লাল সালাম মান্নান খান। বিদায় হে জননেতা !!
- ড. অখিল পোদ্দার
নশ্বর পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে অনন্তের পথে পাড়ি জমালেন গণমানুষের নেতা, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান। ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জের মাটি ও মানুষের সঙ্গে যাঁর হৃদস্পন্দন মিশে ছিল, সেই প্রদীপ্ত মানুষটি আজ স্তব্ধ। রাজনীতি যাঁদের কাছে কেবল ক্ষমতার মোহ নয়, বরং দেশ ও দশের সেবার ব্রত-আব্দুল মান্নান খান ছিলেন সেই বিরল ঘরানার একজন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে অন্ধ লেজুরবৃত্তির চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল মানুষের সামাজিক বিকাশ আর মেগাসিটি ঢাকার টেকসই উন্নয়ন।
আওয়ামী লীগের শেষ কয়েক বছরে তিনি কেবল রাজনীতির মারপ্যাঁচ নয়, বরং নিজের দলের ভেতরের উচ্চাভিলাষী মহলের ষড়যন্ত্র আর ভূমিদস্যুদের অদৃশ্য আক্রোশের শিকার হয়েছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। তথাকথিত মিডিয়ার একপাক্ষিক ঝড়েও তিনি বারবার বিদ্ধ হয়েছেন। নিজ দলের অভ্যন্তরে থাকা শত্রুদের কূটচাল আর একের পর এক অনভিপ্রেত মামলার বোঝা তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায়কে করে তুলেছিল বিষাদময়। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে তিনি যেমন ক্লান্ত হয়েছিলেন, তেমনি অবসন্ন হয়ে পড়েছিল তাঁর শরীর। দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থেকে আজ রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।
আওয়ামী লীগের পতাকাতলে থেকেও যাঁদের হৃদয়ে সাম্যবাদ ও মেহনতি মানুষের মুক্তির চেতনা জাগ্রত ছিল, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খান ছিলেন সেই রথের অন্যতম সারথী। তাঁর এই 'কমরেড' সত্তা বা বামপন্থী আদর্শিক ভিত্তিই হয়তো তাঁকে সাধারণ মানুষের এত কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল।
আমরা অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানকে মনে রাখব তাঁর ভালো কাজের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার জন্য। তিনি হয়তো ক্লান্ত হয়ে বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু দোহার-নবাবগঞ্জের আকাশে-বাতাসে তাঁর রেখে যাওয়া উন্নয়নের ছাপ এখনও বিদ্যমান। রাজনীতির আবর্তে পড়ে তাঁর ওপর যেসব কালিমা লেপনের চেষ্টা হয়েছে, সময়ের পরিক্রমায় তা মুছে যাবে; অবশিষ্ট থাকবে তাঁর জনহিতকর কর্মের সুবাস। একজন নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিকের এই বিদায় বেলায় আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।
লাল সালাম মান্নান খান। বিদায় হে জননেতা।
