শনিবার,

৩০ আগস্ট ২০২৫

|

ভাদ্র ১৪ ১৪৩২

XFilesBd

ব্রেকিং

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন অর্থ-উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। মোট বাজেট -৭,৯০,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা-৫,৬৪,০০০ কোটি টাকা বাজেট ঘাটতি -২,২৬,০০০ কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৬%) জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা-৫

জানতে চান এভাবে আর কতোদিন ? নিজের বাড়ি ভাঙচুরের পর বিচার না পেয়ে ব্যবসায়ী কবির হোসেনের ফেসবুক প্রতিক্রিয়া

ভাংচুর আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীর ফেসবুক পোস্ট

কবির হোসেন

প্রকাশিত: ০৫:১৬, ১২ আগস্ট ২০২৫

ভাংচুর আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীর ফেসবুক পোস্ট

২০২৪ সালের এই ৫ আর ৬ ই অগস্ট আমার ৫০ বছরের জীবনের নুতুন এক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আমার শখের গ্রামের নুতুন বাড়ি সন্ত্রাসী কর্তৃক চোখের সামনে ধ্বংস করতে দেখেছি কিন্তু বলার মত কোন পরিবেশই পায়নি । আসলে ছোট বেলা হতে প্রায় ৪৫ বছর আমার গ্রামের বাড়ির সামনেই ছোট একটু জায়গা পরে থাকতে দেখেছি। ২০২৩ সালে জমির মালিক ৪ ভাই এসে বলে তোমাদের বাড়ির সামনে তাই তুমিই নাও কারণ ৪৫ বছর পরে আছে খাদ হিসাবে । পরে আমি। নিয়ে পাশের জমি ওয়ালাকে বলি মেপে দিতে কিন্তু তারা মেপে দেয় না । এই ভাবে এক বছর দেখার পর আমি যখন বালি দিয়ে ভরে দিতে যাই তখন তারা থানাকে জানালে ২ পক্ষকে নিয়ে বসে সালিশে আর আমি সালিশে বসে অবাক হয়ে যাই ওই সালিশে উপস্তিত তৎকালীন কুমারখালী আওয়ামীলীগের সম্ভবত সভাপতি নাহয় সাধারণ সম্পাদক ও কুমারখালীর পৌরসভার মেয়র আর উনি তো আমার বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই বলল কিন্তু অবাক করা বিষয় উনার পৌরসভার ২ জন কমিশনার উনার প্রতিটি উল্টা পাল্টা কথার উত্তর দিল আর উনি কোন কিছু বলতে পারল না আর তখন থানার ওসি ৪ জন আদি মালিক কে বলল ঘটনা আপনি জানান । তখন ৪ মালিকই বলল ৪৫ বছর উনাদের পিছনে ঘুরেছি সাথে কয়েকটা সালিশ ও করেছি তারপরও উনারা জমি না নেওয়ার জন্য জমি কবীরের কাছে বিক্রি করেছি । এর আগে আমার প্রতিপক্ষরা ওই জমি নিয়ে কুষ্টিয়া কোর্টে একটা সিভিল কেস করে রেখেছিল । ওসি তখন ওই কেসের প্রাথমিক রায় দেখতে চাইল। কোর্ট মুলত রায় দিয়েছিল যার যার জমিতে স্ব স্ব অবস্থানে অবস্থান করার জন্য । এইবার আসলো রায়ের পালা ওসি তখন বলল আমার প্রতিপক্ষকে যে ৪৫ বছর আপনার জমি আপনি চাষ করে খাচ্ছেন। আমি গিয়ে তো দেখলাম আপনার জমিতে আপনার ধান আর এই জমি তো পড়েই আছে তাহলে এই জমি নিয়ে আপনার সমস্যা থাকার কথা না আর মহামান্য কোর্ট রায় দিয়েছে আপনার জায়গায় আপনার থাকার জন্য আর আপনি তো আপনার জায়গাতেই আছেন । সো আপনার যে সিভিল কেস আছে কোনদিন রয়ে আপনি জিতলে বাড়ি সহ আপনি নিবেন আর রায় না হওয়া পর্যন্ত আপনি আপনার জায়গায় ই থাকবেন ।
এরপর বাড়ি করে ৭ দিন ও থাকতে পারিনি আর এরমধ্যে চলে আসল ৫ ই আগষ্ট আর আমার বৃদ্ধা মা, আমার ছোট বোন আর ভগ্নি পতি আমেরিকা থাকে তাদের সামনে আমার বাড়ির সামনে ফায়ার দিয়ে বোমা বাস্ট করে সবাইকে ভয় দিয়ে ইচ্ছা মত ভেঙেছে আর যার শব্দ শোনা গেছে পাশের কয়েক গ্রামে । অনেক লোক দূর হতে শুধু দেখেছেই কিন্তু তাদের অস্ত্রের ভয়ে সামনে গিয়ে বাধা দিতে পারিনি । সন্ত্রাসীদের ভয়ে আর বাড়ি ভাঙার ভয়ংকর শব্দে আমার ছোট বোন, বোন জামাই আর ছোঁট বোনার ছেলে সাথে আমার বড় বোন ও তার ছেলে ঢাকা ভার্সিটির রোবোটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর স্টুডেন্টস ভয় পেয়ে বাড়ি ছেড়ে আমাদের প্রতিবেশীদের বাড়ি গিয়ে সারা রাত ভয়ে বাড়িই আসেনি ।
সারারাত ভয়ে কাটানোর পর ৬ ই আগষ্ট কুমারখালী থানায় গিয়ে দেখা যায় থানার ইট ই শুধু আছে কিন্তু কোন পুলিশ নাই তাই বাধ্য হয়ে কয়েকজন আর্মি অফিসারের রেফারেন্স নিয়ে কুষ্টিয়া আর্মি ক্যাম্পে দরখাস্ত নিয়ে সারাদিন আমার বৃদ্ধা মা গেটে দাড়িয়ে থেকেছে কিন্তু কোন আর্মি বাইরে এসে কথাই বলেনি । শুধু পকেট গেট দিয়ে ২ চোখ বের করে বলেছে দরখাস্ত বক্সে রেখে যান । আমার আম্মা বলছে আজ রাতেও ভাঙবে  তাই কিছু একটা করেন । তখন আর্মি কোন কথাই বলেননি । এরপর ৬ ই আগষ্ট আবার আমার বাড়ি ইছামত ভেঙেছে বাট ৫ ই অগস্ট শেখ হাসিনা কে প্লেনে তুলে দিয়ে আর্মি প্রধান ওয়াকার সাহেব সারা দেশের জনগণকে বলেছিল দেশের জনগণের দায়িত্ব উনি নিলেন কিন্তু আমার বৃদ্ধা আম্মা সারাদিন আর্মি ক্যাম্প এর সামনে দাড়িয়ে থেকে উনার কোন আর্মি এর হেল্প পায় নি ।
যত দিন বাঁচব আর এই ৫ ই আগষ্ট কে ঘৃণা করব আর আমি কিন্তু ভুলনাই একমাত্র মুক্তিযোদ্ধার ছেলে বলে আমার নুতুন বাড়ি ভেঙ্গে গুড়া করেছে ।
এমন অবিচার এমন ধ্বংস এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোন সভ্য দেশে হতে পারে কি?
আমি আমার দেশের যে সব কুলাঙ্গার বিদেশ হতে ডলার নিয়ে এসে এই সব কাজের Meticulous Design করে আমার এত বড় ক্ষতি করেছে তাদের নাম নিব না একমাত্র জামিন অযোগ্য মার্ডার মামলার ভয়ে বাট ভলকার তুর্ক, ডেভিড বর্গম্যান, পিটার ডি হাস ও পিনাকী ভট্টাচার্য্য রা কি জবাব দিবেন যে আমি কি ক্ষতি করেছিলাম যে আপনাদের Meticulous Design এ আমার বাড়ি টা ভাঙা হল ।
এই এক বছরে আমার বাড়ির কোন কাজ করি নাই আর করব ও না । সময় আসলে National ও International বিভিন্ন  Advocate হতে মতামত নিয়ে নিয়ে দেশ বিদেশ কাদেরকে মামলায় জোড়ানো যায় সময় আসলে দেখব আর ওই ভাঙা বাড়ি ৫ ই আগষ্টের কালো দিনের স্মৃতি স্বরূপ যারা এই অপকর্মের সাথে জড়িত তাদের ছবি সহ জাদুঘর করে রাখব যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই দিনের ইতিহাস জানতে পারে