আগামীকাল বহুল কাঙ্ক্ষিত ভোট। মাঠে ময়দানে উত্তেজনা যারপরনাই। কী হবে ভোটের পর? কে জিতবে আর কে-ই বা হারবে, এসব নিয়ে এন্তার কথাবার্তা। অতপর কী দাঁড়াবে দেশের পরিস্থিতি? তবে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, মাঠ শান্ত। কোথাও পাত্তা নেই ডামাযোল সৃষ্টিকারীদের। আর কেউ চেষ্টা করলে তার জন্যে কঠোর দমন ব্যবস্থা। মবমিলে দারুণ এক উত্তেজনার রাত পার করবে বাংলাদেশের মানুষ।
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণ। দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের পর আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে ভোটের ঠিক আগের দিনেও রাজপথের উত্তাপ আর ড্রয়িংরুমের আলোচনা-উভয় ক্ষেত্রেই অমীমাংসিত অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘নিশ্ছিদ্র’ নিরাপত্তা ও ‘সর্বাত্মক’ প্রস্তুতির দাবি জানানো হলেও জনমনে রয়েছে গভীর শঙ্কা ও ভিন্নমত।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশজুড়ে প্রায় ৪২,৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৯৪ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত অপপ্রচার রোধে বিশেষ সেল গঠন এবং প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার একে ‘গণতন্ত্রের ট্র্যাকে ফেরার প্রথম ধাপ’ হিসেবে আখ্যা দিলেও মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। গত কয়েক মাস ধরে ছোটখাটো রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিরোধী জোটগুলোর মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই ভোটারদের মনে অস্বস্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নিয়ে অনেক বিশ্লেষকই সন্দিহান।
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত দিক হলো আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি। গণহত্যার অভিযোগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত থাকায় তারা এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। দেশের অন্যতম বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনের বাইরে রেখে এই ভোটের ‘গ্রহণযোগ্যতা’ কতটুকু হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং জেন-জি প্রজন্মের নবগঠিত দলগুলো বলছে, যারা জুলাই-আগস্টের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের নির্বাচনে আসার নৈতিক অধিকার নেই। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের বিশাল একটি নীরব ভোটব্যাংক কোন দিকে যাবে কিংবা তারা আদৌ ভোট দিতে আসবে কি না, তার ওপর নির্ভর করছে নির্বাচনের প্রকৃত বৈধতা ও ভোটার উপস্থিতি।
মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, একদল ভোটার যেমন দীর্ঘ সময় পর নিজের ভোট নিজে দিতে পারার অপেক্ষায় উন্মুখ, ঠিক অন্য একটি দল ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে সন্দিহান। কোনো বড় দলের একক দাপট না থাকলেও বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ এখন দৃশ্যমান। অনেক স্থানে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট নিজের বাক্সে টানার এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, যা নির্বাচনের মেরুকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত আগামীকাল ভোটকেন্দ্রের লাইন কতটা দীর্ঘ হবে এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এই নির্বাচনকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী সরকারের স্থায়িত্ব।
