চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে অর্থনীতিবিদ মহলে চলছে ব্যাপক পর্যালোচনা। দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রস্তাবিত এই বাজেটকে দেশের ইতিহাসে ‘অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক চিন্তাশীল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বাজেটের নীতিগত দিকগুলো যেমন প্রশংসার দাবিদার বলে মনে করেন, তেমনি এর বাস্তবায়ন নিয়ে তীব্র শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, অর্থমন্ত্রী যে নীতি কাঠামো উপস্থাপন করেছেন তা অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সূক্ষ্ম। বাজেটের মূল পরিকল্পনায় অর্থনৈতিক স্থিতায়নের জন্য এক বছর, পুনরুদ্ধারের জন্য তিন বছর এবং পুনর্গঠনের জন্য আরও এক বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টির লক্ষ্যে বিনিয়ন্ত্রণ ও উদারীকরণের ওপর সরকার যে জোর দিয়েছে, তাকেও তিনি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। এছাড়া পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও যুব সমাজের উন্নয়নের লক্ষ্যে মানবিক অর্থনীতি গঠন এবং ডিজিটালাইজেশন ও ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করার বিষয়গুলোকে তিনি বাজেটের অন্যতম ইতিবাচক দিক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তবে তাত্ত্বিকভাবে বাজেটটিকে শক্তিশালী মনে হলেও, এর সফল বাস্তবায়ন নিয়ে বড় ধরনের সংশয় প্রকাশ করেছেন এই প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ। তার মতে, প্রস্তাবিত এই বাজেটের নীতি কাঠামোর তুলনায় দেশের বর্তমান আর্থিক ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল। বাজেট বাস্তবায়নের জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তার যে প্রাক্কলন করা হয়েছে, তাকে তিনি খুব একটা বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন না। বিশেষ করে বৈদেশিক ঋণের ওপর বিপুল নির্ভরতা ভবিষ্যতে আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। এছাড়া বাজেটে বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের ‘থোক বরাদ্দ’ রাখা হয়েছে, যা নিয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বড় ধরনের আর্থিক বিপত্তি দেখা দিলে এগুলো কাটছাঁট করা হতে পারে। শেষ বিচারে বাজেটটির সার্থকতা নির্ভর করছে সরকারের বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য পরিশেষে বলেন, এই সুন্দর বাজেটটিকে সরকার আগামী দিনে কীভাবে সংস্কারের পথে পরিচালিত করে এবং বাস্তবায়ন করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
