
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ২৫০০-৩০০০ ছাত্র আমেরিকায় শুধু আন্ডার গ্রাজুয়েট পড়তে যায়। গ্রাজুয়েট এবং আন্ডার গ্রাজুয়েট মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ২০,০০০ বাংলাদেশী শিক্ষার্থী আমেরিকায়, প্রায় ১৪০০০ আছে অস্ট্রেলিয়ায়, প্রায় ৬০০০ শিক্ষার্থী কানাডায় লেখাপড়া করছে। আর ইংল্যান্ডে শুধু এক বছরেই ১১ হাজার শিক্ষার্থী পড়তে গেছে। এছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশতো আছেই। এখন প্রশ্ন হলো: এই যে বিশাল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী বিদেশে লেখাপড়া করতে যাচ্ছে এদের কতজন বাংলাদেশে ফিরে এসে বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকুরী করছে? আমার জানামতে উত্তর হলো শূন্য। তাহলে বাদ দেন বিসিএস, এই বিশাল সংখ্যক ছাত্রদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশে ফিরে এসে অন্যান্য সরকারি চাকুরী করছে? আসলে বিদেশে লেখাপড়া করে এসে এইসব চাকুরী তাদের পোষায় না। এইসব চাকুরী তাদেরই পোষায় যারা ঘুষ দুর্নীতি করবে, ক্ষমতার দাপট দেখাবে তাদের কাছে এইসব চাকুরী বিশাল কিছু। অথচ আমরা যদি কোনভাবে এদের সার্ভিস নিতে পারতাম দেশ বদলে যেত। হয় নিজ দেশের শিক্ষার মান বৃদ্ধি করে ছেলেমেয়েদের দেশেই ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। না হয় যারা যাবে তাদের ফেরার রাস্তা তৈরী করতে হবে এবং একই সাথে তাদেরকে দেশ গড়ার কাজে লাগাতে হবে। এদের অনুপস্থিতেই দেশ মেধাশূন্য হচ্ছে যার প্রতিফলন আমরা সর্বত্র দেখছি।
আমরা যদি আমাদের মেধাবীদের কাজেই না লাগাই তাহলে শিক্ষায় বিনিয়োগ করেও লাভ নাই। পুরো নিয়োগ ব্যবস্থাকে যদি ঢেলে না সাজাই তাহলে এই দেশে মেধাবীদের কখনো মূল্যায়ন হবে না। আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা কোন মন্ত্রণালয় কিংবা কোন রাজনৈতিক দল কি এইসব নিয়ে কখনো ভেবেছে? কখনো ভেবেছে এই বিশাল সুপ্ত সম্পদকে কিভাবে দেশ গড়ার কাজে লাগাতে পারি। সবাই না হউক এদের বড় একটা অংশও যদি ফিরে আসতো দেশটা আজ অন্যরকম হতো। বিসিএস নামক যেই পরীক্ষা আমরা নেই এই ধরণের পরীক্ষা দিয়ে হার্ভার্ড এমআইটি থেকে পাশ করারাও ফেল করবে।