বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিবিড় পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে। শপথ গ্রহণের পর থেকে তিনি যেভাবে ‘জনমুখী’ শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন এবং মাঠপর্যায়ে সেটির প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করছেন, তা প্রাথমিক বিচারে অনেকের কাছেই ইতিবাচক মনে হচ্ছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের সংস্কার এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলো মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রশমনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই ‘বেটার পারফরমেন্স’ বা উন্নত কর্মদক্ষতার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ নির্বাসন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের শিক্ষা, যা তাঁকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যার গভীরে পৌঁছাতে সাহায্য করছে।
তবে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি পূরণ করা কেবল কয়েক দিনের প্রশাসনিক তৎপরতার ওপর নির্ভর করে না। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য বেকারত্ব দূরীকরণ, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করা একটি দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমান তাঁর বক্তৃতায় বারবার ‘জনগণের সেবক’ হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন, যা অতীতের একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপরীতে একটি আশার বাণী হিসেবে দেখা দিচ্ছে। কিন্তু এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের গভীরে প্রোথিত অনিয়ম দূর করা তাঁর জন্য হবে অ্যাসিড টেস্ট। সাধারণ মানুষ এখন শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বরং তাঁর নেওয়া উদ্যোগগুলোর দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই সুফল দেখতে চায়।
পরিশেষে বলা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরুটা করেছেন বেশ দাপটের সাথে এবং জনমানুষের পালস বা আবেগ বুঝে। তাঁর এই কর্মমুখর ভঙ্গি যদি কাঠামোগত সংস্কারের দিকে মোড় নেয় এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে, তবেই তিনি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর পারফরমেন্স আশাব্যঞ্জক হলেও, আগামীর দিনগুলোতে রাষ্ট্র পরিচালনার জটিল সমীকরণ মেলাতে তাঁর দক্ষতা ও ধৈর্যের আরও কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।
