম ১৯৭৩ সালের ১৩ জুন, বাংলাদেশের রাজবাড়ী জেলার সুলতানপুর গ্রামে। বর্তমান বাস ঢাকায়। একাডেমিক পড়াশোনা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। তাঁর ধ্যানজ্ঞানে সর্বক্ষণ কবিতা। এ পর্যন্ত তাঁর মৌলিক কাব্যগ্রন্থ ৩০টি। প্রবন্ধ, গল্প, সম্পাদনা, অনুবাদ মিলিয়ে মোট গ্রন্থসংখ্যা ৫০। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পতন গুঞ্জনে ভাসে খর¯্রােতা চাঁদ’ প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে। তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন সাংবাদিকতাকে। তাঁর সাংবাদিকতার বয়স তিন দশকের বেশি। বর্তমানে দেশের ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা ‘সংবাদ’-এ সাহিত্য-সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত আছেন। ১৯৯৯ সাল থেকে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে সম্পাদনা করছেন অধুনাবাদী চিন্তার লিটল ম্যাগাজিন ‘শালুক’। তারুণ্যপ্রধান এ পত্রিকাটির এ পর্যন্ত ২৮টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। যার সর্বশেষ সংখ্যাটি প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। এ পর্যন্ত তিনি কালি ও কলম তরুণ কবি পুরস্কার ২০০৮, শিল্পকলা একাডেমি লিটল ম্যাগাজিন পুরস্কার ২০২২ সহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করেছেন।

কবি ময়ুখ চৌধুরী ১৯৫০ সালের ২২ অক্টোবর চট্টগ্রামের দক্ষিণ নালাপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে কবি, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক। শিক্ষাজীবন শেষ করেন চট্টগ্রাম কলেজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘রবীন্দ্রনাথের পোয়েটিক ওরিয়েন্টেশন’ বিষয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। কর্মজীবনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অধ্যাপনা শেষে বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছেন। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কালো বরফের প্রতিবেশী’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে। ময়ুখ চৌধুরীর এ পর্যন্ত দশটি কাব্যগ্রন্থ, দুইটি কাব্যসংকলন, একটি উপন্যাস, একটি গবেষণাসহ প্রায় পনেরোর অধিক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ‘প্রতীতি’ ও ‘কবিতা’ নামে দুইটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।
