ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সীমান্তপথে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক প্রবেশের আশঙ্কা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, ভারতীয় সীমান্তবর্তী কয়েকটি রুট ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্র অস্ত্র দেশে ঢোকাচ্ছে এবং সেসব চালানের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে রাজশাহী অঞ্চল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজশাহীর পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার সীমান্ত এলাকাও অস্ত্র পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীর চারঘাট, বাঘা ও পবা; চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট; এবং নওগাঁর পোরশা, ধামইরহাট ও সাপাহার সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র প্রবেশের তথ্য পাওয়া গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, অস্ত্র পাচারে আন্তঃসীমান্ত সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। ভারতীয় সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের কিছু এলাকায় অস্ত্র মজুদ করে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তা বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়। এরপর রাজশাহীতে এনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মূল হোতা ও অর্থদাতারা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বৈধ পণ্যবাহী ট্রাক, নদীপথ ও চরাঞ্চল ব্যবহার করে অস্ত্র আনা হচ্ছে। বিশেষ করে পদ্মা নদীর চরাঞ্চলকে ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। একই সঙ্গে আগে থেকে মাদক পাচারের পরিচিত পথগুলো এখন অস্ত্র পাচারেও ব্যবহৃত হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছরের ২৬ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি, গানপাউডার ও প্লাস্টিক বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। ওই ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয় এবং যৌথ অভিযান জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে র্যাব উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে। জেলা পুলিশ ও বিজিবিও বিভিন্ন অভিযানে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি জব্দ করেছে। সর্বশেষ ৬ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীর বাঘা সীমান্তে অভিযানে দুটি বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্র উদ্ধার করে বিজিবি।
নির্বাচন ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা
বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স, কে-৯ ইউনিট, নৌ টহল ও বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ ঠেকাতে সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় তথ্যভিত্তিক তদন্ত চালিয়ে অপরাধচক্র শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের মতে, নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
