কথাসাহিত্যিক ডা. মোহিত কামালের ৬৭তম জন্মদিন উপলক্ষে শিল্প ও সাহিত্য বিষয়ক মাসিক ধানমন্ডি আড্ডা গত ৫ জানুয়ারি আয়োজন করে মাঙ্গলিক আনুষ্ঠানিকতা। আয়োজিত অনুষ্ঠানটি লেখক, শিল্পী ও সাহিত্যিকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিপুলসংখ্যক শিল্প–সাহিত্যিকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি তারার মেলায় রূপ নেয়। শতাধিক কবি ও সাহিত্যিকের অংশগ্রহণে ধানমন্ডি আড্ডার সাধারণ সম্পাদক নূর কামরুন নাহারের সঞ্চালনায় আনন্দ যাত্রার সূচনা। অতপর জনে জনে বহুজনে লেখককের নানান আলেখ্য তুলে ধরেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক মোহিত কামালের সাহিত্যকর্ম, তাঁর সৃজনশীল ভাবনা এবং ব্যক্তিজীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্টরা।

মোহিত কামালের কথাসাহিত্যে মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা, মানবজীবনের সূক্ষ্ম অনুভব এবং সমাজবাস্তবতার আন্তরিক উপস্থাপনার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে একজন চিকিৎসক ও সাহিত্যিক হিসেবে তাঁর দ্বৈত পরিচয়ের প্রভাব তাঁর লেখায় কীভাবে স্বাতন্ত্র্য সৃষ্টি করেছে, তা নিয়েও বক্তব্য রাখেন বক্তারা। আনন্দ আড্ডার পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল স্মৃতিচারণ, সাহিত্য আলোচনা ও প্রাণবন্ত আবহ। জন্মদিনের এই আয়োজনে মোহিত কামালকে ঘিরে সহকর্মী ও অনুজ-জ্যেষ্ঠ সাহিত্যিকদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে করে তোলে আন্তরিক ও উৎসবমুখর। সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এটি ছিল এক স্মরণীয় সন্ধ্যা, যেখানে সম্মানিত সাহিত্যিকের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে নানাভাবে।

অনুষ্ঠান শুরু হয় তরুণ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী নাদিব রহমান অর্কর সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে। এরপরই শুভেচ্ছা জানান উপস্থিত বিশিষ্ট লেখক, প্রকাশক, কবি, কথাসাহিত্যিক , স্বজন বন্ধু এবং পাঠকবৃন্দ। ফুলের শুভেচ্ছা পাশাপাশি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক মোহিত কামালের সাহিত্যকর্ম এবং জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোকপাত করেন অতিথিরা। পাঠ করা হয় তার সংক্ষিপ্ত জীবনী। শীতার্ত রাতেও অনুষ্ঠান জুড়েই ছিলো এক উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশ। ছিলো গরম চায়ের সাথে গরম পিঠার উষ্ণতাও।

অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— ফরিদুর রহমান, ইসহাক খান, ঝর্না রহমান, রোকেয়া ইসলাম, মনি হায়দার মুজতবা আহমেদ মুর্শেদ কাজী রাফি, আনিস রহমান শাহীন,শিহাব শহিদুল,জায়েদ ফরিদ,আইয়ুব মোহাম্মদ খান। কবিদের মধ্যে ছিলেন নাসির আহমেদ, রেজাউদ্দীন স্ট্যালিন, মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, শাহ সানাউল হক শাকিব লোহানী, তপন বাগচী ওবায়েদ আকাশ, সৈকত হাবিব, দন্ত্যস রওশন, হাসিদা মুন ফারহান ইশরাক, সামসুল বারী উৎপল,মাহবুবা ফারুক, কবিতা কস্তা রেবা হাবিব, মারুফা জাহান মুক্তি, , মামুন তালুকদার, নিগার সুলতানা, মনি নাসিমা। শিশু সাহিত্যিকদের মধ্যে ছিলেন সুজন বড়ুয়া, রমজান মাহমুদ, তাহমিনা কোরাইশি, শ্যামলী খান।

প্রাবন্ধিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গোলাম মোস্তফা, আবদুল মান্নান সরকার, আশফাকুজ্জামান ,মঈনউদ্দিন মুন্সি, আবু সাঈদ সুরুজ প্রমূখ। প্রকাশকদের মধ্যে ছিলেন ফরিদ আহমেদ , লিটু খান, ইসফানদিওর আরিয়ন, রহমানুর নবী প্রিয়, প্রমুখ। সমাজসেবক মুশতারী বেগম ও আবদুল হালিম খান, হেনা সুলতানা, প্রমূখ। শব্দঘর থেকে উপস্থিত ছিলেন জনাব কুয়াত ইল ইসলাম , সঞ্জয় ঘোষ, হিমন গাইন, তৌহিদ।

এছাড়াও উপস্থি ছিলেন মোহিত কামালের জীবনসঙ্গী শব্দঘরের প্রকাশক, অধ্যাপক মাহফুজা আক্তার। অনুষ্ঠানে তিনি শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে আরো সঙ্গীত পরিবেশন করেন তরুণ শিল্পী জাহিদ নূর এবং বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী অশ্রু বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন এবং নৈশভোজের মধ্যদিয়ে উপস্থিত কবি সাহিত্যিকদেরআপ্যায়ন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মোহিত কামাল এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন নূর কামরুন নাহার । এক সুন্দর অনন্য সন্ধ্যার আমেজ নিয়ে যখন অতিথিরা ফিরে যাচ্ছেন তখন ঘড়ির কাটা স্পর্শ করেছে রাত দশটায়।

উল্লেখ্য, মোহিত কামাল একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি সমকালীন বাংলা সাহিত্যে তাঁর স্বতন্ত্র ভাষা, গভীর মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং মানবজীবনের জটিল অনুভূতির সূক্ষ্ম উপস্থাপনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। সংক্ষেপে তাঁকে এভাবে তুলে ধরা যায়—
-
পেশা: মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)
-
পরিচিতি: কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক
-
সাহিত্যধারা: গল্প ও উপন্যাস
-
লেখার বৈশিষ্ট্য:
-
মানুষের মনস্তত্ত্বের গভীর অনুধ্যান
-
নাগরিক জীবনের সংকট, একাকিত্ব ও সম্পর্কের টানাপোড়েন
-
সংযত অথচ তীক্ষ্ণ ভাষাশৈলী
-
-
সম্মাননা: বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত
চিকিৎসক হিসেবে মানুষের মানসিক জগৎকে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। ফলে তাঁর গল্প ও উপন্যাসে চরিত্রগুলো কেবল সামাজিক নয়, বরং মানসিক দ্বন্দ্ব ও অন্তর্গত সংকটে জীবন্ত হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে তিনি একজন চিন্তাশীল, সংবেদনশীল এবং গভীরভাবে পাঠযোগ্য লেখক হিসেবে সমাদৃত।

