অনূদিত হয়েছিল জাতি
সিংহ সেদিন অনূদিত বাঙালিতে।
বাঙালি সেদিন অনূদিত শক্তিতে।
চন্দ্রসূর্য দুই চক্ষুতে জ্বলে।
পৃষ্ঠে, মেঘেরা বজ্র করে ধারণ;
যক্ষ ও যম দুই গালে স্ফীত;
বীরের বীর্যে সিংহ- যুবকগণ।
তৃতীয় চক্ষু দীঘল ললাটে জ্বলে;
খড়্গ চক্র ধনুক লগুড় হাতে।
পরনে লুঙ্গি, নগ্ন শরীরে নীল;
নীলকান্ত মণি জ্বলে ওঠে তাতে।
আকাশ সহসা রঙ বদলায়;
আকাশ সহসা রূপ বদলায়;
আকাশ সহসা মেঘ হয়ে যায়;
আকাশ সহসা বৃষ হয়ে যায়-
কত কী যে হয়!
কত কী যে হয়!
হে মানুষ! তুমি ক্রুদ্ধ হও, শুদ্ধ হও;
তেজের দীপ্তি সকল অঙ্গে মাখিয়া লও;
সুর-শক্তিতে হস্তপদাদি ঢাকিয়া লও।
ডাকো সমুদ্র ঊর্মিমালাকে, দেবে সে অলংকার;
হিমালয়ে যাও দেবে সে শৃঙ্গ প্রবল অহংকার।
ক্রন্দন ছাড়ো, হা-হুতাস ছাড়ো!
ধনু হাতে ধরো - দাও তাতে টঙ্কার।
অট্টহাস্যে উচ্চারো হুঙ্কার! ঝঙ্কারো ওঙ্কার!
বাংলার জয়, বাঙালির জয় বলো;
বাঙালি হয়েছে যুদ্ধ বিজয়ী- বলো;
নতুন যুদ্ধে চলো।
নিঃশ্বাস ছাড়ো আগুন সমান;
নিঃশ্বাস হোক বারুদ কামান;
অসুর সৈন্য শতধাছিন্ন ছত্রভঙ্গ হবে!
সিংহের সাথে যুদ্ধে অসুর মৃত্যুর স্বাদ পাবে।
আমার এ-মন আকস্মিকতাভরা;
আমার এ-মন রহস্যময়তাভরা;
সংশয় দোলা আমারই এ-মনে;
নতুন সাহসদীপ্ত শক্তি আমারই অবচেতনে।
আমি দোদুল্য; আমি প্রফুল্ল; আমিই শক্তি;
আমি পরাজয় আমি সংশয় আমি অভক্তি।
দেব-জ্যোতি আমি, সংহার আমি, আমি উদ্ধার;
সিংহের তেজে আমি মহিষাসুর, বৃষ-সংহার।
আমি ধনাত্মক আমি ঋণাত্মক আমি সংযোগ,
আমিই ছিন্ন, আমিই ভিন্ন, আমি যোগাযোগ।
মানুষের সাথে আমি যোগাযোগ, মানবতন্ত্রী;
আমি সহিংস আমি অহিংস গান্ধীপন্থী;
বিবর্তনের পথে পথে আমি দ্রুত ধাবমান;
মানুষ আমি যে মানবতাবাদী চির অম্লান;
চির অম্লান চির অম্লান চির অম্লান।
(মোস্তফা তোফায়েল হোসেন বিখ্যাত লেখক কবি ও ইতিহাসবিদ)
