রোববার,

১৮ অক্টোবর ২০২৬

|

কার্তিক ২ ১৪৩৩

XFilesBd

বিলবোর্ডের আলোয় চণ্ডীপাঠ: টাইমস স্কয়ার ভাসল দুর্গোৎসবে বিশ্ববাঙালি

নিউ ইয়র্ক থেকে শিউলী সিকদার

প্রকাশিত: ১৪:৫৭, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১৫:০২, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বিলবোর্ডের আলোয় চণ্ডীপাঠ:  টাইমস স্কয়ার ভাসল দুর্গোৎসবে বিশ্ববাঙালি

বিশ্বের অন্যতম সেরা সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র নিউ ইয়র্কের ‘টাইমস্ স্কয়ার’—যাকে বলা হয় পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ততম চত্বর। দিন-রাত অগণিত মানুষের পদচারণায় মুখরিত এই চত্বরের বিশালাকার ডিজিটাল বিলবোর্ড ও রঙিন আলোর নিচে অনুষ্ঠিত দুর্গাপূজা বিশ্বমঞ্চে বাঙালি সংস্কৃতিকে এনে দিয়েছে এক নতুন উচ্চতা। প্রবাসে বাঙালি ঐতিহ্যের জয়গান ছড়িয়ে দিতে ও বিশ্ববাসীকে শারদীয়া আবহমানতায় সিক্ত করতে এই আয়োজন এখন সার্বজনীন উদযাপনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। টাইমস্ স্কয়ারের মতো আধুনিকতম বৈশ্বিক চত্বরে যখন মহিষাসুরমর্দিনীর রূপ ফুটে ওঠে এবং চারপাশ কাঁসর, ঘণ্টা ও ঢাকের আওয়াজে মুখরিত হয়ে ওঠে, তখন সেখানে সৃষ্টি হয় এক অভূতপূর্ব আবহের। লাল-সাদা শাড়ি পরা বাঙালি নারীদের সিঁদুর খেলা, প্রথাগত আলপনা, এবং ধুপ-ধুনোর মিষ্টি সুবাসে পুরো এলাকাটি যেন একখণ্ড তিলোত্তমা বাংলায় পরিণত হয়।

 

উৎসব চত্বরে শত শত প্রবাসীর পাশাপাশি বিশ্বের নানা দেশ থেকে আগত পর্যটকরাও থমকে দাঁড়ান এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন প্রত্যক্ষ করার জন্য। বাঙালিদের ঐতিহ্যবাহী ‘ধুনুচি নাচ’ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেখতে এবং আলোকচিত্র ধারণ করতে আমেরিকানদের উৎসুক ভিড় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সম্প্রীতির এক নতুন বার্তা পৌঁছে দেয়। ইউনেস্কো (UNESCO) কলকাতার দুর্গাপূজাকে ‘মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ (Intangible Cultural Heritage) হিসেবে যে স্বীকৃতি দিয়েছিল, টাইমস্ স্কয়ারের এই মহোৎসব যেন সেই আন্তর্জাতিক মহিমাকে আরও দৃশ্যমান ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

শুধু পূজা-অর্চনার মধ্যেই আয়োজন সীমাবদ্ধ থাকেনি; এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল চণ্ডীপাঠ, বৈদিক স্তোত্রপাঠ, ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য, সঙ্গীতানুষ্ঠান এবং বাংলাদেশ ও ভারতের গুণী লেখকদের লেখা নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ শারদীয়া স্মারক গ্রন্থ।

একইসঙ্গে উত্তর আমেরিকায় বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে লালন করার স্বীকৃতিস্বরূপ বেশ কিছু পুরনো ও সম্মানীয় সামাজিক সংগঠনকেও এই মণ্ডপ থেকে বিশেষ সম্মান জানানো হয়।= আজকের যুদ্ধ-বিগ্রহ, অস্থিরতা ও বিভাজনের বিশ্বে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা অর্থাৎ অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে শুভ, সত্য ও সুন্দরের জয় প্রতিষ্ঠার চেতনা অত্যন্ত অর্থবহ। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের প্রবাসী শিশুদের কাছে নিজেদের ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব নাগরিকের সামনে বাঙালির আতিথেয়তা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি তুলে ধরাই এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য।

টাইমস্ স্কয়ারের বিলবোর্ডে যখন ভেসে ওঠে ‘শুভ শারদীয়া’র শুভেচ্ছা, আর বহুজাতিক পরিমণ্ডলে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে শারদীয়া আনন্দে মেতে ওঠেন, তখন তা কেবল প্রবাসীদের আবেগকেই ছুঁয়ে যায় না—বরং প্রমাণ করে যে, বাঙালির সংস্কৃতি কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ নয়, তা আজ সত্যিকারার্থেই বিশ্বজনীন।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক কানু দত্ত বলেন, কলমের আঁচড়ের মতোই যাঁর ক্যামেরার প্রতিটি ফ্রেমে ফুটে ওঠে মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও জীবনের নানা গল্প। তাঁর ক্যামেরার দৃষ্টিতে সাধারণ মুহূর্তও হয়ে ওঠে অসাধারণ, যা দর্শককে মুগ্ধ ও বিমোহিত করে। তাঁকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষা সত্যিই আমাদের জানা নেই। টাইমস স্কোয়ার দুর্গোৎসব অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ, গভীর কৃতজ্ঞতা! তাঁর নিষ্ঠা, সৃজনশীলতা এবং সকল ভালো কাজের জন্য জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা। তাঁর ক্যামেরার জাদু এবং কর্মনিষ্ঠ আগামী দিনেও মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যাক—এই আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।