শুক্রবার,

২৩ অক্টোবর ২০২৬

|

কার্তিক ৭ ১৪৩৩

XFilesBd

হস্তক্ষেপ নয় সমর্থন চাই: ট্রাম্প প্রশাসনকে শেখ হাসিনার বার্তা

আনিছ রহমান

প্রকাশিত: ২১:২১, ২২ অক্টোবর ২০২৬

হস্তক্ষেপ নয় সমর্থন চাই: ট্রাম্প প্রশাসনকে শেখ হাসিনার বার্তা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নিজের দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নয় সমর্থন চেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ১৯ অক্টোবর মধ‍্যরাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে  সেন্টার ফর ইউএস-বাংলাদেশ রিলেশনস আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকে সমর্থনের আহ্বান জানান।  সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা অবাধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন- আমি আমার সরকারের চারপাশের কঠিন প্রশ্নগুলি, ২০২৪ সালের ঘটনাপ্রবাহ এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। আমি এসব প্রশ্নকে স্বাগত জানাই এবং সেগুলোর উত্তর দিতে প্রস্তুত। তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সরাসরি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বাংলাদেশের ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়েও বিতর্কের প্রসঙ্গ ওঠে। জয় উভয় নির্বাচনকেই প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনার এই আহ্বানের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর অবস্থান জানানো। 

তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্দেশ‍্যে প্রধানত বার্তা প্রেরণে বলেন -  আমি যুক্তরাষ্ট্রকে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লিগকে বেছে নিতে বলছি না, আমি যুক্তরাষ্ট্রকে গণতন্ত্র বেছে নিতে বলছি।
আমি হস্তক্ষেপ চাই না, তবে সমর্থন চাই। আমি চাই বাংলাদেশিরা অবাধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের সরকার নির্ধারণ করুক। আমি যুক্তরাষ্ট্রকে অবাধ নির্বাচন, স্বাধীন আদালত, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সংগঠনের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, অর্থনৈতিক উন্মুক্ততা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সমর্থন করার আহ্বান জানাই।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন সংবাদ সম্মেলনের পর তাঁকে সমর্থনের কোনো নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে—এমন তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন এ বিষয়ে নির্দিষ্ট অবস্থান নেয়নি। তারা বাংলাদেশ ও ভারতের আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান  প্রত্যাশা করে। 

দেশে ফেরার বিষয়ে শেখ হাসিনা তাঁর প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন।  এর আগে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ এখনও নিশ্চিত  নয়।
বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অনুপস্থিতিতে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে। তিনি বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তিও জানিয়েছেন। ফলে তাঁর প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি আইনি ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গেও জড়িত। ওয়াশিংটনের কাছে শেখ হাসিনার বার্তা স্পষ্ট হলেও তা মার্কিন নীতির পরিবর্তনের প্রমাণ নয়। এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া, বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ আলোচনা এবং দেশে ফেরার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ।