দেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে ধারাবাহিক সাফল্যের আরেকটি স্বীকৃতি পেল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এ (টিটা) “বেস্ট ডোমেস্টিক এয়ারলাইন” সম্মাননা অর্জন করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই বেসরকারি বিমান সংস্থা। একই ক্যাটাগরিতে এটি ইউএস-বাংলার দ্বিতীয় অর্জন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ আকাশপথে তাদের শক্তিশালী অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রোববার রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টোয়াব সভাপতি রফিউজ্জামানসহ পর্যটন ও বিমান খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশনস) মো. কামরুল ইসলাম।

দেশের বিমান চলাচল খাতে গত এক দশকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যে উত্থান ঘটিয়েছে, এই পুরস্কারকে তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। শুরুতে সীমিত পরিসরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করলেও বর্তমানে ইউএস-বাংলা দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর একটি। বহরে আধুনিক উড়োজাহাজ, আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, সময়ানুবর্তিতা এবং যাত্রীসেবার কারণে প্রতিষ্ঠানটি ক্রমেই আস্থা অর্জন করেছে। বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে রয়েছে ২৫টি আধুনিক উড়োজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে ৩টি ওয়াইডবডি এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০ এবং ৯টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রুট পরিচালনার জন্য রয়েছে আরও কয়েকটি অত্যাধুনিক এয়ারক্রাফট। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে এত বড় ও বৈচিত্র্যময় বহর খুব কম এয়ারলাইন্সেরই রয়েছে। দেশের সব অভ্যন্তরীণ গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি ইউএস-বাংলা বর্তমানে ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আন্তর্জাতিক রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, শারজাহ ও আবুধাবি; ওমানের মাস্কাট; কাতারের দোহা; চীনের গুয়াংজু; সিঙ্গাপুর; মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর; থাইল্যান্ডের ব্যাংকক; মালদ্বীপের মালে এবং ভারতের কলকাতা ও চেন্নাই।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের রুটগুলোতে ইউএস-বাংলা ইতোমধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য এয়ারলাইন্স হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তুলনামূলক প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া, সরাসরি ফ্লাইট এবং সেবার মানের কারণে যাত্রীদের একটি বড় অংশ এখন দেশীয় এই এয়ারলাইন্সটির দিকে ঝুঁকছেন। বিমান খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন শিল্পে ইউএস-বাংলা একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। একসময় আন্তর্জাতিক রুটে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ওপর নির্ভরতা বেশি থাকলেও এখন দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোও আঞ্চলিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। এই পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ইউএস-বাংলার নাম উল্লেখ করছেন অনেকে।

শুধু বর্তমান কার্যক্রম নয়, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনাও বেশ বড় পরিসরে এগিয়ে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খুব শিগগিরই বহরে আরও তিনটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ যুক্ত করা হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে। এছাড়া ঢাকা থেকে নতুন কয়েকটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। নতুন রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে কলম্বো, মদিনা, দাম্মাম ও কুয়েত। এসব রুট চালু হলে প্রবাসী কর্মী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের যাতায়াতে নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা বলছেন, এই অর্জনের পেছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের পাইলট, প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু, গ্রাউন্ড স্টাফসহ সব পর্যায়ের কর্মীদের নিরলস পরিশ্রম। একইসঙ্গে যাত্রীদের আস্থা ও সমর্থনও প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রায় বড় ভূমিকা রেখেছে। তাদের ভাষ্য, নিরাপদ ভ্রমণ, সময়মতো ফ্লাইট পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ইউএস-বাংলা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, বহর সম্প্রসারণ এবং নতুন বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার আকাশপথে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করাই এখন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য।

বাংলাদেশের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল খাত যখন দ্রুত সম্প্রসারণের পথে, তখন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এই স্বীকৃতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়; বরং দেশীয় বিমান শিল্পের সক্ষমতারও প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। “বেস্ট ডোমেস্টিক এয়ারলাইন” অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার মধ্য দিয়ে ইউএস-বাংলা আবারও প্রমাণ করল—দেশের আকাশপথে তাদের উড়ান এখন শুধু বিস্তৃতই নয়, ক্রমেই আরও শক্তিশালী ও আস্থার প্রতীকে পরিণত হচ্ছে।
