সোমবার,

০৮ জুন ২০২৬

|

জ্যৈষ্ঠ ২৫ ১৪৩৩

XFilesBd

কবি জুয়েল হাসানের কবিতা অশত্থ ও হাজার বছর

কবি জুয়েল হাসান

প্রকাশিত: ০২:৫২, ৮ জুন ২০২৬

কবি জুয়েল হাসানের কবিতা অশত্থ ও হাজার বছর

জুয়েল হাসানের কবিতা-অশত্থ ও হাজার বছর

অশ্বত্থ গাছটিকে দেখছি হাজার বছর ধরে
 নক্ষত্রের ছায়ার নিচে, অসংখ্য ডাল মেলে,
 বাতাসের স্নায়ু যেখানে বয়ে যায় অবিকল
তোমারই মতো, অথবা পুরুষ চিলের অনবরত
রৌদ্র-ডাক-মেখে জেগে থাকে কত শত বছর, পর! 
  
কিছুক্ষণ আগে এসেছিল লোকটা পথিকের বেশে
অশ্বত্থের নিচে বসেছিল কিছুক্ষণ, কিছুটা ইতস্তত
           তারপর শুনি লোকটি মরে আছে!  
           দেশ-বাড়ি গন্তব্য কেউ জানে না—
ওই দূর শিকলী নদী পেরিয়ে, আরও অনেক দূর হয়তো।
   
 চর্যার কবিরাও এসেছিল কয়দিন তারই পাদদেশে
 শিকড়ের বেদিতে প্রণামী ঠুকে গেয়েছিল সহস্র পদ,
      মাতঙ্গীনিরাও জেগেছিল উচ্ছল, সারারাত! 
  পঞ্চমীর সে রাতে লণ্ঠনের শত সারি পিদিমের মত
  দেবতার নৈবেদ্য হয়েছিল অনন্ত নক্ষত্রের নিচে,
আজ দেবতারা হয়ত মরেগেছে মৃত মানুষের ভীড়ে।

   এক দিন পালকীতে এসেছিল বধু ঐ মহীরুহের
                                                                ছাঁয়ায়
 কনক মুখশ্রি মেখে তাকিয়েছিল, বিস্ময় তার
                                                   চোখের তারায়,
 শঙ্খের মত সাদা হাতের গ্রীবায় ধরেছিল অশ্বত্থের
                                                          কঁচি ঝুড়ি
           বধুটি বলেছিল, শখা হবে অনন্তকাল?
অনিন্দ্য প্রেমের অচিন রাগে জেগেছিল সব পত্রকুল

   আজ চর্যার কবি নেই, পথিক ও বধুটিও নেই 
 তবুও আজও বৃক্ষটি বেঁচে আছে হাজার আলোক   
                                              বর্ষের ছায়াপথে! 
এখনও বিষণ্ণ মেঘ উড়ে যায় তার 'পর দিয়ে ঐ   
                                       দূর পাহাড়ের দেশে।