শুক্রবার,

৩০ অক্টোবর ২০২৬

|

কার্তিক ১৪ ১৪৩৩

XFilesBd

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও ঋণ কমানোর চ্যালেঞ্জ

আনিছ রহমান

প্রকাশিত: ০০:১৬, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ০০:১৭, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও ঋণ কমানোর চ্যালেঞ্জ

জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, উন্নয়ন ঋণের আর্থিক শর্ত পুনর্বিবেচনা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ২৬–২৯ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তাঁর বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো প্রকল্পের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। রয়টার্সের ২২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেইয়ের বরাতে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৬৩৬ কোটি মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে জাপানের। উৎপাদনশিল্প, জ্বালানি ও শিল্পাঞ্চল হতে পারে সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্র। 


সফরে জাপানি ঋণের সুদহার কমানো এবং ঢাকার এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫ প্রকল্পের ব্যয় পুনর্বিবেচনার বিষয় আলোচনায় থাকার কথা। এ ক্ষেত্রে জাপানের সম্মতি ও বিদ্যমান ঋণচুক্তির শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আর্থিক সাশ্রয় নিশ্চিত নয়। সরকারি ব্রিফিং অনুযায়ী, কৃষি, মৎস্য, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ, বিমান চলাচল ও স্থানীয় সরকার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় আটটি সহযোগিতা-দলিল নিয়ে আলোচনা চলছে। সফরে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রত্যাশা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর করা, জাপানি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ বাড়ানো এবং প্রযুক্তি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয় ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগ বাড়বে। ঋণের শর্ত উন্নত করা গেলে অবকাঠামো প্রকল্পের আর্থিক চাপও কমতে পারে। বিপরীতে, বিনিয়োগের ঘোষণা বাস্তব অর্থপ্রবাহে রূপ না নেওয়া, প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং নতুন ঋণের দায় ভবিষ্যতে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
তাই চুক্তির স্বচ্ছতা, স্থানীয় কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময়সীমা নিশ্চিত করা জরুরি।
সফরের ফলাফল নির্ধারিত হবে ঘোষণার অঙ্ক দিয়ে নয়, বরং বাস্তবে কত বিনিয়োগ আসে, ঋণের শর্তে কী পরিবর্তন হয়, রপ্তানি কতটা বাড়ে এবং নতুন চুক্তিগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়—তার ভিত্তিতে। ২৭ অক্টোবরের বৈঠক ও সফর-পরবর্তী যৌথ বিবৃতিই এসব বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়নের ভিত্তি দেবে।