আগামী ২৫ বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহে অবস্থিত ঐতিহাসিক রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে কবিগুরুকে শ্রদ্ধা জানাতে সমাগম ঘটবে দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক ও রবীন্দ্রানুরাগীদের। তবে উৎসবের এই মাহেন্দ্রক্ষণেও কুমারখালীর যাতায়াত ব্যবস্থায় রয়ে গেছে এক বড় প্রতিবন্ধকতা। কুষ্টিয়া জেলার প্রাণকেন্দ্র এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক জনপদ হওয়া সত্ত্বেও কুমারখালী রেল স্টেশনে বর্তমানে কোনো আন্তঃনগর ট্রেন থামে না। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটক ও অতিথিদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় বিশিষ্ট সমাজসেবক বাবু তরুন কুমার ঘোষ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কুমারখালী কেবল রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত স্থানই নয়, এটি লালন সাঁইয়ের আখড়া, মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা এবং কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের স্মৃতিধন্য এক ঐতিহাসিক এলাকা। বিশেষ করে ২৫ বৈশাখের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি অতিথিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে কুমারখালী স্টেশনে ‘সুন্দরবন এক্সপ্রেস’ ও ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতি অত্যন্ত জরুরি।

আবেদনকারী তরুণ কুমার ঘোষ মাইনোরিটি পার্টির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও সদ্যসমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য ছিলেন। চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে এই স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় পর্যটকরা যেমন বিড়ম্বনায় পড়ছেন, তেমনি সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই স্টেশনে স্টপেজ চালু হলে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং এলাকার নিরাপত্তা ও ভোগান্তি দূর হবে।

২৫ বৈশাখ উপলক্ষে কবিগুরুর স্মৃতিধন্য এই জনপদে অতিথিদের আসা-যাওয়া সহজতর করতে এবং জনস্বার্থে অবিলম্বে এই দুই ট্রেনের যাত্রাবিরতি কার্যকর করার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষভাবে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও বিষয়টিতে ইতিবাচক সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। এখন যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে কুমারখালী স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের বাঁশি বাজবে—এমনটাই প্রত্যাশা এই জনপদের সর্বস্তরের মানুষের।

এখানে মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো বিশিষ্ট রাজনীতি ও সমাজসেবক বাবু তরুন ঘোষের চিঠিটি হবহু তুলে ধরা হলো:
বরাবর
মাননীয় মন্ত্রী,
রেলপথ মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
ঢাকা, বাংলাদেশ।
বিষয়ঃ দেশি-বিদেশি পর্যটক ও এলাকাবাসীর সুবিধার্থে কুমারখালী রেল স্টেশনে আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির আবেদন।
মহোদয়,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি তরুন কুমার ঘোষ, আমাদের জেলাসহ দেশের বিভিন্ন গ্রামে নিজ অর্থায়নে কৃষি, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, ধর্মীয় ও সংস্কৃতি অঙ্গনসহ নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবক হিসাবে অবদান রেখে আসছি। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলা বাংলাদেশের শিল্প, বাণিজ্য, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। "সাবেক মহকুমা" কুমারখালী কুষ্টিয়া জেলার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই উপজেলায় শিলাইদহে অবস্থিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহাসিক কুঠিবাড়ি, ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়া, লাহিনীপাড়া গ্রামে বিষাদ সিন্ধুর রচয়িতা সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা, এছাড়াও কুমারখালী প্রাচীনতম পৌরসভা ১৮৬৯ সালে স্থাপিত। যেখানে প্রখ্যাত সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের বাস্তুভিটা ও জাদুঘর অবস্থিত। তদুপরি গগন হরকরা, বাঘা যতীন, ক্ষুদিরামসহ অনেক মণীষীর স্মৃতিবিজড়িত স্থান এখানে রয়েছে। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কারণে কুমারখালী শহর দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় ও নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, এত গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলার কুমারখালী রেল স্টেশন দীর্ঘদিন যাবৎ অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে রেল মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত আন্তঃনগর বেনাপোল এক্সপ্রেস ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি এই স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায় অনেক গুন বৃদ্ধি পাবে।

অতএব মহোদয়ের চরম নিকট আমাদের বিনীত আবেদন দেশি-বিদেশি পর্যটক ও এলাকাবাসীর ভোগান্তি ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা রোধ কল্পে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনসাধারণের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুমারখালী রেল স্টেশনে আন্তঃনগর বেনাপোল এক্সপ্রেস ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেন দুইটির যাত্রাবিরতির যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ও পর্যটন শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বিধায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

এলাকাবাসীর পক্ষে: (স্বাক্ষর) তরুন কুমার ঘোষ, তরুন বাবু সড়ক, গ্রাম: নগরকয়া, পান্টি, কুমারখালী, কুষ্টিয়া মোবাইলঃ ০১৭১১-৪৫৮১০৯
(বি:দ্র: চিঠির ওপরে ডানপাশে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর একটি সিল ও তারিখসহ স্বাক্ষর সম্বলিত সুপারিশ রয়েছে।)
