সোমবার,

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

|

ফাল্গুন ৩ ১৪৩২

XFilesBd

রাধা করে রান্না কৃষ্ণ আনে স্বাদ 

তারিফ হোসেন

প্রকাশিত: ০৪:২৩, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

রাধা করে রান্না কৃষ্ণ আনে স্বাদ 

রাধা করে রান্না কৃষ্ণ আনে স্বাদ 

তারিফ হোসেন


আজকে একটা ভেতরের কথা বলি।
আমরা সবাই জীবনে পবিত্র সত্তা“কৃষ্ণ” হতে চাই। চাই শান্তি , গভীর ভালোবাসা , একটু ফুরফুরে মেজাজ।কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমরা এগুলো চাই তাৎক্ষণিকভাবে কোনরকম সাধন-শোধন ছাড়াই। অনেকটা রান্না না করে কাঁচা খাওয়ার মতো আর কি।
সমস্যাটা সেখানেই।
গ্রামে একটা কথা আছে
কাঁচা চাল চিবোলে দাঁত ভেঙে যায়।
আগে তাকে রাধতে হয়।
এই রাধাটা অর্থাৎ চাল ফুটানোর কাজ‌ই হল হলো রাধা বা  সম্পাদনা।
রাধা কোনো দূরের দেবী না।
রাধা হল ভেতরের সেই আগুন,
যে আমাদের কাঁচা মনটাকে ধীরে ধীরে সিদ্ধ করে।
ধরো—
অফিসে কেউ অপমান করল।
মনটা তখন টগবগ করছে।
এই অবস্থায় যদি সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেখাও—
সেটা কিন্তু রান্না না করেই খেয়ে ফেলা হল।
কিন্তু তুমি যদি স্থির হও,
একটু হাঁটাহাঁটি কর,
রাতে ঘুমাও,
পরদিন আবার বিষয়টি ঠান্ডা মাথায় ভাবো—
তাহলে ভেতরের  এই ঝাড়া-মোছার অর্থাৎ মার্জনার ব্যাপারটি হল 
 রাধা।
এতে করে দু’দিন পর দেখবে—
মনটা আর আগের মতো জ্বলছে না।
একটা বোঝা নেমে গেছে।
এই হালকা হওয়াটাই কৃষ্ণ।

প্রেমের কথাই ধরো।
নতুন প্রেম মানে—
কাঁচা তরকারি।
ঝাল বেশি, নুন কম।
অভিমান, রাগ, ভয়—সব একসঙ্গে।
যদি সবকিছু সঙ্গে সঙ্গে চাও—
প্রেম ভেঙে যাবে।
কিন্তু যদি কথা বলো,
ভুল মেনে নাও,
একটু ছাড় দাও—
তবে দেখবে প্রেমের ছুড়ানি(চাবি) তোমার হাতে চলে এসেছে।
এই ছুড়ানিই  হল রাধা।
বছর কয়েক পরে দেখবে—
চুপচাপ পাশাপাশি বসে থাকলেও ভালো লাগে।
এই প্রশান্তির ভালো লাগাটাই কৃষ্ণ।
আমরা অনেক সময় ভাবি—
দুঃখ এলে সেটা চাপা দিতে হবে।
না।
চাপা দিলে তা পচে যায়।
দুঃখকে বুঝতে হয়,
সময় দিতে হয়,
নিজের ভেতরে একটু ঘোরাতে হয়।
এই ঘুরিয়ে দেওয়া, এই হজম করাই রাধা।
এরপর একদিন হঠাৎ দেখবে—
দুঃখটা আর দুঃখ নেই,
ওটাই তোমাকে শক্ত করেছে।
এই শক্তিটাই কৃষ্ণ।
তাই আসল কথা খুব সহজ—
রাধা মানে তাড়াহুড়ো না করা।
রাধা মানে নিজেকে সময় দেওয়া, সংশোধন করা।
রাধা মানে ভেতরের রান্না।
আর কৃষ্ণ?
কৃষ্ণ কোনো লক্ষ্য না।
কৃষ্ণ আসে নিজে থেকেই,
যখন রান্নাটা ঠিকঠাক হয়।

আগে রাধা।
তারপর কৃষ্ণ।
জীবনেও তাই।
মনের ভেতরেও তাই।

[লেখক তারিফ হোসেন বিশিষ্ট শিল্পী, কবি, গীতিকার ও বাউল]