সোমবার,

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

|

মাঘ ১৯ ১৪৩২

XFilesBd

ফৌজদারি মামলা আর নয়-সমিতির নেতা মনিরুজ্জামান

হয়রানি বন্ধ ও গ্রেড উন্নয়নের দাবিতে সচিব বরাবর দাবিনামা দিয়েছেন ভূমি কর্মকর্তারা

সুমন বিশ্বাস

প্রকাশিত: ০৩:২৭, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ০৩:২৯, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

হয়রানি বন্ধ ও গ্রেড উন্নয়নের দাবিতে সচিব বরাবর দাবিনামা দিয়েছেন ভূমি কর্মকর্তারা

মাঠপর্যায়ে কর্মরত ভূমি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ফৌজদারি মামলা থেকে দায়মুক্তি এবং বেতন বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি। রোববার ( ফেব্রুয়ারি) ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সমিতির ঢাকা জেলা শাখার পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিমের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি প্রদানকালে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মাঠপর্যায়ে কর্মরত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাদের কর্মজীবনের নানা সংকট, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আইনি জটিলতার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

আইনি জটিলতা হয়রানির শিকার কর্মকর্তারা

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, নামজারি সহায়তা, খতিয়ান সংরক্ষণ খাস জমি উদ্ধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ভূমি কর্মকর্তারা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো মূল দলিলের সঠিকতা যাচাই বা নিরূপণের এখতিয়ার তাদের নেই; এটি সম্পূর্ণ বিচারিক আদালতের বিষয়। তা সত্ত্বেও -নামজারি বা দাপ্তরিক কাজে প্রস্তাব প্রেরণের কারণে অসাধু মহলের সাজানো মামলায় নিরপরাধ কর্মকর্তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

সম্প্রতি বরিশাল বিভাগের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৭ নং কবাই ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা আবদুল বারেকের কারাবরণ এবং সাভারের ফুলবাড়িয়া ভূমি অফিসের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দেশের ভূমি কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ  ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে নিরাপত্তাহীনতা। যাতে কাজের সাধারণ পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে মনে করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাভারের আমিন বাজার ভূমি অফিসের তহশিলদার এম. মনিরুজ্জামান। তাঁর অভিমত, আমজনতার কাছে জমি হচ্ছে সন্তানের মতো। আমরা সেই সন্তানের স্বাস্থ রক্ষা করি। বিভিন্ন ধরণের লোকজন অন্যের জমি দখল নিতে যাচ্ছেতাইভাবে ফ্যাসাদ তৈরী করে মানুষকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করে। আমরা সেসব ধুয়ে মুছে জনতাকে নিশ্চিন্তার ঘুম উপহার দেয়। অথচ এসব করতে গিয়ে আমরাই বিপদে পড়ছি। মো. মনিরুজ্জামান আশা করেন, শীঘ্রই ভূমি মন্ত্রণালয় গুরুতর ব্যাপারটি অনুধাবন করে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহন করবে।  

 

ঢাকার জেলা প্রশাসক বরাবর ৬ দফা দাবি পেশ:

স্মারকলিপিতে কর্মকর্তারা মূলত ৬টি যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করেছেন

  1. ফৌজদারি মামলা থেকে দায়মুক্তি: দলিলের সঠিকতা যাচাইয়ের ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও দাপ্তরিক কাজের কারণে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক ফৌজদারি মামলা থেকে মুক্তি দিয়ে বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
  2. বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে নিয়োগ: ৪০তম ৪১তম বিসিএসের ধারাবাহিকতায় ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার শূন্য পদগুলোতে বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
  3. গ্রেড উন্নয়ন: কাজের পরিধি বিবেচনায় ভূমি সহকারী কর্মকর্তার পদকে ১১তম থেকে ১০ম গ্রেডে এবং ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার পদকে ১২তম থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে।
  4. পদোন্নতি জটিলতা নিরসন: নিয়োগ পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিদ্যমান দীর্ঘসূত্রিতা সকল প্রকার জটিলতা দূর করতে হবে।
  5. বেতন বৈষম্য দূরীকরণ: বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অসঙ্গতি বৈষম্য দূর করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
  6. ঝুঁকি ভাতা প্রদান: মাঠপর্যায়ে কাজের ঝুঁকি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন বিবেচনায় বিশেষ ঝুঁকি ভাতা প্রদান করতে হবে।

প্রশাসনের আশ্বাস

স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম কর্মকর্তাদের দাবিগুলো ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে দ্রুত প্রেরণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, সরকারি রাজস্ব আহরণ ভূমি ব্যবস্থাপনায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। সমিতির নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে তারা কাজ করে যাচ্ছেন, কিন্তু প্রতিনিয়ত হামলা মামলার শিকার হওয়া তাদের কাজের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে। তারা এই সমস্যার সমাধানে ভূমি মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।