ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরা অনিশ্চিত: গ্রেপ্তারের ঝুঁকি নিয়েই ফিরতে পারেন দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ ।।
- আনিছ রহমান
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের বাস্তব সময়সূচি এখনো নিশ্চিত নয়। একদিকে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের সময় হিসেবে বারবার উল্লেখ করছেন, অন্যদিকে ভারতীয় পক্ষ বলছে, বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যর্পণ অনুরোধ এখনো আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। ফলে ডিসেম্বরের ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে জোরালো হলেও বাস্তবে তাঁর দেশে ফেরা এখনো অনিশ্চিত। জুলাইয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার কিংবা হত্যার চেষ্টা হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথাও তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের ঘোষণা নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরেও মিশ্র পরিস্থিতি রয়েছে। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের পরিকল্পনার পেছনে সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পর্কে তাঁরা অবগত নন। তবে দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন, শেখ হাসিনা দীর্ঘদিনের দলীয় সভাপতি হিসেবে দলের বর্তমান দুর্বল অবস্থার বিষয়টি ভালোভাবেই জানেন। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্বের সম্ভাব্য কাঠামোও স্পষ্ট করেছেন। দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত নন বলেও জানান তিনি। এই বক্তব্যকে শুধু নেতৃত্বের প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। কারণ, শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরের আগে দেশে ফিরতে না পারেন, তাহলে দলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব কীভাবে চলবে; সে বিষয়ে তাঁর নিজেরই বক্তব্যে একটি সম্ভাব্য কাঠামো ইতোমধ্যে উঠে এসেছে।

নেতারাও কি ফিরবেন:
এ প্রশ্নে সবচেয়ে সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে। আগস্টে আল জাজিরা পাঁচজন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাঁদের মধ্যে তিনজন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, শেখ হাসিনা অবশ্যই ফিরবেন এবং তাঁরা সবাই আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে আসবেন। একই প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের কর্মী শাজিদুল ইসলাম সবুজও জানান, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থেকে তাঁরা দল পুনর্গঠনের কাজ করছেন। এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিকে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ওই নেতার নাম প্রকাশ করা হয়নি এবং দলের সব শীর্ষ নেতার একই অবস্থানও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। বরং দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, অন্য নেতাদের দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি তাঁদের নির্দেশ দিতে পারেন না; কারণ তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টি আলাদা। তিনি নিজে দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেও হত্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারের ঝুঁকি কতটা বাস্তব?
বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সাজা হওয়ায় দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদও জুলাইয়ে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতের রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন আইসিটি চীফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের কোনো নেতা যদি শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকে, তাহলে তাঁদের ক্ষেত্রেও আইনি ঝুঁকি তৈরি হবে। তবে প্রত্যেক নেতার আইনি অবস্থান এক নয়; তাই সবার ক্ষেত্রে একই পরিণতি হবে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। একটি বিশেষ বিষয় লক্ষনীয় – ক্ষমতাসীনরা আওয়ামী লীগ হঠাও আন্দোলনে জিরো টলারেন্স এ আছে, তাদেরও কোনভাবেই পিছু হঠার সুযোগ নেই। শেখ হাসিনা সহ আওয়ামীলীগের যেসকল শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ফাঁসির আদেশ হয়ে গেছে তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই আইনীভাবে আপীল করার আর সুযোগ নেই। এমতাবস্তায় তাদের সবাইকে অথবা বেশীরভাগকে যদি কোনক্রমে সরকার গ্রেফতার করতে পারে তাহলে তাদেরকে সঙ্গে সঙ্গে ফাঁসি দিয়ে রায় কার্যকর করে ফেলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা শতভাগ ধারনা করছেন। তাদের মতে এখানে দুটি বিষয় ঘটবে – যদি ক্ষমতাসীনরা কোনভাবে হাইরিক্স নিয়ে শেখ হাসিনা সহ তাদের বেশীরভাগ বা প্রত্যেককে দ্রুত ফাঁসি দিয়ে ফেলতে পারে তাহলে হয় আওয়ামীলীগ নাৎসী বাহীনীর মত হারিয়ে যাবে অথবা জীবন বাজি রেখে বাঁধ ভেঙ্গে আওয়ামী লীগ সংগঠিত হয়ে মাঠ দখলে নিয়ে দ্রুত সরকার পতন নিশ্চিত করে ফেলবে। ঘটনা কোনটি ঘটবে তা নির্ভর করছে সময়ের লীলাখেলার উপর, কারন যারা এই রায় কার্যকর করবে অর্থাৎ সরকার, বিরুধী দল ও জুলাই আন্দোলনকারীরা; তাদের মধ্যে বর্তমানে সেই সমন্বয় নেই যা ৫ আগষ্ট পরবর্তীতে ছিলো। অন্যদিকে যারা প্রতিবিপ্লব ঘটাবে অর্থাৎ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা; তাদের মধ্যে বর্তমানে সেই শক্তি ও মনোবল নেই যা ৫ আগষ্টের পূর্বে ছিলো। বরং গভীর অনুসন্ধানে জানা গেছে আওয়ামীলীগের বৃহৎ একটি অংশ বিভিন্ন পরিচয়ে ক্ষমতাসীনদের সাথে আঁতাত করে খোঁদ আওয়ামী নেতাকর্মীদেরকেই ধরিয়ে দেওয়ার ব্যবসায় নেমে বেগভর্তি বাণিজ্য করছে। অর্থাৎ বর্তমানে দুঃসময়ের সুযোগ নিয়ে আওয়ামীলীগ ধরিয়ে দেওয়াই আওয়ামীলীগের মাঝে ব্যাপকহারে ব্যবসা শুরু হয়ে গেছে। এই বিষয়টি আওয়ামীলীগের কাম বেক করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে। তবে কুটনীতিবিদদের একটি বৃহৎ অংশ মনে করে এই আওয়ামীলীগকে অবশ্যই ফিরতে দিতে হবে অথবা তারা ফিরবেই কিন্তু এই মুহুর্তে দেশের বৃহৎ স্বার্থে তাদের ফিরতে দেওয়া যাবেনা । কারন হিশেবে তারা বলছেন- যদি এই মুহুর্তে তারা কাম বেক করে তবে তাদের প্রতিশোধের লেলীহান শিখা থেকে কোন প্রতিপক্ষই রেহাই পাবেনা। দুর্ভেদ্য হয়ে যাবে তাদেরকে প্রতিরোধ করা। তাদের উপর দিয়ে গত দুই বছরে যাকিছু বয়ে গেছে তারা তার পাই পাই হিশেব চুকিয়ে দিবে চোখের পলকে। অর্থাৎ ৫ আগষ্ট থেকে দেশে এ পর্যন্ত যাকিছু ঘটেছে এই মুহুর্তে আওয়ামীলীগ দেশে ফিরলে এর কয়েকগুন প্রতিশোধ ঘটবেই। সেদিক থেকে এই সময়ে আওয়ামীলীগের প্রত্যাবর্তন ; দেশ ও আওয়ামীলীগ উভয়ের জন্যই আরও মহাবিপদজনক বলে মনে করছেন তারা। এদিকে কট্টর আওয়ামী সমালোচকরাও একই ইঙ্গিত দিচ্ছেন ভিন্নভাবে - তাদের মতে আওয়ামী লীগ ফিরবেই কিন্তু শুধরাবেনা” তবে এই মুহুর্তে নয় আরও বেশ কিছু বছর পরে আরও সুসংগঠিত হয়ে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ফিরবে আওয়ামী লীগ। তাদের মতে আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার অধ্যায় এই পর্যন্তই।
এই বিবেচনায় ডিসেম্বর শুধুই একটি ঘোষনা, একটি আশা মাত্র, যা দলীয় মনোবলকে দৃঢ় রাখছে। আওয়ামীলীগের এ ধরনের সস্তা কৌশলের কাছে বারবার হোঁচট খেয়েছে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। ত্যাগী নেতাকর্মীদের আওয়ামীলীগ সবসময় বঞ্চিত করেছে, দুঃসময়ে ব্যবহার করেছে প্রতিনিয়ত এমনকি এখনও তাই করে যাচ্ছে। বরাবরের মতো এবারও পলাতক নীতি নির্ধারকরা চেয়ে আছে এই ত্যাগীদের দিকেই, আবারও নানান প্রলোভন দিয়ে মাঠে নামাচ্ছে, ঝটিকা মিছিল করাচ্ছে ও গ্রেফতারের মুখে ঠেলে দিচ্ছে । অথচ সবচেয়ে সত্য তথ্য হলো এই ত্যাগীদের অভিমান আর নীরবতার জন্যই ৫ আগষ্ট দ্রুত ঘটে গেছে। যদি ত্যাগীদের মুল্যায়ন দলে অব্যাহত থাকত তাহলে হয়ত আওয়ামীলীগ ক্ষমতাচ্যুত হতো কিন্তু ৫ আগষ্ট ঘটতনা আর আমাদের ললাটে এভাবে পলাতক নেতার তকমা জুটতনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ত্যাগী সাবেক ছাত্রনেতা এভাবেই বলেছেন এই কথাগুলো। নিজো ছন্দের নূপুর নিক্কনে তিনি আওয়ামী লীগ কে তুলে ধরেন এভাবে – “ফিরবেই কিন্তু শুধরাবেনা, ভাঙবে তবু মচকাবে না। সংগ্রামে জাগ্রত হবে বারবার, স্বতন্ত্র চেতনায় ভস্ম হবে তারচেয়েও বহুবার। গণতন্ত্র নিয়ে বললেও গণচৈতন্য নিয়ে নেই কোন ভাবনা। দেশ উন্নয়নে বদ্ধপরিকর, অন্তরালে লুটপাটে অস্থিরমতি আর সাংগঠনিক কার্যক্রমে চীর ধীরগতি। চীর শত্রু পাকিস্তান, পরম মিত্র ভারত। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি আর পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি। ত্যাগী নেতৃবৃন্দ ঢাল আর হাইব্রীডরা তরবারি। ঘরের শত্রু বিভীষণদের প্রতি নেই কোন খবরদারি, দূরের শত্রুদের প্রতি তীব্র নজরদারি। বঙ্গবন্ধু দিয়েই শুরু, অতঃপর বঙ্গবন্ধু শেষ, এখন নাকি শেখ হাসিনার বাংলাদেশ! - এরই নাম আওয়ামী লীগ, দেশ ছেড়ে এখন বিদেশেও শেষ। তবে সুশীল সমাজের একটি বৃহৎ অংশ মনে করে- দ্রুত ফেরার জন্য আওয়ামী লীগের নিকটবর্তী ভবিষ্যত টাম কার্ড হতে পারে বর্তমান সরকার, বিরুধী দল ও জুলাই আন্দোলনকারীদের মাঝে সমন্বয়হীনতা, যা ধীরে হলেও দৃঢ়ভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

শেখ হাসিনার নিজের অবস্থান কি বদলেছে?
জুলাইয়ের রয়টার্স সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “তবুও আমাকে যেতে হবে”—অর্থাৎ গ্রেপ্তার বা মৃত্যুর ঝুঁকি তাঁকে ফেরার সিদ্ধান্ত থেকে সরাবে না। সেপ্টেম্বরে দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি ডিসেম্বরের প্রত্যাবর্তনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে একই সঙ্গে নিজের এবং দলের অন্যদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেন। আর সেপ্টেম্বরের শুরুতে দ্য প্রিন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফেরার ইচ্ছা তাঁর রয়েছে; নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও ফেরার পথ যথাসময়ে জানানো হবে।
তাহলে ডিসেম্বরের প্রকৃত হিসাব কোথায় দাঁড়াচ্ছে?
বর্তমান তথ্যকে তিনটি স্তরে দেখা যায়। প্রথমত, শেখ হাসিনা নিজে ডিসেম্বরকে প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের অন্তত একজন জ্যেষ্ঠ নেতা প্রকাশ্যে না এসে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নেত্রীর ফেরার পর তাঁরাও আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। তৃতীয়ত, দলের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও শেখ হাসিনা নিজেই শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাম উল্লেখ করেছেন, যা তাঁর অনুপস্থিতিতে সাংগঠনিক ধারাবাহিকতার একটি ইঙ্গিত।
কিন্তু এর বিপরীতে রয়েছে ভারতের আইনি প্রক্রিয়া, বাংলাদেশের বিচারিক অবস্থান এবং দেশে ফেরার পর গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা। ভারতীয় পক্ষ এখনো প্রত্যর্পণের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেয়নি। ফলে ডিসেম্বরের প্রত্যাবর্তন ঘোষিত পরিকল্পনা হলেও নিশ্চিত সময়সূচি নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শেখ হাসিনার ফেরার প্রশ্নটি এখন আর শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁর সঙ্গে বা পরে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা দেশে ফিরবেন কি না, তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার অবস্থা কী, এবং দলটি কীভাবে সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠিত হবে - এসব প্রশ্নও একই সঙ্গে সামনে এসেছে।
বর্তমান বাস্তবতা হলো - শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা বহাল আছে এবং আওয়ামী লীগের একটি অংশ তাঁর ফেরার প্রত্যাশাও করছে; কিন্তু সাংগঠনিক, আইনি ও কূটনৈতিক বাস্তবতায় ফেরার নিশ্চয়তা অন্তত ছাব্বিশের ডিসেম্বরে নেই। আর যারা তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরতে চান, তাঁদের সামনে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি গ্রেপ্তার ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বাস্তব ঝুঁকিও রয়েছে যা তাদের জীবন ও চেতনাকে পুরোপুরি থামিয়ে দিবে; যেভাবে থেমে আছে বর্তমান আটক আওয়ামী নীতি নির্ধারকদের জীবনধরা।
