পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ইয়ারউদ্দিন খলিফা (র) এর মাজারের মাহফিল উপলক্ষে স্টল ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, লুটপাট ও বসতঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের সহ- সভাপতি রাজিব মাঝি ও তার মা সদর ইউনিয়ান বিএনপির সহ- সভাপতি ইরানি বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যবসায়ী মো. শামীম গাজী মির্জাগঞ্জ থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০–১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা জেলা বিএনপি সভাপতির অনুসারি বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।



এদিকে আহত শামীম গাজী বলেন,“স্টল ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে তারা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর ও বাড়িঘরে হামলা চালায়। এখন পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।” বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের সাথে কথা বললে তিনি জানায় আমি ওসি সাহেবকে বলে দিয়েছি তিনি বিষয়টি দেখবেন। মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন,“অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রত্যক্ষাদর্শী জানায়, ঘটনাটি গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার দিকে মির্জাগঞ্জ মাজার বৈঠকখানার দক্ষিণ পাশে শামীম গাজীর বসতঘরের সামনে পাকা রাস্তায় ঘটে। মামলা সূত্রে জানাযায়, মির্জাগঞ্জ মাজার মাহফিল উপলক্ষে শামীম গাজী অন্য জেলার লোকজনের কাছে ৮–১০টি স্টল ভাড়া দেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ছাত্রদল নেতা রাজিব মাঝির নেতৃত্বে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা দিতে চাপ দেন। শামীম গাজী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাজিব মাঝি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হুমকি দিতে থাকেন। ঘটনার দিন বিকেলে শামীম গাজী ঘর থেকে বের হলে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসিরা তার পথরোধ করে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। তিনি প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা কিল, ঘুষি ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। ২ নং আসামি রাজিব মাঝি বাদির মাথা ও মুখে গুরুতর জখম করে এতে দুটি দাঁত নড়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় অভিযুক্তরা তার পকেট থেকে ২০ হাজার টাকা এবং একটি নকিয়া মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে অভিযুক্তরা আবার দলবদ্ধ হয়ে শামীম গাজীর বাড়িতে হামলা চালায়। টিনের গেট ও দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে বেড়া ভাঙচুর করে প্রায় ২৫ হাজার টাকার ক্ষতি করে। পাশাপাশি ঘরের আলমারি ও সুকেস ভেঙে ৬৫ হাজার টাকা নগদ এবং প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
